১৮ বছর নির্যাতনের পর অস্থিরতা স্বাভাবিক, ধৈর্য ধরুন: শামসুজ্জামান দুদু

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম ও নির্যাতনের কারণে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা থাকতেই পারে, তবে সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের উদ্যোগে অসুস্থ তিন প্রবীণ নেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবং জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহতদের আরোগ্য কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আমাদের তিনজন প্রবীণ জননেতা মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান ও ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অসুস্থ ও চিকিৎসাধীন।

তাঁদের সুস্থতা কামনায় এ আয়োজন করায় আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই। তিনি বলেন, বিএনপির ছোট-বড় নেতা-কর্মীরা ১৮ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

শুধু নেতা-কর্মীরাই নন, তাঁদের পরিবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাঁদের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল, শেখ হাসিনার আমলে তাঁরা সেই সুযোগ পাননি। এ কারণে একধরনের অস্থিরতা থাকতেই পারে। তবে নেতা-কর্মীদের ধৈর্য ধরতে হবে।

দুদু বলেন, শেখ হাসিনার আমলে যাঁরা অন্যায়ের শিকার হয়েছেন, বর্তমান সরকার তাঁদের বিষয়ে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শহীদ জিয়া এবং বেগম খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকার। তাঁর মধ্যে কোনো প্রতিহিংসা নেই। অথচ এই পরিবারই সবচেয়ে বেশি প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে।

ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি সেই নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। একইভাবে ১৮ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের পর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর আসনে বসেছেন।

কৃষক দলের সাবেক এই আহ্বায়ক বলেন, অনেকে অনেক ধরনের জনপ্রিয়তার দাবি করেন। আমি কাউকে ছোট করছি না। কিন্তু দেশবাসী গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান শক্তি হিসেবে বিএনপিকেই গ্রহণ করেছে। কারণ, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা বিএনপিকেই ভোট দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক-এগারোর নির্যাতনে তারেক রহমান নিহতও হতে পারতেন, তবে আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করেছেন। আর বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে, এমনকি চিকিৎসাও দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ এমন একটি হিংস্র নেতৃত্বের অধীনে ছিল। সেই বাংলাদেশকে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে রূপান্তরিত করতে হবে।

সরকারকে দক্ষতা ও ধৈর্যের সঙ্গে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দুদু বলেন, একটি মহল বিভিন্ন স্থানের ছোটখাটো ঘটনাকে বড় ঘটনায় রূপ দিতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, আমাদের নেতা মির্জা আব্বাস চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে রয়েছেন। নজরুল ইসলাম খান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন প্রবীণ নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। তাঁদের লক্ষ্য ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা তাঁদের প্রতি সম্মান জানাব, আল্লাহর কাছে দোয়া করব। কারণ, তাঁরা তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য এবং গণতন্ত্রের জন্য।

তিনি বলেন, আজকের দোয়া অনুষ্ঠানে সবাই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবেন, যেন এই তিন নেতা দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার মানুষের সেবায় ও দলের কর্মকাণ্ডে ফিরে আসতে পারেন।

জাতীয়তাবাদী কর্মজীবী দলের সভাপতি সালাউদ্দিন খান পিপিএমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন সরদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, কৃষক দলের সাবেক দপ্তর সম্পাদক এস কে সাদি, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কেএম রকিবুল ইসলাম রিপনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই