গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সরকার: নাহিদ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:১২ | অনলাইন সংস্করণ

  আমার বার্তা অনলাইন:

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

জুলাই সনদ কার্যকরের কথা মুখে মুখে বলে সরকার মৌখিক প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের সুফল সকলের কাছে পৌঁছে দিতে হলে রাষ্ট্র সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। গণভোট হয়েছিল আবু সাঈদদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করতে এবং সুফলটা যেন জনগণ পায়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকার সেই রায়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে। তারা গণভোটের রায় কার্যকর করছে না। জুলাই সনদ তারা মুখে মুখে কার্যকর করবে বলছে, এটা তাদের মৌখিক প্রতারণা। তারা তাদের ৩১ দফার সাথেও প্রতারণা করেছে। বলেছিল সংবিধান সংস্কার কমিশন করবে, সেটিও তারা করেনি। আমরা আশা করবো গণভোটের যে গণরায় সেই রায়ের আলোকে রাষ্ট্র সংস্কার হবে। দুর্নীতি বৈষম্য দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।

জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে রংপুরের পীরগঞ্জে বাবনপুর গ্রামে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

‘সরকারি ও বিরোধী দল মিলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে’- মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর এই বক্তব্য প্রসঙ্গে  নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের কাছেই এটার জবাব চাওয়া উচিত। সরকার যদি সত্যিকার অর্থে ইতিবাচকভাবে সংস্কার করতে চায়, আমরা সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করব, সহযোগিতা করেও এসেছি। সংস্কার, বিচার, ফ্যাসিবাদের বিলুপ্তি, স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিসহ যে কোনো বিষয়ে বিরোধী দল হিসেবে নয়, আমরা জনগণ ও রাষ্ট্রের পক্ষে এককাতারে দাঁড়াতে প্রস্তুত। কিন্তু সরকারের আচরণে সেই রকম কোনো আলামত আমরা দেখছি না। জুলাই সনদ গণভোটের রায়ের আলোকেই বাস্তবায়ন করতে হবে। নোট অব ডিসেন্ট বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করলে আমাদের কোনো সহযোগিতা থাকবে না।  

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আবু সাঈদ আমাদের শহীদদের ঈমাম। জুলাই বিপ্লবের রুহানী নেতৃত্ব। আবু সাঈদ আমাদের সকলের পূর্বসূরি। মুক্তির মন্দির সোপানতলে যে হাজারো প্রাণ হলো বলিদান, তার অগ্রসেনানী ছিলেন আবু সাঈদ। আমরা তার শাহাদাতবরণকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, তার জন্য দোয়া করছি। এই দিবসে শুধু আবু সাঈদকে নয়, তার পাশাপাশি শহীদ মুগ্ধ, ওয়াসিম, ফারহান ফাইয়াজ, নাঈমা সুলতানা, হৃদয় চন্দ্রসহ ১৪০০ শহীদ এবং ৩০ হাজার আহত যোদ্ধাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। আবু সাঈদের এই সাহসিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে যে সকল শ্রমিক, পেশাজীবী, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, নারী সমাজ, আলেম সমাজ, প্রবাসী ভাই-বোন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার সকল শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের যেসকল মানুষ আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সকলকে আমরা স্মরণ করছি।

সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আবু সাঈদরা যে কারণে শহীদ হয়েছিল, আমরা তাদের উত্তরসূরি। আমাদের দায়িত্ব বৈষম্যমুক্ত ইনসাফের নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাওয়া। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরে আমাদের তিনটি দাবি ছিল- বিচার, সংস্কার এবং নির্বাচন। আমরা দেখেছি নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু বিচার ও সংস্কার বাংলাদেশের জনগণ এখনো পায়নি। আবু সাঈদের হত্যা মামলার রায় হয়েছে কিন্তু সেটি এখনো কার্যকর হয়নি। সেই মামলার রায় নিয়ে আপিল করা হয়েছে, চিফ প্রসিকিউটর, সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব সেই মামলায় আপিল শুনানি ৬০ দিনের শেষ করা। কিন্তু আমরা আজ পর্যন্ত কোনো আপডেট পাইনি। আমাদের আহ্বান দ্রুত এই আপিল শুনানি সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা হোক।  

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় দ্রুত কার্যকরার দাবি জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে আবু সাঈদ হত্যার রায় কার্যকর করার পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে, তার অপরাধেরও বিচার করা হোক। আমরা চাই সকল হত্যা মামলার বিচার ও রায় কার্যকর করে যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিপ্লবের ভিকটিম রয়েছে তারা ন্যায়বিচার পাক।

তিনি বলেন, ১৬ জুলাই শহীদ দিবস হিসেবে সারাদেশে গতবছর থেকে পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক হিসেবে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ তৎকালীন স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের দমননীতির বিরুদ্ধে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়েছিলেন। বুকে বুলেট নিয়ে শাহাদাতবরণ করেছেন। তার শাহাদাতবরণের মধ্য দিয়ে আমাদের গণআন্দোলন থেকে গণঅভ্যুত্থান এবং বিপ্লবের দিকে যাত্রা ঘটেছিল।

এর আগে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করেন নাহিদ ইসলাম। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, মা মনোয়ারা বেগম ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করে খোঁজ খবর নেন।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ এমপি, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা দিনা, জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জাহিদ আহসান, সদস্য সচিব ফরহাদ সোহেল, রংপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক মো. আল মামুন, সদস্য সচিব আবু রেজা মো. আব্দুল্লাহসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আমার বার্তা/এমই