গাজী নজরুলকে বহিষ্কার: স্পিকার ও ইসিতে চিঠি দেবে জামায়াত
প্রকাশ : ২৩ জুলাই ২০২৬, ১৩:৫০ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

দলীয় তদন্তে ‘নৈতিক স্খলন’ প্রমাণিত হওয়ায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। তাঁর সংসদীয় পদ বাতিলের জন্য জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও নির্বাচন কমিশনে (ইসি) চিঠি দেবে দলটি।
আজ বৃহস্পতিবার ( ২৩ জুলাই) এ তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, চিঠি তৈরি করা হচ্ছে। তাঁকে (গাজী নজরুল ইসলাম) বহিষ্কারের বিষয়টি আজই স্পিকারের কার্যালয়ে ও নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করব।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় বুধবার (২২ জুলাই) গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। দল থেকে বহিষ্কারের পরে তাঁর সংসদ সদস্যের পদের কী হবে তা নিয়ে চলছে নানান আলোচনা।
সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগ ও সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। দল বহিষ্কার করলে বাতিল হবে —এমনটা বলা নেই। এর আগে দশম সংসদে বর্তমান কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার করেছিল। পরে তাঁর সংসদ সদস্যপদ বাতিল করতে তৎকালীন স্পিকারকে চিঠি দিয়েছিল দলটি। স্পিকার বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য ইসিতে চিঠি দিয়েছিলেন। পরে ইসি তাঁকে শুনানিতে ডাকলে তাঁর বিরুদ্ধে রিট করেন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তবে রিট খারিজ করে আদালত। এরপর শুনানির আগেই আত্মপক্ষ সমর্থন করে পদত্যাগ করেন তিনি।
বাংলাদেশের বিগত সংসদগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দল থেকে বহিষ্কার হওয়ার কারণে কারও সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। অষ্টম জাতীয় সংসদের এমপি আবু হেনাকে বিএনপি দল থেকে বহিষ্কার করলেও সংসদের বাকি মেয়াদ স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
জানা গেছে, ওই সময় ওই সংসদ সদস্যের পদ শূন্য ঘোষণা করতে বিএনপির তরফ থেকে স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকারের দ্বারস্থ হলে স্পিকারের তরফ থেকে ব্যাখ্যা করা হয় যে, দলের বিরুদ্ধে কথা বলার অথবা সমালোচনার ব্যাপারে অনুচ্ছেদ ৭০ কোনো সমস্যা নয়। সংসদের ভেতরে এবং বাইরে দলের সমালোচনা করুক কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু সংসদে ভোটাভুটির প্রশ্ন থাকলে তাঁকে দলের পক্ষে ভোট দিতে হবে। দলের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তবেই সদস্যপদ যাবে। ওই সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেননি অথবা দলের বিরুদ্ধে ভোটও দেননি। তাই তাঁর সদস্যপদ খারিজ হওয়ার সুযোগ নেই।
এদিকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এইচ এম গোলাম রেজাকে তাঁর দল জাতীয় পার্টি বহিষ্কার করলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল ছিল। তিনি জাতীয় পার্টির এমপি হিসেবেই তখন সংসদে বহাল ছিলেন।
অপরদিকে ভিন্ন কারণে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়েছিল হাসিবুর রহমান স্বপনের। সপ্তম জাতীয় সংসদের বিএনপি দলীয় এমপি হাসিবুর রহমান স্বপন ১৯৯৮ সালে বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। দল ত্যাগের কারণে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের দায়ে তখন তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়েছিল।
তবে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হলে তাঁকে হয় কোনো দলের মনোনীত প্রার্থী হতে হয় অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়। দলীয় প্রার্থীরা সংসদে দলীয় সংসদ সদস্য হিসেবে বিবেচিত হন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা-অযোগ্যতার কথা বলা আছে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে এবং জাতীয় নির্বাচন সংক্রান্ত আইন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও)। এখানে যেসব অযোগ্যতার কথা বলা আছে, নির্বাচিত হওয়ার পরও কারও সে অযোগ্যতা তৈরি হলে তিনি পদ হারাতে পারেন।
এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইমরান সিদ্দিক বলেন, আরপিও এর ১২ অনুচ্ছেদের (খ) দফায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী না হলে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী না হলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন। যেহেতু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই যুক্তি দেওয়া যেতে পারে যে, তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন আর বহাল রাখেননি। ফলে তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছেন এবং সে কারণে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হয়েছে বলে বিবেচিত হতে পারে। তবে এ বিষয়ে কোনো বিরোধ বা আইনগত প্রশ্ন দেখা দিলে, সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তির ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) রয়েছে।
