ইস্তেখারা সালাতের হুকুম ও নিয়ম
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ
মানজুম উমায়ের

ইস্তিখারার সালাত হলো যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে আল্লাহর কাছে কল্যাণ ও সঠিক নির্দেশনা পাওয়ার জন্য দুই রাকাত নফল সালাত।
ইস্তিখারা সালাত আদায়ের নিয়ম :
অজু : প্রথমে ভালোভাবে অজু করতে হবে। কারণ, অজু ছাড়া কোনো সালাতই আদায় হবে না। সালাতের জন্য অজু শর্ত।
নিয়ত: ইস্তিখারার নিয়তে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায়ের নিয়ত করতে হবে। এটি সাধারণ নফল সালাতের মতোই পড়তে হয়।
দোয়া পাঠ : সালাত শেষ করে সালাম ফিরিয়ে দুই হাত তুলে বিনয়ের সাথে আল্লাহর হামদ (প্রশংসা) ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করুন। এরপর হাদিসে বর্ণিত নির্দিষ্ট ইস্তিখারার দোয়াটি পাঠ করুন।
সহিহ বুখারি ও তিরমিজি শরিফে ইস্তিখারার একটি বিশেষ দোয়া বর্ণিত আছে, যা ইস্তিখারার নামাজের পর দোয়ায় পড়তে হয়। দোয়াটি হল—
বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আসতাখীরুকা বি‘ইলমিকা, ওয়া আসতাক্বদিরুকা বিক্বুদরাতিকা, ওয়া আসআলুকা মিন ফাদলিকাল ‘আজীম। ফাইন্নাকা তাক্বদিরু ওয়া লা আক্বদিরু, ওয়া তা‘লামু ওয়া লা আ‘লামু, ওয়া আনতা ‘আল্লা-মুল গুইূব। আল্লা-হুম্মা ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা খায়রুল লী ফী দীনি ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাক্বদুরহু লী ওয়া ইয়াসসিরহু লী, থুম্মা বা-রিক লী ফীহি। ওয়া ইন কুনতা তা‘লামু আন্না হা-যাল আমরা শাররুনলী ফী দীনী ওয়া মা‘আ-শী ওয়া ‘আ-ক্বিবাতি আমরী ফাসরিফহু ‘অন্নী ওয়াসরিফনী ‘আনহু, ওয়াক্বদুর লিয়াল-খায়রা হায়ছু কা-না থুম্মা রদ্দিনী বিহ।
বাংলা অর্থ : হে আল্লাহ, আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার কাছে কল্যাণ কামনা করছি এবং আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে শক্তি ও সামর্থ্য প্রার্থনা করছি। আমি আপনার মহান অনুগ্রহের কাছে প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আপনি সবকিছু করতে সক্ষম, আমি সক্ষম নই। আপনি সবকিছু জানেন, আমি জানি না। আর আপনি অদৃশ্য সব বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞানী।
কখন পড়বেন না : সূর্যোদয়ের সময়, ঠিক দ্বিপ্রহরের সময় এবং সূর্যাস্তের সময় নামাজ পড়া নিষিদ্ধ। এই সময়গুলো বাদ দিয়ে দিনের বা রাতের যেকোনো সময়ে এটি পড়া যায়।
ইস্তেখারা করা সুন্নাত। প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গুরুত্বসহকারে ইস্তেখারা করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। হাদিসে এসেছে-
হজরত জাবের ইবনু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের যেভাবে কুরআনের সুরা শেখাতেন; ঠিক সেভাবে (গুরুত্বের সঙ্গে) প্রতিটি কাজের আগে আমাদের ইস্তেখারা (কল্যাণ প্রার্থনা) করার শিক্ষা দিতেন।
শায়খুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তায়মিয়া রাহমাতুল্লাহি আলাইহি ইস্তেখারা সম্পর্কে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি অনুতপ্ত হবে না; যে আল্লাহর কাছে ইস্তেখারা বা কল্যাণ কামনা করে, মানুষের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেয় এবং তার উপর অটল-অবিচল থাকে।; কেননা আল্লাহ তাআলা পরামর্শের আলোকে কাজ করার কথা বলেছেন এভাবে-
‘আর তুমি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে পরামর্শ কর। এরপর আল্লাহর উপর ভরসা করে (সিদ্ধান্তে অটল থাক)। নিশ্চয়ই আল্লাহ (তার ওপর) ভরসাকারীদেরকে ভালোবাসেন।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৫৯)
