ওএসডি হয়েও দায়িত্বে সক্রিয় ক্ষমতাধর মাসুদুল ইসলাম

প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬, ১০:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

  মোস্তফা সারোয়ার:

১৪ মে ওএসডি করা হয় রাষ্ট্রায়ত্ব তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা অয়েলের ক্ষমতাধর কর্মকর্তা মো: মাসুদুল ইসলামকে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে একসাথেই মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক, কোম্পানি সচিব, জিএম মার্কেটিং, বিটুমিন সরবরাহ ও অর্থ বিনিয়োগ কমিটির আহবায়ক ছাড়াও চেম্বার বন্টনের দায়িত্বে ছিলেন । একসাথে ছয়টি পদের দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তার বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির  অভিযোগ নিয়ে একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক আমার বার্তা।  তারই ধারাবাহিকতায় ২৩ এপ্রিল তাকে প্রথমত  জিএম মার্কেটিং পদ থেকে প্রত্যাহার, সর্বশেষ বিপিসি  ওএসডির  আদেশ দেন । তাকে  সংযুক্ত করা হয়  ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে। 

এদিকে ওএসডি হয়েও  তিনি এখন পর্যন্ত পূর্বের দায়িত্বপ্রাপ্ত কার্যালয় ও কক্ষ ত্যাগ করেননি।  অভিযোগ উঠেছে তিনি অদ্যবধি পূর্বের ন্যায় নিজ কক্ষে অবস্থান করে বিভিন্ন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছেন। মুলত জিএম মার্কেটিং বিভাগের চেম্বারে বসেই তিনি সকল কাজের তদারকি করছে, অথচ প্রায় মাসেক আগেই তাকে এই পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

এছাড়াও তার ব্যবহৃত কক্ষের নেমপ্লেটগুলো এখনও অপসারণ বা পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে,পাশাপাশি  প্রশাসনিক আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও   উঠেছে নানা প্রশ্ন । এদিকে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, ওএসডি আদেশের পরও তিনি বিভিন্ন প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। এ নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়া তিনি বোর্ড চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পরিচালকের মাধ্যমে পুনরায় পদে বহাল থাকার জন্য তদবির শুরু করেছেন। 

অন্যদিকে, বিটুমিন সরবরাহের অনিয়মের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে  ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে । কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ইউসুফ হোসেন ভূঁইয়া। সদস্য হিসেবে আছেন নজরুল ইসলাম (ম্যানেজার, এইচআর) এবং নজরুল ইসলাম (ম্যানেজার, অডিট)। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কমিটিকে অভিযোগের বিষয়সমূহ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, প্রশাসনিক আদেশ দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটিতে আভ্যন্তরীন  জটিলতা আরও বাড়তে পারে। এ বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন যমুনা অয়েলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।


আমার বার্তা/এমই