ইসকনের মালিক রায়হানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণ
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৬ | অনলাইন সংস্করণ
এ আর মোল্লা:

★ ভবন নির্মাণ করতে হলে রাজউকে ১৫ (পনেরো) দিন আগে লিখিতভাবে জানাতে হবে ও রাজউক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কাজ শুরু করার নিয়ম থাকলেও তা অমান্য করেছেন রায়হান।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ একটি অঞ্চল। মধুপুর ফল্ট, ডাউকি ফল্ট ও পাহাড়ি অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ ফাটলের কারণে ৭ থেকে ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। অপরিকল্পিত নগরায়ন ও নরম মাটির কারণে ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির মাত্রার ভয়াবহতার কথা মাথায় রেখে রাজউক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিতকরণ ও ব্যবস্থা গ্রহণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় ইসকন প্রপার্টিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রায়হানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণে একালাবাসীর ভেতর জন্ম নিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও আতংক।
খিলগাঁও তিলপাপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা রবিউল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, ইসকন প্রপার্টিস লিমিটেডের মালিক আব্দুল জব্বার রায়হান বর্তমান সরকারের কিছু নেতার ছত্রছায়ায় প্রভাব খাটিয়ে একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এলাকাবাসী বিভিন্ন সময় এ ধরনের অপকর্ম না করার অনুরোধ করলে তাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন রায়হান। সরেজমিনে খিলগাঁও তিলপাপাড়া ৬ নং রোডে রায়হানের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটিতে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির ৯ তলার কাজ চলমান। ভবনটির চতুর্দিকে ভয়াবহ ডেভিয়েশন করা হয়েছে। এমনকি কোনরূপ ভয়েড রাখা হয়নি। এছাড়া জায়গার পরিমাণ কতটুকু ও কি পরিমাণ ভূমি ব্যবহারের অনুমতি আছে? নকশা অনুযায়ী প্রতি তলায় কত বর্গফুটের অনুমতি আছে? নিয়ম অনুযায়ী তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড না থাকায় এসব বিষয়ে জানা যায়নি।
এছাড়া খিলগাঁও তিলপাপাড়া ৩ নং রোডে রায়হানের অন্য একটি ভবনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির ২য় তলার কাজ চলমান। এটিরও চারপাশে ভয়াবহ ডেভিয়েশন ও কোনরূপ ভয়েড রাখা হয়নি। নেই পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড। অর্থাৎ আগের ভবনটির মতোই এটিও নকশার তোয়াক্কা না করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন রায়হান। সূত্রে জানা যায়, ভবন দুটিতে অধিক লাভের আশায় নকশার নিয়ম অমান্য করে প্রতি তলায় অনেক বেশি বর্গফুট বাড়ানো হয়েছে ও ব্যবহার করা হয়েছে নিন্মমানের নির্মাণসামগ্রী। রাজউক সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী কোন ভবন নির্মাণ করতে হলে ১৫ (পনেরো) দিন আগে রাজউকে লিখিতভাবে জানাতে হবে ও রাজউক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। কিন্তু রায়হান রাজউকের সকল নিয়ম অমান্য করে প্রভাব খাটিয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
নগর পরিকল্পনাবিদ আজিজুল হকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ ধরনের ডেভিয়েশন ও নকশার নিয়ম না মেনে ভবন নির্মাণ নগরবাসীকে একসময় চরম মূল্য দিতে হবে। তাই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। আব্দুল জব্বার রায়হানের নির্মাণাধীন ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দুটির বিষয়ে জানতে তার মোবাইলে ফোন করলে তিনি অফিসে এসে স্বাক্ষাতে কথা বলতে চান। পরবর্তীতে তিনি অফিসে এসে বলেন, রাজধানীতে এ ধরনের ভবন আরও অনেক রয়েছে। আপনি আমার ভবনে আসছেন কেন? আপনি আমাকে ভাই হিসেবে দেখে নিউজটি করবেন না বলে অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে কথা বলার মাঝে আমার বার্তার একটি পত্রিকার নিচে একটি খাম ঢুকিয়ে দেন। প্রতিবেদক খামটি খুলে দেখতে চাইলে তিনি জোর গলায় অনুরোধ করে বলেন, আমি যাবার পরে দেখবেন। রায়হান চলে যাবার পরে খামটি খুলে টাকা দেখতে পেয়ে প্রতিবেদক খামটি অফিসের জিম্মায় রেখে দেন। পরবর্তীতে রায়হানকে আবারও ফোন করে খামটি নিয়ে যেতে বললে, তিনি একজন মন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বলেন, আপনার সম্পাদকের নাম্বার দেন। মন্ত্রী আপনার সম্পাদককে ফোন করবে বলে প্রতিবেদককে ধমক দেন। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দুটির ব্যাপারে রাজউকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইয়াসিনের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ভবন দুটির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে। ভবন দুটির বিষয়ে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় চিঠি দেয়ার প্রস্তুতি চলছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেলে রায়হানের অপকর্মের বিষয়ে আরও বিস্তারিত আমার বার্তার পাঠকগণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
আমার বার্তা/এমই
