ইয়ামালকে সমর্থন দিয়ে একসঙ্গে লড়াইয়ের ঘোষণা ভিনিসিয়ুসের
প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ | অনলাইন সংস্করণ
আমার বার্তা অনলাইন:

বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার অবস্থান নিয়ে আসছেন রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বিতর্ক থাকলেও অবশ্য তিনি নিজেই বেশিরভাগ ঘটনায় বর্ণবাদের শিকার। এক্ষেত্রে রিয়াল, স্পেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা এবং ব্রাজিলের সমর্থন পেয়ে আসছেন ভিনি। এবার তিনি নিজে সমর্থন দিলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার স্প্যানিশ তারকা লামিনে ইয়ামালকে। তার সঙ্গে মিলে যেকোনো বর্ণবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ভিনি লড়াইয়ের প্রত্যাশাও জানিয়েছেন।
কিছুদিন আগে এস্পানিওলের মাঠে প্রীতি ম্যাচ খেলেছিল স্পেন ও মিসর। যেখানে ম্যাচের মাঝে স্বাভাবিকভাবেই মিশরীয় ফুটবলারদের আচরণে ধর্মীয় ভাবভঙ্গি প্রকাশ পায়। ম্যাচটিতে কেউ গোল করতে পারছিল না, শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় সেই দ্বৈরথ। সে কারণেই কি না প্রতিপক্ষ ফুটবলারদের লক্ষ্যে মুসলিম-বিদ্বেষী স্লোগান তোলে স্প্যানিশ সমর্থকদের একটি অংশ! যা মানতে পারেননি লামিনেই ইয়ামাল। স্বদেশি সমর্থকদের তিনি তীব্র সমালোচনা করেছেন।
যা নিয়ে স্পেনের শীর্ষ ফুটবল সংস্থাও নিন্দা জানিয়েছে। পরবর্তীতে ইয়ামাল সোশাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান জানিয়ে লেখেন, ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে একটি স্লোগান শোনা যাচ্ছিল– “যে লাফাবে না, সে-ই মুসলিম।” আমি জানি এটি প্রতিপক্ষ দলকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল এবং আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কিছু ছিল না, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি তবুও অসম্মানজনক এবং অসহনীয়। জানি সব সমর্থক একরকম নয়, কিন্তু যারা এ ধরনের স্লোগান দেয় তাদের বলছি, মাঠের ভেতর ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞ ও বর্ণবাদী হিসেবেই তুলে ধরে। ফুটবল উপভোগ করা এবং দলকে উৎসাহিত করার মাধ্যম, কাউকে তার পরিচয় বা বিশ্বাসের জন্য অসম্মান করার জন্য নয়।’
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে মুখোমুখি হবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসে বর্ণবাদ ও ইয়ামালের প্রসঙ্গে রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস বলেন, ‘এ বিষয়টা এত বেশি ঘটে যে এটি নিয়ে কথা বলাটা সবসময়ই কষ্টদায়ক। আশা করি আমরা এই লড়াই অব্যাহত রাখব। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে লামিনে এটি নিয়ে কথা বলেছে। যা অন্যদেরও সহায়তা করবে। আমাদের খ্যাতি ও টাকা আছে, ফলে এসব বিষয়ে আমরা ভারসাম্য করতে পারি। কিন্তু যারা দরিদ্র এবং সবখানেই কৃষ্ণাঙ্গ আছে, আমাদের চেয়ে নিশ্চিতভাবে তাদের সংগ্রামটা অনেক বেশি। তাই আমাদের এক হতে হবে, এমন ব্যক্তিদের (খেলোয়াড়) আওয়াজ শক্তিশালী…।’
চলমান চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও লিসবনে অনাকাঙ্ক্ষিত বর্ণবাদের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড। প্রতিপক্ষ বেনফিকার ফুটবলার জিয়ানলুকা প্রেস্টিয়ানি তাকে ‘বানর’ ডাকার অভিযোগ উঠলে উয়েফা তাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল। এমনকি ভিনিসিয়ুসকে স্বাগতিক গ্যালারি থেকে পর্তুগিজ ক্লাবটির সমর্থকরাও তুচ্ছজ্ঞান করেছেন। সেই প্লে-অফের দুই লেগে বেনফিকাকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠে রিয়াল।
বর্ণবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও শক্ত অবস্থান অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ভালো ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করে ভিনিসিয়ুস বলছেন, ‘আমি বলছি না যে স্পেন, জার্মানি কিংবা পর্তুগাল বর্ণবাদী দেশ। তবে এসব দেশে বর্ণবাদী মানুষ আছে এবং ব্রাজিলসহ অন্যান্য দেশেও। এজন্য (এর বিরুদ্ধে) আমাদের একসঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আশা করি ভবিষ্যতে কোনো ফুটবলার, সাধারণ মানুষ বা কেউই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না।’
আমার বার্তা/এমই
