কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২০ ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক সাহেদের আওয়ামী লীগ পরিচয় নিয়ে বিব্রত আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যেই বলেছেন যে এই সমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের কঠোর হস্তে দ’মন করতে হবে। তাঁরা যে দরজা দিয়ে আওয়ামী লীগে ঢুকছে সেই দরজা বন্ধ করে দিতে হবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগ এখন এইসমস্ত অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপারে এবং দলের ভেতরে থেকে যারা নানারকম অপ’কর্ম করছে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন যে, করোনা স’ঙ্ক’টে একমাত্র রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ মাঠে থেকেছে, জনগণের কাছে গিয়েছে, জনগণের জন্য কাজ করেছে।

অথচ আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে কিছু দু’র্বৃ’ত্ত আওয়ামী লীগের সুনাম নষ্টের পাঁয়তারা করছে। এই অবস্থা আর বরদাশত করা হবেনা, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন যে, এই সমস্ত দু’র্বৃ’ত্তদের যারা দলে ঢুকিয়েছে তাঁদেরকে চিহ্নিত করা হবে এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এই নিয়ে তাঁরা খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসবে।

আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ন’ষ্ট করে এবং আওয়ামী লীগের ভেতরে থেকে যারা অপ’কর্ম করে তাঁদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে। এজন্য আপদকালীন ব্যবস্থা নয়, আওয়ামী লীগ তাঁর নীতি-কৌশলে কিছু দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়ার কৌশল গ্রহণ করছে বলে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে। যে সমস্ত পদক্ষেপগুলো আওয়ামী লীগ নিতে যাচ্ছে তাঁর মধ্যে রয়েছে-

২০০৯ এর পর আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা

২০০৯ সালের পর যারা আওয়ামী লীগে ঢুকেছে তাঁদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং তালিকানুযায়ী যারা বিএনপি-জামাত থেকে যারা এসেছে বা দলের ভেতরে বিভিন্ন অপ’কর্ম করছে তাঁদের চিহ্নিত করা এবং চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

কমিটি গঠনে যাচাইবাছাই

কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। শুধু অংগসহযোগী সংগঠন নয়, জেলা-উপজেলা থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিতেও যেন অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকতে না পারে, বিত’র্কিতরা যেন ঢুকতে না পারে এবং যারা ঢুকেছে তাঁদের যেন যাচাইবাছাই করা হয় সে ব্যাপারে আওয়ামী লীগ আরো সতর্কতা অবলম্বন করবে বলে জানা গেছে।

টক শোতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতকর্তা

যে কেউ যেন আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে টক শোতে না যায় এবং আওয়ামী লীগের পরিচয় দিয়ে টক শোতে যাওয়ার আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে যেন অবহিত করা হয় এই বিষয়টি নিয়েও আওয়ামী লীগ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা বলেছেন যে, যেকোন লোক আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে টক শোতে যাবেনা।

এই ব্যাপারে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর সঙ্গেও আওয়ামী লীগ কথা বলতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। কারণ দেখা যাচ্ছে যে, সাহেদের মতো অপ’কর্ম’কারীরা আওয়ামী লীগের পরিচয় ব্যবহার করে টক শোতে যাচ্ছে। তাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কাউকে যদি টকশোতে নিতে হয় তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বা দপ্তর সম্পাদককে অবহিত করে নিতে হবে- এমন একটি ভাবনা আওয়ামী লীগের মধ্যে ক্র’মশ জোরালো হচ্ছে।

সাংগঠনিক নজরদারি বাড়ানো

প্রত্যেকটি বিভাগে আওয়ামী লীগের যারা সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে আছে তাঁদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সাংগঠনিক নজরদারি বাড়ানোর। কোথায় কে কি করছে, নেতাকর্মীরা কোন শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করছে কিনা, বা দলের ভেতরে হুট করে কেউ ঢুকে যাচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে দেখাশোনা করার জন্য সাংগঠনিক সম্পাদকদের নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় হওয়া

করোনা স’ঙ্ক’টের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম গু’জব ছড়ানো হচ্ছে এবং আওয়ামী লীগের নাম ব্যবহার করে নেতাকর্মীদের বি’ভ্রা’ন্ত করা হচ্ছে। এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তেমন একটা সোচ্চার নয়। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যেমন ফেসবুকসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আরো সোচ্চার হওয়ার জন্যে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। যেন তাঁরা এইসব অ’প’প্র’চার-গু’জ’বের সঠিক জবাব দেয় এবং সত্যটাকে সামনে নিয়ে আসে।

আওয়ামী লীগের এই কঠোর অবস্থানের ফলে যারা অপ’কর্ম করছে তাঁরা দল থেকে তিরোহিত হচ্ছে এবং অপ’ক’র্ম’কারীদের দল থেকে বের করে দেওয়া সহজ হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।bangla insider