নতুন ষ’ড়যন্ত্রের মুখে দি’শেহারা শিপ্রা!

শনিবার, আগস্ট ১৫, ২০২০ ৬:০৭ অপরাহ্ণ

ষ’ড়যন্ত্রের মুখে দি’শেহারা শিপ্রা-মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদের সহকর্মী শিপ্রা দেবনাথ ‘নতুন ষ’ড়য’ন্ত্রের’ শি’কা’র বলে মনে করছে তার পরিবার। ফেসবুক, ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকে টা’র্গেট করে একটি গ্রু’প স’ক্রিয় হয়েছে। শিপ্রার ব্য’ক্তিগত চরিত্রহ’ন’নের চে’ষ্টা করছে তারা। শুধু ভু’য়া আ’ইডি নয়, অনেকে নিজের আ’ইডি থেকেও শি’প্রাকে আ’ক্র’মণ করছে। সোশ্যাল মি’ডিয়ায় কারও কারও আ’চরণে ম’র্মা’হত শি’প্রার পরিবার।

সিনহার ‘জাস্ট গো’ নামের ইউটিউব চ্যানেলে ছবি ও ভিডিও দিয়ে স’মালোচনায় শিপ্রা ‘কিংকর্তব্যবিমূঢ়’ হয়ে পড়েছেন। শিপ্রা সমকালকে জানান, তিনি বুঝতে পারেননি যে সাধারণ মানুষের এমন প্র’তিক্রিয়া হবে। তাই দ্রু’তই তিনি সেই ভিডিও স’রিয়ে নিয়েছেন। শিপ্রার ছোট ভাই শুভজিৎ কুমা’র দেবনাথ সমকালকে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে তাকে ‘খা’রাপ’ বলে চি’ত্রায়িত ক’রার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে গত বুধবার শিপ্রা যখন জাস্ট গো ইউটিউব চ্যানেলে কিছু ছবি ও ভি’ডিও প্রকাশ করেন, তখন থেকে খা’রাপ মান’সিকতার কিছু মানুষের আ’ক্রমণের শি’কা’র হন।’

তিনি বলেন, কেন এই সময় ওই ডকুমেন্টারির ভিডিও আপলোড করা হয়েছে, সেটার একটি কারণ রয়েছে। ঘটনার পর অনেকে ভু’য়া নাম-পরিচয় ব্যবহার করে জাস্ট গো নাম দিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরি করে ই’উটিউবে ছেড়ে দেয়। এটা প্রচার হওয়ার পর অনেকের মধ্যে বি’ভ্রান্তি দেখা যায়। এ কারণে শিপ্রা তার কাছে থাকা কিছু ছবি ও ভি’ডিও ইউটিউবে ছাড়েন। সেই ছবি ও ভিডিওর কিছু কিছু গুগল ড্রাইভে ছিল।

অনেকে হয়তো মনে করেছে, ওই ড’কুমেন্টারিতে সিনহা হ’ত্যা’র বি’চার চা’ইবেন শিপ্রা। চোখে জল থাকবে। কা’ন্নাকাটি করে আ’বেগতাড়িত হবেন। ড’কুমেন্টারি তৈরির ক্ষেত্রে সেটা শিপ্রা চাননি। তিনি সিনহার স্বপ্ন এই ডকুমেন্টারির মাধ্যমে কিছুটা হলেও বাঁ’চিয়ে রাখতে চেয়েছেন।শুভজিৎ আরও বলেন, সি’নহা ছিলেন প্রা’ণচঞ্চল। তার স্বপ্নের প্রকল্প ছিল জাস্ট গো। ওই ডকুমেন্টারিতে সিনহার মনোভাবকে গুরুত্ব দিয়েছেন শিপ্রা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়তো অনেকেই তার হাসিমাখা মুখ ভালো’ভাবে নেয়নি। অনেকের আ’ঘাতে শিপ্রা এখন মা’নসিকভাবে বি’পর্যস্ত। তার মা-বাবা অ’সুস্থ হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, একজন পু’লিশ সু’পারও তার আ’ইডি থেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি পোস্ট করেছেন। এটা করার পেছনে অবশ্যই অশুভ উদ্দেশ্য রয়েছে। হঠাৎ কেন তারা শিপ্রার ব্যক্তিগত বিষয় সামনে আনবেন। সত্যকে আড়াল করে অন্য কিছু প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন তারা। পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ায় আইআই’এসটিতে পড়াশোনা করছেন শুভজিৎ। তার বাবা সাবেক বিজিবি সদস্য। শুভজিৎ আরও জানান, কক্সবাজার যাওয়ার আগে শিপ্রা জানান, তিন মাসের মধ্যে তারা কাজটি শেষ করবেন। সম্ভব হলে আরও তাড়াতাড়ি শেষ করে ফিরে আসবেন।

শুভজিৎ জানান, কক্সবাজার থাকাকালে শিপ্রার সঙ্গে প্রায়ই কথা হতো। ঈদের দিন সকালে শিপ্রা জানান, ‘সিনহা ভাই মা’রা গেছেন। সিফাত কোথায় রয়েছে আমা’র জানা নেই। আমি খুব খা’রাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছি। সিনহার ঘটনাসহ পুরো বিষয়টি নিয়ে আমি উ’দ্বিগ্ন।’ শুভজিৎ জানান, শিপ্রা জা’মিন পাওয়ার পরও কয়েক দফায় তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তার পাশে দাঁড়াতে কক্সবাজারে তাদের স্বজনরা গেছেন।

আ’ইনশৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, একটি অসাধু মহল শিপ্রার ব্যক্তিগত বিষয় সামনে এনে আসল ঘ’টনা আ’ড়াল করার চেষ্টা করছে। তারা যেটা করছে, এটা সা’ইবার ক্রা’ইম। কেন, কারা এটা করে যাচ্ছে, তাদের ব্যাপারে আরও বি’শদ ত’দন্ত চলছে। ৩১ জুলাই টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে সিনহা নি’হত হওয়ার পর ওই রা’তেই নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চা’লায় পু’লিশ। রিসোর্টে অ’ভিযানের ঘটনায় হিমছড়ি পু’লিশ ফাঁড়ির এসআই শফিকুল ইস’লাম বাদী হয়ে মা’মলা করেন। পরে শিপ্রা দেবনাথকে আ’সামি করে মা’মলার জ’ব্দ তালিকায় দুটি ভো’দকা, তিনটি ভ্যা’ট-৬৯ দে’শি ম’দ, এক পু’রিয়া গাঁ’জা ও পা’নির বোতলে এক লি’টার দে’শীয় চো’লাই ম’দ দেখানো হয়েছে।

এটাকেও সাজানো মা’মলা বলে মনে করছেন অনেকে। শিপ্রার পরিবার বলছে, ওই মা’মলাও একটা ষ’ড়’যন্ত্র ছিল। শিপ্রাকে মা’দক নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রে’প্তা’র দেখালেও তার সহকর্মী তাহসিম রিফাত নূরকে ছেড়ে দেয় পু’লিশ। পরে জামিনে কা’রাগার থেকে ছাড়া পান শিপ্রা। জানা গেছে, নীলিমা রিসোর্টে অ’ভিযান চালানোর সময় সিনহার কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও হার্ডডিস্ক গায়েব হয়ে যায়। পু’লিশের জ’ব্দ তালিকায় তা দেখানো হয়নি। কেউ হার্ডডিস্ক থেকে শিপ্রার ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে চ’রিত্রহননের চেষ্টা করছে কিনা, তা ত’দন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সং’শ্নিষ্টরা।

ডকুমেন্টারি তৈরির কাজে শিপ্রা দেবনাথ, তাহসিম সিফাত নূর ও সাহেদুল ইস’লাম সিফাতকে নিয়ে নীলিমা রি’সোর্টে এক মাস ধরে অবস্থান করছিলেন সিনহা। অনেকে আমাকে ভু’ল বুঝেছে- শিপ্রা :শিপ্রা দেবনাথ গতকাল শুক্রবার রাতে সমকালকে বলেন, ‘যখন দেখলাম সোশ্যাল মিডিয়ায় নকল ড’কুমেন্টারি তৈরি করে জাস্ট গো নামে অনেকে প্রচার করছেন, তখন ভাবলাম আমাদের স্বপ্ন কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।

তখন চিন্তা করলাম আসল তথ্য সবাইকে জানাই। সেই জায়গা থেকেই ভিডিও আপলোড করেছিলাম। যখন দেখলাম মানুষ এটা ভালো’ভাবে নেয়নি, তখন ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা ডিলিট করে দিয়েছি। অনেকে ধারণা করেছিল, এটা আমা’র ব্যবসা ছিল। অনেকে আমাকে ভু’ল বুঝে’ছিল। তাই তাদের স’ম্মান জানিয়ে ওই ভিডিও সরিয়ে ফেলেছি।’ শিপ্রা আরও বলেন, ‘এটা ঠিক আমি পাবলিক ফিগার নই।

জাস্ট গো সোশ্যাল মিডিয়ায় যাওয়ার পর রাতারাতি পাবলিক ফিগারে পরিণত হই। এটা আমি চাইনি। আমাদের স্বপ্ন বাঁ’চাতে তা আপলোড করেছিলাম। কী’ভাবে এ ধরনের কাজে সাধারণ মানুষকে হ্যান্ডেল করতে হয়, এটা আমা’র জানা ছিল না। এখনও নেই। আমি সাধারণ মে’য়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারও কারও আচরণে আমি কিং’কর্তব্যবিমূঢ়। শিপ্রা আরও বলেন, কক্সবাজারে যে ঘটনা ঘটেছে, সবাই তার ন্যা’য়বিচার চাচ্ছে। তিনিও ন্যা’য়বিচারের প্র’তীক্ষায় রয়েছেন। এর বাইরে তার আর কোনো কথা নেই। viewer.com.bd