
খাগড়াছড়িতে টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পর শুক্রবার (১০ জুলাই) পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও বন্যাকবলিত মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ও কবাখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো পানির নিচে।
এ ছাড়া তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের যান চলাচল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজারো মানুষ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। অনেক পরিবার এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সকাল থেকে কয়েক দফা হালকা বৃষ্টি হলেও পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে অধিকাংশ বসতঘর, দোকানপাট ও গ্রামীণ সড়ক এখনো জলমগ্ন থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরেনি।
মেরুং বাজারের ব্যবসায়ী হারুণ অর রশিদ বলেন, বাজারের কয়েকটি উঁচু দোকান ছাড়া প্রায় সব দোকানেই পানি ঢুকে গেছে। আশপাশের প্রায় সব গ্রামের ঘরবাড়ি এখনো পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। দীর্ঘদিন পানিবন্দি থাকায় মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে।
বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমন ধানের জমিসহ বিভিন্ন ধরনের কৃষিজমি। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের সম্ভাব্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েকদিন ধরে ঘরবন্দি মানুষ নিরাপদ খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের সংকটেও ভুগছেন।
সাজেক সড়কের কয়েকটি স্থানে এখনো পানি জমে রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় দেড় শতাধিক পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। শুক্রবার সকালেও বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে সেনাবাহিনীর স্কর্টে সাজেক থেকে ৩১১ জন পর্যটক খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক জিয়াউল হক যুবরাজ।
তিনি জানান, সড়কের যেসব অংশ এখনো পানিতে তলিয়ে আছে, সেখানে বাঁশের ভেলা ও নৌকার মাধ্যমে পর্যটকদের পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে নতুন করে কোনো পর্যটককে সাজেকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, নতুন করে কোনো এলাকা প্লাবিত হয়নি এবং গতকালের তুলনায় পানি কিছুটা কমেছে। তবে দীঘিনালার সঙ্গে লংগদু সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকা মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর ও মহালছড়ি উপজেলার নিচু এলাকার বন্যা পরিস্থিতিরও ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তবে বৃহস্পতিবার রাতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় কয়েকটি ছোট আকারের পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে ২২টি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারিয়া সুলতানা।

