ই-পেপার বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২

হযরত শাহ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিরুদ্ধে হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ

সাহিদা বেগম:
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৬:৪৫

ঢাকার মিরপুর এলাকার হযরত শাহ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি বড় অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সহকারী প্রধান শিক্ষক খলিফা উজির আহমেদ বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যার মধ্যে রয়েছে হয়রানি, দুর্নীতি এবং অসদাচরণ। এসব অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তার এবং বিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক। এই অভিযোগ অনুযায়ী, খলিফা উজির বিদ্যালয়ের প্রশাসনকে অস্থিতিশীল করার জন্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করেছেন, যাতে তিনি নিজস্ব স্বার্থ সিদ্ধ করতে পারেন।

হয়রানি এবং ক্ষমতার লড়াই

খলিফা উজির বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো তিনি প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তারকে তার পদ থেকে অপসারণের চেষ্টা করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, উজির আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর হয়রানি চালিয়ে আসছেন এবং মিথ্যা আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করেছেন। ২০২০ সালের ১৮ জুলাই, খলিফা উজির নিজেই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে আবেদন করেন, যাতে তাকে হযরত শাহ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তার লক্ষ্য ছিল বিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে নেওয়া। এই কর্মকাণ্ড এতটাই প্রকাশ্য হয়ে পড়ে যে, তাকে প্রকাশ্যে তার কাজের জন্য দায়ী করা হয় এবং তিনি একটি হলফনামা সই করেন, যাতে তিনি ভবিষ্যতে এমন কোন কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন।

রাজনৈতিক প্রভাব ও অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগ

এই ঘটনার পর পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে ওঠে, যখন অভিযোগ উঠলো যে উজির রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করছেন। দাবি করা হয়েছে যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনার শাসনামলে, খলিফা উজির এমপি মঈনুল ইসলাম খান নিকিলের সাথে যোগসাজশ করতেন। তাদের সম্পর্কের মাধ্যমে উজির তার রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হুমকি প্রদান ও হয়রানি করেছেন, এর মধ্যে প্রধান শিক্ষিকা আক্তারও ছিলেন। আরও একাধিক অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি মহিলা অভিভাবকদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়ে তাদের ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন।

কিছু অভিভাবক অভিযোগ করেছেন যে, উজির শিশুদেরকে কৌশলে তাদের অভিভাবকদের উপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য ব্যবহার করেছেন। এসব কর্মকাণ্ড বিদ্যালয়ের মান ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে, ফলে কিছু অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তার বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অভিযোগ করেছেন।

সরকারী শাসনের পরও চলতে থাকা অপরাধ

২০২৪ সালের আগস্টে স্বৈরশাসনের পতনের পরও নার্গিস আক্তার অভিযোগ করেছেন যে, উজিরের অসদাচরণ থেমে থাকেনি। তিনি দাবি করেছেন যে, উজির তার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং আক্রমণাত্মক রিপোর্ট ছড়াচ্ছে, এমনকি একটি কাল্পনিক মিডিয়া আউটলেট তৈরি করে তাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছেন। আক্তার জানান, এটি ছিল তার নেতৃত্বকে দুর্বল করার একটি চক্রান্ত।

এ কারণে, কিছু অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও মনিটরিং দপ্তরে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছেন, যাতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব অভিযোগ বিদ্যালয়ে এক বিষাক্ত কর্মপরিবেশ সৃষ্টি করেছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার শিক্ষাঙ্গনে যে বিপদ তৈরি করতে পারে তা স্পষ্ট করেছে।

দুর্নীতি এবং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস

আরেকটি গুরুতর অভিযোগ হলো, খলিফা উজির পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছেন। শিক্ষিকা হিসেবে তার সময়ে, তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরীক্ষার উত্তর দেয়ার জন্য সুবিধা গ্রহণ করতেন, যার ফলে বিদ্যালয়ে দুর্নীতির এক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অপ্রতিরোধ্য সুবিধা তৈরি হয় এবং বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ন্যায্যতা ক্ষুণ্ণ হয়। যখন এই অভিযোগের মুখোমুখি হন, উজির দাবি করেন যে, তার মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে এসব ঘটনা ঘটেছে, এবং তার স্ত্রীর দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার কারণে তিনি ভুল করেছেন। তিনি আরও বলেন, তার মানসিক সমস্যা ছিল, যা তার অসদাচরণের মূল কারণ।

কুৎসিত উপকরণ এবং রাজনৈতিক চক্রান্ত

এছাড়াও, খলিফা উজির প্রধান শিক্ষিকা নার্গিস আক্তারের বিরুদ্ধে কুৎসা প্রচারিত লিফলেট ও পোস্টার তৈরি এবং বিতরণের সাথে যুক্ত আছেন। এসব লিফলেট স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করে ছড়ানো হয়, যাতে লোকজনের সমর্থন পাওয়া যায় এবং আক্তারের নেতৃত্বকে খাটো করা যায়। এসব কুৎসা উপকরণ তিনি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে, যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন এবং শিক্ষা বোর্ডে নিয়ে গেছেন, যাতে তিনি তার রাজনৈতিক অভিলাষ পূরণ করতে পারেন।

উজিরের অস্বীকার এবং জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া

এ সমস্ত অভিযোগের মুখে, খলিফা উজির সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তা মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ। তবে, শিক্ষকদের এবং অভিভাবকদের পক্ষ থেকে তোলা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার দাবি এখন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্কুল কমিউনিটি এবং জনসাধারণ তার উপর আরও কঠোর তদন্ত দাবি করছে।

উপসংহার: ন্যায় এবং জবাবদিহিতার আহ্বান

খলিফা উজির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো শিক্ষাঙ্গনে ক্ষমতার লড়াই, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দুর্নীতির গভীর সমস্যা উন্মোচন করেছে। শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের অভিযোগ পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত করেছে যে বিদ্যালয়ে স্বচ্ছতা, সততা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এসব গুরুতর অভিযোগের ব্যাপারে দ্রুত এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

এই মামলার ফলাফল ভবিষ্যতে অন্যান্য similar পরিস্থিতির মোকাবিলায় একটি উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে, এবং এটা সময়ের ব্যাপার যে, খলিফা উজির তার অযাচিত কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি পান। অভিভাবক এবং শিক্ষকদের আশা, তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হবে এবং বিদ্যালয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে।

লেখক: সমাজকর্মী ও নারী সংগঠক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স ভর্তি আবেদনের সময় বাড়ল

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি কার্যক্রমের অনলাইনে প্রাথমিক আবেদনের সময় বাড়ানো

প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে সংকট সমাধানের আশা কারিগরি শিক্ষার্থীদের

কারিগরি শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, প্রকৌশল খাতে চলমান বৈষম্য নিরসন এবং জাতীয় স্বার্থে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকে

এমপিওভুক্ত ৬৭ হাজার শূন্য পদে সুপারিশ পেলেন প্রায় ১২ হাজার

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-প্রভাষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। আজ বুধবার দুপুর

এনটিআরসিএর ৭ম বিশেষ নিয়োগ সুপারিশের ফল প্রকাশ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে সপ্তম বিশেষ নিয়োগ সুপারিশ বিজ্ঞপ্তির ফলাফল প্রকাশ করেছে বেসরকারি
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

২০ বছর পর বরিশালে জনসভা মঞ্চে তারেক রহমান

নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত

সারাদেশে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে ১০৫১ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ

ইসি কর্মকর্তাদের সতর্কবার্তা: প্রতারক চক্রের কলে সাড়া না দেওয়ার আহ্বান

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে: সালাহউদ্দিন

অর্থনৈতিক পররাষ্ট্রনীতিতে অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি

নির্বাচন ঘিরে নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও পেশাদারির ওপর গুরুত্বারোপ সেনাপ্রধানের

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ৪৮ শতাংশের পছন্দ বিএনপি

ময়মনসিংহে ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে গেল ট্রাক, চালক আহত

দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবেন শেভেনিং-কমনওয়েলথ স্কলাররা: সারাহ কুক

নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে কিশোর নিহত

যে ৭ খাবার ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে

জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত

জেন্টলম্যানস গেম থেকে মাফিয়াতন্ত্র: ক্রিকেটে ভারতের অঘোষিত স্বৈরতন্ত্র

লাটভিয়ার একাধিক নেতার সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা

হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজকে ইরানি নৌবাহিনীর ‘ধাওয়া’

১৬ ব্যাংক থেকে আরও ১৭ কোটি ডলার কিনলো বাংলাদেশ ব্যাংক

শীত কিছুটা বাড়বে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে বাড়বে তাপমাত্রা

এক্স আইডি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় আইনের বাস্তব প্রয়োগ দেখতে চান জামায়াত আমির

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের পতন ঘটানোর ষড়যন্ত্র করেছিলেন এপস্টেইন