
দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল চলচ্চিত্র ‘হোপ’ মুক্তির আগেই দেশজুড়ে তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আজ বুধবার মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমাটি ইতোমধ্যে আগাম টিকিট বিক্রিতে রেকর্ড গড়ে বছরের সবচেয়ে আলোচিত চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে।
কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল পর্যন্ত বিক্রি হওয়া আগাম টিকিটের ৬২ দশমিক ১ শতাংশই ছিল ‘হোপ’-এর। এ সময় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টিকিট বুকিং হয়েছে, যা চলতি বছরে অন্য কোনো চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে দেখা যায়নি। আগাম বিক্রিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘স্পাইডার–ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’, তবে সেটি ২৯ জুলাই মুক্তি পাওয়ায় শুরুতে বড় কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হতে হচ্ছে না ‘হোপ’কে।
সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন খ্যাতিমান নির্মাতা না হং–জিন। ‘দ্য চেজার’, ‘দ্য ইয়েলো সি’ ও ‘দ্য ওয়েইলিং’-এর মতো প্রশংসিত চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রায় এক দশক পর নতুন সিনেমা নিয়ে ফিরেছেন তিনি। ২০২৪ সালের মার্চে ‘হোপ’-এর শুটিং শেষ হলেও দীর্ঘ পোস্ট-প্রোডাকশনের কারণে মুক্তি পিছিয়ে যায়। পরে চলতি বছরের কান চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতা বিভাগে সিনেমাটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়।
‘হোপ’-এর সাফল্য শুধু বক্স অফিসের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবেশক প্রতিষ্ঠান প্লাস এম এন্টারটেইনমেন্টের ভবিষ্যৎও। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি, মেগাবক্স এবং তাদের মূল প্রতিষ্ঠান জুংআং গ্রুপের কয়েকটি সহযোগী কোম্পানি আদালতের কাছে দেউলিয়া সুরক্ষার আবেদন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ‘হোপ’ প্রত্যাশিত ব্যবসা করতে পারলে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
দর্শক বাড়াতে সরকারও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। ৮ জুলাই থেকে ২০ লাখ ৫০ হাজার সিনেমার টিকিটে ৬ হাজার ওন করে ছাড় দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। ধারণা করা হচ্ছে, এই সুবিধার সবচেয়ে বড় সুফল পাবে ‘হোপ’। এর আগে একই ধরনের কর্মসূচির ফলে এক সপ্তাহে দেশটির বক্স অফিস আয় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছিল।
গত সপ্তাহে সিউলে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনীতে সিনেমাটি ইতিবাচক সাড়া পায়। বিশেষ করে অ্যাকশন দৃশ্যের প্রশংসা করেছেন সমালোচকেরা। কান উৎসবে ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট নিয়ে যে সমালোচনা উঠেছিল, মুক্তির আগে সেগুলোও আরও উন্নত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতারা।
করোনা-পরবর্তী ধাক্কা কাটিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার চলচ্চিত্র শিল্পও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কোরিয়ান ফিল্ম কাউন্সিলের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির বক্স অফিস আয় মহামারির আগের সময়ের ৭৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রথমার্ধে দেশীয় চলচ্চিত্রের আয়ও বেড়েছে ৮১ দশমিক ৭ শতাংশ। এমন প্রেক্ষাপটে এখন সবার নজর ‘হোপ’-এর দিকে—দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই সিনেমা প্রত্যাশা অনুযায়ী বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়তে পারে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা। - সূত্র: কোরিয়া হেরাল্ড

