
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। একটি ধারাবাহিক নাটকে পাখি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দুই বাংলায় তুমুল জনপ্রিয়তা পান। এবার বাংলাদেশের বড় পর্দায় দেখা যেতে পারে তাকে। এমন গুঞ্জন বেশ জোরালো হয়েছে ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে।
যদিও এ বিষয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলতে রাজি নন সংশ্লিষ্টরা। তবে জানা গেছে, নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবালের নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’-তে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য মধুমিতার নাম আলোচনায় রয়েছে।
মধুমিতা সরকার মূলত কলকাতার টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘কেয়ার করি না’, ‘চিনি’সহ একাধিক জনপ্রিয় কাজের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশের দর্শকদের কাছেও পরিচিতি পেয়েছেন।
বাংলাদেশে এর আগে তিনি বড় পর্দায় কাজ না করলেও, ২০১৬ সালে এনটিভিতে প্রচারিত ‘মেঘবালিকা’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। সেই নাটকের মাধ্যমে বাংলাদেশের দর্শকদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। তবে এবার যদি ‘গুলশানের চামেলি’-তে অভিনয় করেন, তাহলে সেটিই হবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার প্রথম কাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘গুলশানের চামেলি’ হবে রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার জগতকে ঘিরে নির্মিত একটি ব্যতিক্রমধর্মী সিনেমা। গল্পের কেন্দ্রে থাকবেন একজন যৌনকর্মী, যিনি কোনো অপরাধ না করেও সমাজ ও ক্ষমতার নিষ্ঠুর শিকার হন।
নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, ছবির সবচেয়ে বড় চমক হলো এখানে প্রচলিত অর্থে কোনো নায়ক নেই। পুরো গল্প এগিয়ে যাবে একজন নারীকে ঘিরে। তিনিই ছবির প্রধান চরিত্র, আবার গল্পের বিভিন্ন বাঁকে তাকেই ভিলেনের ভূমিকায়ও দেখা যাবে। ফলে এটি একেবারেই নারীকেন্দ্রিক একটি সিনেমা হতে যাচ্ছে।
মধুমিতা সরকারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে নির্মাতা মোহাম্মদ ইকবাল সরাসরি কিছু বলতে চাননি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখন কোনো মন্তব্য করতে চাই না। সবকিছু কয়েক দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।’
এ বক্তব্যের পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে। কারণ, এর আগে ২০২০ সালেও ‘গুলশানের চামেলি’ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে নানা কারণে সেটি বাস্তবায়ন হয়নি। এবার নতুন পরিকল্পনায় ছবিটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রযোজক হিসেবে মোহাম্মদ ইকবাল এর আগে ‘ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না’, ‘পাসওয়ার্ড’, ‘শুটার’, ‘বীর’ সহ একাধিক আলোচিত সিনেমার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে পরিচালক হিসেবে নির্মাণ করেন ‘ডেডবডি’, ‘কিল হিম’ এবং ‘রিভেঞ্জ’। এবার ‘গুলশানের চামেলি’ দিয়ে তিনি আবারও ভিন্নধর্মী গল্প নিয়ে দর্শকের সামনে আসতে চান।
আমার বার্তা/এমই

