ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক ঋণ সংকট ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা

নুসরাত জাহান আনিকা:
১৩ মার্চ ২০২৫, ১১:১২

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঋণ সংকট ব্যাপকভাবে আলোচিত বিষয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে নাজেহাল, এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। চলমান বৈশ্বিক মন্দা, ডলার সংকট ও ঋণ পরিশোধের চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব

২০২৪ সালের শুরুতেই বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছিল যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো ঋণখেলাপির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পাঁচশ ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার, যা মোট জিডিপির প্রায় ৩৬.৪৩%। যদিও সরকার বলছে যে এই ঋণের পরিমাণ এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, তবে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ও সুদের হার নিয়ে যথেষ্ট চাপ বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমানে আইএমএফ-এর প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যক্রম ও বৈদেশিক ঋণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া, বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং খাদ্য ঘাটতির মতো সমস্যা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কৃষি ও শিল্প খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা জরুরি। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি খাতে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব

বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। বড় প্রকল্পগুলোর জন্য বিদেশি ঋণ গ্রহণ যেমন একদিকে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাহায্য করেছে, অন্যদিকে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে তুলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা, অন্যান্য দেশের সাথে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্পর্ক, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব, আমদানি-রপ্তানির আনুপাতিক হার—এই সংকটকে আরও গভীর করছে। পাশাপাশি, সরকারি নীতিগুলোর ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে করণীয়

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত রাখতে হলে সুপরিকল্পিত ঋণ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য রাখা জরুরি। এছাড়া, টেকসই শিল্প উন্নয়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন বৃদ্ধি, এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও জোরদার করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব। পাশাপাশি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে দেশীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমবে।

সুপারিশসমূহ:

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ।

স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা প্রদান।

সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতি গ্রহণ।

সরকারি ব্যয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দমন।

কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতির চাহিদা পূরণ করা।

আন্তর্জাতিক ঋণ সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে সময়ের দাবী। বাংলাদেশের জন্য একটি সুসংহত অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা যায়।

লেখক : শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার বার্তা/জেএইচ

"পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি" চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে আপোষহীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক `আপোষহীন' নেতৃত্বের নাম।রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই শেষ পর্যন্ত তিনি

শিক্ষক নিয়োগে বৈষম্য: ১-১২তম ব্যাচের নিবন্ধিতদের ন্যায়বিচার দাবি

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন এক অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)

শিক্ষা-শিল্প ফাঁক কমাতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা গত এক দশকে বিস্তারের দিক থেকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা

হাদির ওপর হামলা, শান্তির পথে কাঁটা ছড়াচ্ছে কারা?

বহু প্রতীক্ষা ছিল। নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছিল দেশ। নির্বাচন কমিশন ‘তফসিল’ ঘোষণা করল। নির্বাচনের ট্রেন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসান আর নেই

খালেদা জিয়ার জানাজায় তারেক রহমানকে সান্ত্বনা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার জানাজা, গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ

জানাজায় বিপুল জনসমাগম মৃতের জন্য যে সৌভাগ্য বয়ে আনে

রাষ্ট্রীয় শোকে রাজধানীতে আতশবাজি-সব ধরনের উৎসব নিষিদ্ধ: ডিএমপি

মাকে কবরে রেখে বিষণ্ন মনে বাসায় ফিরলেন তারেক রহমান

নতুন বছরে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা বেগবান হবে: আশা প্রধান উপদেষ্টার

ভারতে চলন্ত ভ্যানে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ২ ঘণ্টা পর রাস্তায় নিক্ষেপ

পোস্টাল ভোট দিতে ১১ লাখ নিবন্ধন, ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বাড়াল ইসি

খালেদা জিয়া স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে ছিলেন: আনিসুল ইসলাম

মধুপুরে যানজট নিরসনে প্রশাসনের মতবিনিময় সভা

"পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি" চুক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে আপোষহীন ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া

সম্পর্ক উন্নয়নে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে: চীনা মুখপাত্র

ডাকাতির গরু বাঁচাতে ক্যাভার্ড ভ্যানে অক্সিজেন রাখতেন ডাকাত

কথা রাখলেন খালেদা জিয়া, দেশের মাটিতে স্বামীর পাশে চিরনিদ্রায়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে ছবি-ভিডিও বানাবেন যেভাবে

জানাজায় অংশ নিতে আসা বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে উপদেষ্টাদের সাক্ষাৎ

সিলেট স্টেডিয়ামে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া অনুষ্ঠিত

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় ৫০ প্লাটুন আনসার ও টিডিপি মোতায়েন

খালেদা জিয়ার জানাজায় পদদলিত হয়ে একজনের মৃত্যু