ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

আন্তর্জাতিক ঋণ সংকট ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা

নুসরাত জাহান আনিকা:
১৩ মার্চ ২০২৫, ১১:১২

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ঋণ সংকট ব্যাপকভাবে আলোচিত বিষয়। উন্নয়নশীল দেশগুলো ক্রমবর্ধমান ঋণের চাপে নাজেহাল, এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। চলমান বৈশ্বিক মন্দা, ডলার সংকট ও ঋণ পরিশোধের চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি। এ পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব

২০২৪ সালের শুরুতেই বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছিল যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈদেশিক ঋণ ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে। শ্রীলঙ্কা এবং পাকিস্তানের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো ঋণখেলাপির পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত পাঁচশ ৬৩ কোটি মার্কিন ডলার, যা মোট জিডিপির প্রায় ৩৬.৪৩%। যদিও সরকার বলছে যে এই ঋণের পরিমাণ এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে, তবে ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ও সুদের হার নিয়ে যথেষ্ট চাপ বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমানে আইএমএফ-এর প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যক্রম ও বৈদেশিক ঋণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া, বিশ্ববাজারে মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি সংকট এবং খাদ্য ঘাটতির মতো সমস্যা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রপ্তানি নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, কৃষি ও শিল্প খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করা জরুরি। পাশাপাশি, সরকারি ও বেসরকারি খাতে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব

বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা মূলত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। বড় প্রকল্পগুলোর জন্য বিদেশি ঋণ গ্রহণ যেমন একদিকে দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে সাহায্য করেছে, অন্যদিকে ঋণের বোঝা বাড়িয়ে তুলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অবস্থা, অন্যান্য দেশের সাথে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সম্পর্ক, দুর্নীতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব, আমদানি-রপ্তানির আনুপাতিক হার—এই সংকটকে আরও গভীর করছে। পাশাপাশি, সরকারি নীতিগুলোর ধারাবাহিকতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হয়।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে করণীয়

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত রাখতে হলে সুপরিকল্পিত ঋণ ব্যবস্থাপনা ও দক্ষ নীতি বাস্তবায়ন, সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্য রাখা জরুরি। এছাড়া, টেকসই শিল্প উন্নয়ন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন বৃদ্ধি, এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও জোরদার করার মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও স্থিতিশীল করা সম্ভব। পাশাপাশি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো হলে দেশীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং বিদেশি নির্ভরতা কমবে।

সুপারিশসমূহ:

বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি ও রপ্তানি বহুমুখীকরণ।

স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ঋণ সুবিধা প্রদান।

সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণ।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নীতি গ্রহণ।

সরকারি ব্যয়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দমন।

কৃষি ও শিল্প খাতের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতির চাহিদা পূরণ করা।

আন্তর্জাতিক ঋণ সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই হবে সময়ের দাবী। বাংলাদেশের জন্য একটি সুসংহত অর্থনৈতিক কৌশল গ্রহণ করা এখন অত্যন্ত জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান করা যায়।

লেখক : শিক্ষার্থী, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার বার্তা/জেএইচ

মরক্কোর আমাজিঘ নারী: প্রাচীন হস্তশিল্পের মানব জাদুঘর ও ঐতিহ্যের ধারক

মরক্কোর গ্রাম, পাহাড়ি জনপদ, মরুভূমি অঞ্চল ও এর আশেপাশে আমাজিঘ সম্প্রদায়ের নারীরা বসবাস করেন। তারা

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: ইতিহাস ও ভূগোলের কঠিন বাস্তবতা

আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করেছে। এই আক্রমণের ফলে কি ইরান পরাজিত হবে? স্পষ্ট

দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়বো, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়বো

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা বাংলাদেশ একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিপূর্ণ একটি দেশ। ভৌগোলিক অবস্থান, বিস্তীর্ণ

এসএমই ও স্টার্টআপ বিপ্লব: এফবিসিসিআই-ই হবে প্রবৃদ্ধির নতুন ইঞ্জিন

বাংলাদেশ আজ এক অর্থনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা ছাড়িয়ে ২০২৬ সালে এলডিসি উত্তরণের
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ভারতের কাছে বাড়তি জ্বালানি সহায়তা চেয়ে চিঠি দিল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরি তদন্তে ফিলিপাইনের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

ইফতারের আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লো বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফসলি জমি ভরাটের দায়ে বালু জব্দ করে নিলামে বিক্রি

মির্জাপুরে গ্যাস সংযোগ অভিযান

ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীর হামলায় ১৩ মার্কিন সেনা নিহত

বিরোধীদলীয় নেতার সম্মতি পেলে চিঠি প্রকাশ করতে চায় মন্ত্রণালয়

অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ জরুরি

ভবিষ্যৎ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা হতে হবে প্রযুক্তি নির্ভর: আইজিপি

ডেঙ্গু–চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে দেশবাসীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

মন্ত্রী-এমপিদের চলনে-বলনে মার্জিত থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

ইরান যুদ্ধের অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে নজিরবিহীন ওঠানামা

ঈদে বিমানবন্দর থেকে জয়দেবপুর বিআরটি লেনে একমুখী চলবে গাড়ি

সংস্কার প্রস্তাবের আলোকে বিরোধীদল যতটুকু পাবে, ততটুকু চাই: জামায়াত আমির

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার বাছাইয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দায়িত্ব দিল সরকারি দল

নাহিদের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে ১১৪ রানেই অলআউট পাকিস্তান

থার্ড টার্মিনাল চালু করতে ৬ থেকে ৯ মাস লাগবে: বিমান প্রতিমন্ত্রী

আউট সোর্সিং জনবল নিয়োগে পরিচালক তুহিনের ২৫ কোটি টাকার টার্গেট

বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ উপনির্বাচনে গণভোট থাকছে না: ইসি

পাম্পে পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্য মোতায়েন চায় ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন