
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় শেষমুহুর্তেও লবণ উৎপাদনে ব্যস্ত চাষীরা। কেউ উৎপাদিত লবণ গর্তে ফেলছে, আবার কেউ মাঠেই লবণ তুলছে। চলতি মৌসুমে কিছুদিন জ্বালানি সংকটের অজুহাতে তেলের বাড়তি দাম গুনতে হয়েছে স্থানীয় প্রান্তিক চাষীদের। এছাড়াও শ্রমিকের মজুরি, পানি ও পলিথিনসহ লবণ উৎপাদনের সকল সরঞ্জামের দাম বেশি। এতে চরম ক্ষুব্ধ লবণ চাষীরা। তারা বলেছেন, সব কিছুরই দাম বাড়লেও লবণ বিক্রি করতে গেলেই সস্তা।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য মতে, কুতুবদিয়ায় ৬ হাজার ৭৫৫ একর জমিতে লবণের চাষ হয়। এতে চাষীদের উৎপাদিত লবণ ২ লাখ ২৫ হাজার ১শ মে.টন। যা বিক্রি করতে পারেনি স্থানীয় প্রান্তিক চাষীরা। এরমধ্যে গত বছরের ৯ হাজার মে.টন লবণ রয়েছে। এছাড়াও বিগত বছর গুলোতে লবণ উৎপাদনে পাঁচ যুগের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল। যা সরকারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদন করে এ প্রান্তিক চাষীরা।
লবণ চাষী কামাল হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, সেলিম উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, সব কিছুর দাম বাড়ছে, শুধু লবণের দাম বাড়ছে না। এইটা কোন নিয়ম হলো। আমরা পরিবার নিয়ে খাবো কী? এবার লবণ উৎপাদনের খরচ বেশি হয়েছে। কিন্তু, সেই উৎপাদিত লবণ বিক্রি হচ্ছে মানভেদে ২২০-২৫০ টাকা মণ। তারা আরও জানান, প্রতিকানি জমিতে লবণ উৎপাদিত হয় প্রায় ৩০০-৩৫০ মণ। তার বিপরীতে খরচ দ্বিগুণ হচ্ছে। ফলে, লবণ বিক্রি করে সেই টাকাও উঠছে না। এ সমস্যা সমাধানে সরকার নজর না দিলে আগামীতে চাষীরা লবণ উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবেন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প (বিসিক) কুতুবদিয়ার লবণ প্রদর্শনীর পরিদর্শক হাফেজ জাকের হোছাইন জানান, গত সপ্তাহে কুতুবদিয়ায় লবণ উৎপাদিত হয় ২৫ হাজার ৯শ মে.টন। এরমধ্যে গত শনিবার একদিনে লবণ উৎপাদিত হয় ৪ হাজার মে.টন। এ পর্যন্ত কুতুবদিয়ায় লবণ মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩২৫ মে.টন। এছাড়াও এবছরের লবণ উৎপাদন ২ লাখ ২৫ হাজার ১শ মে.টন।
এদিকে, কুতুবদিয়ার অর্থনৈতিক যোগানের চালিকাশক্তি হচ্ছে লবণ শিল্প। কিছু সিন্ডিকেট লবণের ঘাটতি দেখিয়ে এ শিল্পকে ধ্বংস করতে চায়। শুধু প্রান্তিক চাষী নয়, লবণ শিল্প ও দ্বীপবাসীকে বাঁচাতে বিদেশি লবণ আমদানি না করার দাবি কুতুবদিয়ার সর্বস্তরের মানুষ।
আমার বার্তা/এমই

