
সিলেটে আলোচিত চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মামলার রায়ে অপর দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার প্রায় তিন মাসের মধ্যে বৃহস্পতিবার সিলেটের শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ আদালতের বিচারক আবু ওবায়দা এ রায় প্রদান করেন।
তবে মামলায় দুই আসামি খালাস পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে ফাহিমার পরিবার। ফাহিমার বাবা জানিয়েছেন, খালাসপ্রাপ্তরা তার মেয়ের লাশ লুকানোর সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা খালাস পেয়ে গেল। দুই আসামি খালাস পাওয়ায় উচ্চ আদালতে আপিল করবেন বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বদরুর রহমান বাবর রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আদালত দ্রুততম সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা করেছেন। যা নজিরবিহীন। এতে আইন ও বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জাকির হোসেন (৩০) সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের পশ্চিম পাড়ার ধন রায়ের চক গ্রামের মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে একই গ্রামের প্রতিবেশীর মেয়েকে জাকির হোসেন সিগারেট নিয়ে আসার জন্য দোকানে পাঠায়। ওই শিশু সিগারেট নিয়ে ফিরলে তাকে নিজের ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ওই সময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে তাকে গলা টিপে হত্যা করে লাশ গুম করতে দুই দিন নিজ ঘরে একটি সুটকেসে লুকিয়ে রাখে। সময় বুঝে রাতে বাদাঘাট এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয় শিশুটির মরদেহ। ৮ মে জালালাবাদ থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। ওই সময় আসামি জাকিরও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তদন্তে পুলিশ জাকিরের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দুই দফা জাকিরের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করে। জাকির আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দিও দেন।
ঘটনার ৩৩ দিনের মাথায় পুলিশ জাকির ও তার দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। জাকিরের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ এবং দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগ করা হয়। গত ১ জুলাই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়। এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার রায় দেন আদালত।
আমার বার্তা/এমই

