
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চুরি হওয়া মোবাইল ফোনের ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি (আইএমইআই) নম্বর পরিবর্তন করে তা সাইবার অপরাধীদের কাছে বিক্রি করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এমন তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরই প্রেক্ষিতে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলিস্তান এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি দোকান থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম মো. আসাদুজ্জামান (৩৮)। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গুলিস্তান পাতাল মার্কেটে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ওয়েব বেইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
অভিযানে দোকান থেকে আইএমইআই কেটে ফেলা পাঁচটি চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া যেসব মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তনের জন্য জমা রাখা হয়েছিল, সেগুলোকেও জব্দ করা হয়েছে। ব
ডিসি নাসের রিকাবদার আরও বলেন, আমরা এমন দুটি সফটওয়্যারের সন্ধান পেয়েছি, যেগুলোর মাধ্যমে ডাটা কেবলের সাহায্যে মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা সম্ভব। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি আইএমইআই পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি ওই দোকানের একজন কর্মচারী এবং দোকানে বসেই সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই অবৈধ কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে আরও অন্তত ৮ থেকে ১০টি দোকানের তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে একই ধরনের কার্যক্রম চলছে। দোকানগুলো বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক অভিযান সম্ভব না হলেও শিগগিরই ব্যাপক অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গুলিস্তানকেন্দ্রিক চোরাই মোবাইল সিন্ডিকেট সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ডিসি নাসের বলেন, গত এক মাসে এএসপি মাহমুদের নেতৃত্বে আমাদের টিম গুলিস্তান এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে ফুটপাত থেকে বেশ কিছু মোবাইল উদ্ধার করেছে। সেগুলো পরীক্ষা করে আইএমইআই সংক্রান্ত অসঙ্গতি পাওয়া যায়। সেখান থেকেই আমরা এই চক্রের অস্তিত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হই।
তিনি আরও বলেন, 'চোরাই মোবাইলের আইএমইআই পরিবর্তন করে দিলে প্রকৃত মালিক আর সেই ফোন শনাক্ত করতে পারেন না। এতে অপরাধীরা নির্বিঘ্নে এসব মোবাইল বিক্রি ও ব্যবহার করতে পারে।'
ডিবি সাইবার ক্রাইম ইউনিট জানিয়েছে, জনগণের স্বার্থে এবং দেশের মোবাইল ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মোবাইল ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণকে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

