ই-পেপার বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি সুনামগঞ্জের একই গ্রামের ১০ যুবক

আমার বার্তা অনলাইন:
০৯ মার্চ ২০২৬, ১০:১৫

স্বপ্ন ছিল ইতালি গিয়ে পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর। সেই আশায় মানবপাচারকারীদের সঙ্গে ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় চুক্তি করে বাড়ি ছেড়ে ছিলেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার একই গ্রামের ১১ যুবকসহ মোট ১৩ জন। কিন্তু স্বপ্নের ইতালি পৌঁছানো তো দূরের কথা, এখন লিবিয়ায় মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন তাদের বেশিরভাগই।

১৩ জনের মধ্যে একজন বর্তমানে লিবিয়ায় পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। অন্য ১২ জন গত ১২ দিন ধরে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে একটি মাফিয়া চক্রের হাতে জিম্মি আছেন। তাদের ওপর চালানো হচ্ছে নির্মম নির্যাতন। হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে সেই নির্যাতনের দৃশ্য দেখিয়ে প্রত্যেকের পরিবারের কাছ থেকে ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে।

স্বজনদের অভিযোগ, জিম্মিকারীরা বাংলা ভাষাভাষী লোকদের দিয়ে ফোনে কথা বলাচ্ছে এবং বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলছে। জিম্মি থাকা ১২ জনের মধ্যে ১০ জনের বাড়িই জামালগঞ্জ উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের নাজিমনগর গ্রামে।

জিম্মি থাকা ওই যুবকেরা হলেন- নুরু মিয়ার ছেলে জীবন মিয়া (২৫), টুনু মিয়ার ছেলে আব্দুল কাইয়ুম (২৬), ফয়জুন নুরের ছেলে মনিরুল ইসলাম (২৪), শহীদ মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া (২৭), রাশিদ মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৮), বাচ্ছু মিয়ার ছেলে এনামুল হক (২৬), জলিল মিয়ার ছেলে আতাউর রহমান (২৯), এখলাছ মিয়ার ছেলে আমিনুল ইসলাম (২৫), রাশিদ আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩২) এবং আবুল কাশেমের ছেলে নিলয় মিয়া (২২)।

তাদের মধ্যে নুরু মিয়ার বড় ছেলে ইয়াছিন মিয়া (৩০) লিবিয়ায় পুলিশের হাতে আটক রয়েছেন। এছাড়া জামালগঞ্জ উপজেলা সদরের তেলিয়াপাড়ার আবুল হামজা ও সাচনা গ্রামের আবুল কালামও জিম্মি আছেন। তাদের সঙ্গে অবৈধপথে ইতালি যাওয়ার সময় জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া গ্রামের সোহেল মিয়াও রয়েছেন।

জিম্মি থাকা একাধিক যুবকের স্বজনরা জানান, নাজিমনগর গ্রামের শহীদ মিয়ার (মন্টু) স্ত্রী দিলোয়ারা বেগম, তার ছেলে হুমায়ুন কবির এবং তার জামাতা একই উপজেলার কলকতখাঁ গ্রামের নজরুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিজনকে ইতালি পাঠানোর জন্য ১৩ থেকে ১৪ লাখ টাকায় মৌখিক চুক্তি হয়েছিল। পরে সব টাকা পরিশোধ করা হলেও কেউই ইতালি পৌঁছাতে পারেননি।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি ইতালির উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন ওই যুবকেরা। প্রথমে তাদের আবুধাবি নেওয়া হয়। সেখান থেকে কুয়েত, পরে কুয়েত থেকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লিবিয়া থেকে ‘গেইম’ পদ্ধতিতে অর্থাৎ ইঞ্জিনচালিত ছোট নৌকায় সাগরপথে ইতালি পাঠানোর আগে একটি চক্র তাদের জিম্মি করে ফেলে।

এরপর থেকেই জিম্মিকারীরা তাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন পরিবারের মোবাইলে ভিডিও কলে নির্যাতনের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে এবং ২৬ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে। বিকাশে টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন স্বজনরা।অনেক দরকষাকষি ও কাকুতি-মিনতির পর জিম্মিকারীরা জানিয়েছে, জনপ্রতি ১২ লাখ টাকা দিলে আগামীকাল রোববার রাতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে ।

স্বজনদের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে দোয়ারাবাজার উপজেলার সোহেল নামের এক ব্যক্তিও জড়িত থাকতে পারেন। এক যুবকের পরিবার ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে কিছু টাকা পাঠানোর পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারে যে ব্যাংক হিসাব নম্বর দেওয়া হয়েছিল সেটি কিশোরগঞ্জ জেলার। পরে পরিবারের সদস্যরা কিশোরগঞ্জে গিয়ে খোঁজখবরও নিয়েছেন। তবে আপাতত যুবকদের মুক্ত করার পর পুরো বিষয়টি বিস্তারিত অনুসন্ধান করার কথা জানিয়েছেন তারা।

জিম্মি সফিকুল ইসলামের বাবা বৃদ্ধ রাশিদ আলী বলেন, দ্বিতীয় রোজার দিন ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো কথাবার্তা নাই, কোনো খবর জানি না। আমার ছোট মোবাইল, যাদের বড় মোবাইল আছে তাদের মোবাইলে মাফিয়ারা জানিয়েছে টাকা না দিলে ছাড়বে না। জায়গা-জমি বিক্রি করে ছেলেটারে বিদেশ পাঠাইছিলাম। আমি অসুস্থ মানুষ, হাতে কোনো টাকা-পয়সা নেই। এখন আল্লাহই ভরসা।

জীবন মিয়ার বাবা নুরু মিয়া বলেন, আমাদের গ্রামের দিলোয়ারা, তার ছেলে ও মেয়ের জামাইকে বিশ্বাস করে এতগুলো টাকা দিয়েছিলাম। টাকা গেলো, এখন ছেলেদের জীবনও খুব বিপদের মধ্যে আছে। আমাদের ধারণা, আমাদের কাছ থেকে টাকা নিলেও তারা অন্য দালালকে সঠিক টাকা দেয়নি। তাই তারা এই কাজ করেছে। এখন দিলোয়ারা, তার ছেলে ও মেয়ের জামাইকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

জিম্মি আতাউর রহমানের বড় ভাই হারুন মিয়া বলেন, আমরা বড় বিপদে পড়েছি। অনেক কষ্ট করে টাকা-পয়সা জোগাড় করে দালালকে দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করছি আমাদের গ্রামের দালাল দ্বিতীয় দালালকে টাকা না দেওয়ায় সে নিজেই এই ঘটনা সাজিয়েছে এবং সবাইকে জিম্মি করে টাকা দাবি করছে। অনেক চেষ্টার পর ১২ লাখ টাকা করে দিলে সবাইকে মুক্ত করে দেবে বলে জানিয়েছে। গরু-বাছুর, বাড়ি-ঘরের জমি-জায়গা সব কিছু বিক্রি ও ঋণ করে সবাই চেষ্টা করছেন টাকা সংগ্রহ করতে।

নাজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং ফেনারবাঁক ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য একরাম হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “এত টাকা দিয়ে এভাবে তাদের যাওয়া উচিত হয়নি। এখন সবাই বিপদে পড়েছে। গ্রামের ১০ জনের মধ্যে আমার চাচাতো ভাই দুইজন, ফুফাতো ভাই একজন, একজন ভাগ্নে এবং একজন চাচাও জিম্মি আছেন। সবার পরিবারের লোকজন এখন কান্নাকাটি করছেন।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হুমায়ুন কবিরের মা দিলোয়ারা বেগম প্রথমে বিদেশে পাঠানোর কথা স্বীকার করে বলেন,“সবাই বাইরোডে গেছে, তারা তো জায়গা মতো পৌঁছে গেছে। আজ রোববার ১২ লাখ টাকা (প্রতিজন) দিয়ে ছাড়ানোর দিন। সবাই নিজেরাই টাকা দেবে।

পরে তিনি আবার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা বিদেশে কোনো মানুষ পাঠাই না। গ্রামের মানুষের দেখাদেখি আমার মেয়ের জামাই কাইয়ুম, কালাম, মেয়ের দিকের নাতি এনামুল ও নিলয় জিম্মি আছে।

জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি আমাদের নজরে পড়েনি। এমন কিছু ঘটে থাকলে পরিবারের লোকজন দূতাবাসের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন।

জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকুন নুর বলেন, কেউ আমার কাছে কোনো অভিযোগ করেননি বা জানাননি। আমি বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। সরকারি নীতিমালা মেনে বৈধ প্রক্রিয়ায় কেউ প্রবাসে গিয়ে বিপদে পড়লে বা কোনো সমস্যা হলে সেটি দেখার সুযোগ থাকে। তারপরও বিষয়টি খোঁজ-খবর নেওয়া হবে।

আমার বার্তা/এমই

কাস্টমস কর্মকর্তাকে অটোরিকশা থেকে ফেলে হত্যা করে ছিনতাইকারীরা: র‍্যাব

কুমিল্লায় কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীকে একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র যাত্রীবেশে ফাঁদে ফেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে

৩ টন সমপরিমাণ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ, এআই দিয়ে কণ্ঠ নকল করে প্রতারণা

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনপ্রিয় ব্যক্তিদের কণ্ঠ নকল করে ওষুধ বিক্রির

অনলাইনে আয়ের ফাঁদ, সিআইডির অভিযানে চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘সাব্রিনা ইসলাম’ নামে এক তরুণীর ভুয়া পরিচয়। এরপর ‘এটমিক মার্কেট’ নামের একটি অনলাইন

বাবা-ছেলে মিলে শ্যালকের পরিবারের চারজনকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩ জন

নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এছাড়া তাদের কাছ
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ ৯ অ্যাপ-সফটওয়্যার চালু ডিএমপির

বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি

সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী, গেজেট বৃহস্পতিবার

লিটারে ৪ টাকা বাড়লো বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা ধারণ করি, বিক্রি করি না: শামা ওবায়েদ

প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে বছরে প্রায় ৬৭ জনের মৃত্যু ঘটে

অবশেষে ছাড় দিলো বিসিবি, পিএসএল ফাইনাল খেলতে যাচ্ছেন নাহিদ রানা

সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব সরকারি দলের

মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নির্ভুল তালিকা প্রণয়নে সরকারের কার্যক্রম শুরু

রূপপুর প্রকল্পে ৯০% ঋণ রাশিয়ার, ২৮ বছরে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ

বেলারুশের কৃষিখাতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ

জুলাই থেকে বিনামূল্যে ড্রেস, ব্যাগ ও জুতা পাবেন শিক্ষার্থীরা: শিক্ষামন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

নতুন কুঁড়িতে আট খেলায় ১ লাখ ৬০ হাজার কিশোর-কিশোরী

বিশ্বকাপে তারকাদের নিষেধাজ্ঞামুক্ত রাখতে নিয়ম বদলে ফেলল ফিফা

বিরোধী দলের অসুস্থ এমপি রবিউল বাশারের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী

খাল খননে বাড়বে কর্মসংস্থান, ফিরবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য: পানিসম্পদমন্ত্রী

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি যেন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নতি না হয়

শ্রম আইন সংশোধন নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূতের আলোচনা

মৌলিক সুবিধা দেশের সব অংশেই গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী