ই-পেপার বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা

আমার বার্তা অনলাইন:
০২ জুন ২০২৬, ১৭:৫২

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা খেলাপি ঋণ। নানা সময় ঋণ পুনঃতফসিল, বিশেষ সুবিধা, ছাড় ও নীতিগত সহায়তা দেওয়া হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বরং ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে এসে সংকট আরও গভীর হয়েছে। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে প্রায় ৩১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ফলে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চ ২০২৬ ভিত্তিক শ্রেণিকৃত ঋণ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা শ্রেণিকৃত ঋণ। অর্থাৎ মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মাত্র তিন মাস আগে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশ। সে হিসাবে এক প্রান্তিকে শ্রেণিকৃত ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা এবং হার বেড়েছে ১ দশমিক ৬৬ শতাংশ পয়েন্ট। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ২০২৫ সালের মার্চে এ হার ছিল ২৪ দশমিক ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শ্রেণিকৃত ঋণের হার বেড়েছে ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ পয়েন্ট।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকার ঋণের মধ্যে ৩২ টাকার বেশি আদায়-ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এটি শুধু ব্যাংক খাতের সংকট নয়; বরং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও একটি বড় সতর্কবার্তা।

ব্যাংকের মূল কাজ হলো আমানত সংগ্রহ করে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ বিতরণ করা। কিন্তু ঋণের বড় অংশ আটকে গেলে নতুন বিনিয়োগ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা কমে যায়। ফলে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬ শেষে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার ১০৬ কোটি টাকা। ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে যা ছিল ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৯ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা।

বর্তমানে মোট ঋণের বিপরীতে খেলাপি ঋণের হার ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ। তিন মাস আগে যা ছিল ২৯ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর এক বছর আগে, ২০২৫ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ২ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, শ্রেণিকৃত ঋণের বড় অংশই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্চ ২০২৬ শেষে ‘মন্দ বা ক্ষতিজনক’ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা মোট শ্রেণিকৃত ঋণের ৯৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

অর্থাৎ সমস্যাগ্রস্ত ঋণের প্রায় পুরো অংশই এমন অবস্থায় রয়েছে, যেখান থেকে অর্থ আদায়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত সীমিত। ফলে ভবিষ্যতে ব্যাংকগুলোর ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

‘স্পেশাল মেনশন অ্যাকাউন্ট’ (এসএমএ) বা সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণও দ্রুত বাড়ছে। মার্চ ২০২৬ শেষে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ১২০ কোটি টাকা, যা ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা।

অর্থাৎ মাত্র তিন মাসে এসএমএ ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৭৪৬ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঋণের বড় অংশ ভবিষ্যতে খেলাপিতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্ভাব্য ক্ষতির বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে যে অর্থ সংরক্ষণ করতে হয়, তাকে প্রভিশন বলা হয়। মার্চ ২০২৬ শেষে প্রয়োজনীয় প্রভিশনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৭১৪ কোটি টাকা। বিপরীতে সংরক্ষিত রয়েছে মাত্র ২ লাখ ৫৬ হাজার ৪৯ কোটি টাকা।

ফলে প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকা, যা তিন মাস আগে ছিল ১ লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক প্রান্তিকে ঘাটতি বেড়েছে ১৪ হাজার ২২৪ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় ঘাটতি ব্যাংকগুলোর প্রকৃত আর্থিক সক্ষমতা ও মূলধন ভিত্তির ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করছে।

ব্যাংকভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। মার্চ ২০২৬ শেষে এসব ব্যাংকের মোট ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৫ শতাংশই শ্রেণিকৃত। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকার ঋণের প্রায় ৪৬ টাকাই সমস্যাগ্রস্ত।

অন্যদিকে বেসরকারি ব্যাংকগুলোতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তাদের শ্রেণিকৃত ঋণের হার দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ১১ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে দেশের সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ এখন বেসরকারি ব্যাংকগুলোর কাছেই রয়েছে।

বিদেশি ব্যাংকগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে ভালো। সেখানে শ্রেণিকৃত ঋণের হার মাত্র ৪ দশমিক ৮২ শতাংশ। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ঋণ মূল্যায়ন ও করপোরেট সুশাসনের ক্ষেত্রে তারা এখনও তুলনামূলক কার্যকর অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্বল ঋণ মূল্যায়ন, রাজনৈতিক প্রভাব, অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যবসা-বাণিজ্যে ধীরগতি, উচ্চ সুদের হার এবং পুনঃতফসিল সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়া—এসব কারণ খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি অনেক ব্যাংকে সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ঘাটতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

খেলাপি ঋণের বর্তমান পরিস্থিতি নতুন বিনিয়োগে অর্থায়ন, ব্যাংকের মুনাফা, মূলধন সক্ষমতা এবং আমানতকারীদের আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে নতুন করে মূলধন জোগানের প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে।

মার্চ ২০২৬ শেষে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের চিত্র স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে, খেলাপি ঋণ এখন আর কেবল ব্যাংকিং খাতের সমস্যা নয়; এটি অর্থনীতির জন্য একটি কাঠামোগত ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। মোট ঋণের এক-তৃতীয়াংশের বেশি শ্রেণিকৃত, খেলাপি ঋণ ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং প্রভিশন ঘাটতি ২ লাখ কোটি টাকার ওপরে পৌঁছেছে।

এ অবস্থায় ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ঋণ বিতরণ, কঠোর ঋণ আদায় ব্যবস্থা এবং কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হবে। অর্থনীতির পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য একটি শক্তিশালী ব্যাংকিং খাত অপরিহার্য। তাই খেলাপি ঋণের বর্তমান ঊর্ধ্বগতি নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আমার বার্তা/এমই

চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী

রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা চালের বাজার পরিদর্শন শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, বাজারে চালের দাম ও সরবরাহ

তিন দিনে ইসলামী ব্যাংককে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

তারল্য সংকট মোকাবিলায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে আরও ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে

রাশিয়া থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ইউরিয়া সার আনবে সরকার

ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সার সরবরাহকারী দেশগুলোতে উৎপাদন, পরিবহন ও লজিস্টিক সংকট দেখা দেওয়ায় রাশিয়া

৬.৫ শতাংশের পরিবর্তে ৩.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিচ্ছে ফিচ

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের প্রাক্কলনকে অতি-আশাবাদী বলে মনে করছে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্মার্ট গ্রীন সিটি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন কবীর আহমেদ ভূঁইয়া

সংসদে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বকাপ ম্যাচে যে কারণে মাটিতে রাখা হয়নি সৌদি আরবের পতাকা

একদিনে হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

মাদক, ছিনতাই ও কিশোর গ্যাং দমনে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

হঠাৎ কেন ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের জন্য টাকা নিচ্ছে মেটা

মিয়ানমারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে রোহিঙ্গা প্রত‌্যাবাসন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদক কারবারি, চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের নির্দেশ ডিএমপি কমিশনারের

সামান্য বরাদ্দে সরকারের ২০৩০ সালের জ্বালানি রূপান্তর লক্ষ্য অসম্ভব

তিস্তায় আরেকটি ব্যারাজ নির্মাণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে: প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কলেজ-মাদ্রাসায় অধ্যাপক পদে শূন্যপদের তথ্য চেয়েছে মাউশি

দেশের ৭৫টি কারাগারে ধারণক্ষমতার ১.৭ গুণ বন্দি আটক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বেগম রোকেয়া পদক দিতে শিক্ষা খাতের যোগ্য নারীদের খুঁজছে সরকার

পররাষ্ট্রনীতির প্রধান লক্ষ্য কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা

ব্যাটিং ব্যর্থতায় অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

ইংলিশ চ্যানেলে রাশিয়ার গুলিবর্ষণ, বেপরোয়া বললেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

চালের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি বর্তমানে যথেষ্ট স্থিতিশীল: বাণিজ্যমন্ত্রী

৫ বছরের মধ্যে কর জিডিপি অনুপাত ১০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে

স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে: তথ্যমন্ত্রী

সীমান্তে হত্যা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিএসএফকে জোরালো প্রতিবাদ