
গাজায় জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে দুই শিশু। অবরুদ্ধ উপত্যকায় দখলদার ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ধারাবাহিকতায় ঘটলো বর্বরোচিত এই ঘটনা। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) গাজার চিকিৎসা সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
চিকিৎসা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার কামাল আদওয়ান হাসপাতালের কাছে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করছিল এমন বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শিশু নিহত হয়।
জ্বালানির তীব্র সংকটের কারণে ঠান্ডা মোকাবিলায় অনেক ফিলিস্তিনিকে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহে বের হতে হচ্ছে। গাজায় বর্তমানে রাতে তাপমাত্রা নেমে যাচ্ছে প্রায় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের অবস্থা আরও শোচনীয়। পাতলা ক্যানভাস ও প্লাস্টিকের তৈরি এসব আশ্রয়কেন্দ্র প্রবল বাতাস ও বৃষ্টির হাত থেকে তেমন সুরক্ষা দিতে পারছে না। এ অবস্থার মধ্যেই ইসরায়েল ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে বা সীমিত করে রেখেছে। তাঁবু, মোবাইল ঘর কিংবা তাঁবু মেরামতের উপকরণ প্রবেশে বিধিনিষেধ আরোপ যুদ্ধবিরতি চুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতার লঙ্ঘন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েল তা লঙ্ঘন করেছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় চার শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক হাজারের বেশি আহত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭১ হাজার ছাড়িয়েছে এবং আহত হয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
এদিকে, শীতজনিত কারণে গাজায় শিশু মৃত্যুর ঘটনাও বাড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি শীত মৌসুমে ঠান্ডাজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। সর্বশেষ তিন মাস বয়সী আলী আবু জুর নামে এক শিশু আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে মারা যায়।
সূত্র: আল-জাজিরা
আমার বার্তা/এল/এমই

