
বিবিসির প্রখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি আর নেই। আজ রোববার দিল্লির একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন তিনি বিবিসির হয়ে কাজ করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে বিবিসি রেডিওতে পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যাযজ্ঞ আর বাঙালির দুর্দশার প্রকৃত চিত্র মার্ক টালি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেন তিনি। তিনি ছিলেন বাংলাদেশিদের জন্য অকৃত্রিম বন্ধু।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্ক টালির মৃত্যুর বিষয়টি তাদের নিশ্চিত করেছেন তার সাবেক সহকর্মী সতীশ জ্যাকব।
ব্রিটিশ-ভারতীয় মার্ক টালি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সংবাদদাতা ছিলেন। বিবিসি রেডিওতে তার পরিবেশিত খবর ছিল দেশের মানুষের মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ জানার গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৩৫ সালের ২৪ অক্টোবর কলকাতার টালিগঞ্জে জন্ম নেওয়া মার্ক টালি পেশাগত জীবনের বড় অংশ কাটিয়েছেন ভারতে। টানা ২০ বছর তিনি নয়াদিল্লিতে বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা ছিলেন।
বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে মূলত খবর সংগ্রহ করেছেন তিনি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের খবর সংগ্রহ করতে তিনি একাত্তরের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসেছিলেন বলে বিবিসি বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে।
সেই প্রথম এবং শেষ বারের মতো পাকিস্তানী সরকার দু্ইজন সাংবাদিককে বাংলাদেশে আসার অনুমতি দিয়েছিল। মার্ক টালি বলছিলেন, ১৯৭১ সালের সেই সফরে তিনি ঢাকা থেকে সড়ক পথে রাজশাহী গিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানী সেনাবাহিনী যখন সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছালো এবং তারা মনে করলো যে পরিস্থিতির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আছে, তখনই তারা আমাদের আসার অনুমতি দিয়েছিল। আমার সাথে তখন ছিলেন ব্রিটেনের টেলিগ্রাফ পত্রিকার যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা ক্লেয়ার হলিংওয়ার্থ।’
বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু স্বাধীনভাবে ঘুরে বেরিয়ে পরিস্থিতি দেখার সুযোগ পেয়েছি; সেজন্য আমাদের সংবাদের বিশেষ গুরুত্ব ছিল। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ হয়েছে। আমি ঢাকা থেকে রাজশাহী যাবার পথে সড়কের দু’পাশে দেখেছিলাম যে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে সহযোগিতার মাধ্যমে বিশেষ ভূমিকা রাখায় মার্ক টালিকে ২০১২ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ দিয়েছে বাংলাদেশ। বিবিসি থেকে অবসরে যাওয়ার পরে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন তিনি।
আমার বার্তা/এমই

