
কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইরানি সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে নতুন বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্রে কুয়েতের আরেকটি মার্কিন পরিচালিত ঘাঁটিতে নতুন ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে ‘অপারেশন থান্ডার’-এর ২৬তম ধাপের সফল বাস্তবায়নের দাবিও করেছে তেহরান।
ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে চালানো মার্কিন সামরিক হামলার জবাবে অপারেশন সায়েকেহ (বজ্রপাত)-এর ২৭তম ধাপে কুয়েতের ওই ঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে কেশম দ্বীপের একটি আবাসিক বাড়িতে মার্কিন বিমান হামলার ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
স্থানীয় এক কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়, কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় একটি পরিবারের মা, বাবা ও তাদের দুই বছরের ছেলে নিহত হন। ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও দুই শিশুকে জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিহত বাবা পেশায় একজন ট্যাক্সিচালক ছিলেন এবং হামলার শিকার এলাকাটি ছিল শ্রমজীবী মানুষের আবাসিক পাড়া।
বিবৃতিতে বলা হয়, আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে লোইটারিং (আত্মঘাতী) ড্রোন দিয়ে বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ইরানের দাবি, এই ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও নজরদারি অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর লজিস্টিক সহায়তার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি।
অন্যদিকে, ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে উন্নত ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করে পরিচালিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা, নেভিগেশন সিস্টেম এবং প্রশাসনিক সহায়তা ভবন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নিস্ট আগ্রাসনের’ বিরুদ্ধে দেশের প্রতিরক্ষায় অংশ নিয়ে নিহত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ কাজেমির মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবেই এ হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ইরানের সু–২৪ যুদ্ধবিমানের একজন পাইলট ছিলেন।
ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত সামরিক স্থাপনা। এটি মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি বিমানের প্রধান ঘাঁটি এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোনের যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহের একটি বড় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ইরানের দাবি, জুলাইয়ের শুরু থেকে ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে হামলা চালিয়ে আসছে। এর জবাবে অপারেশন নাসর-২ এবং অপারেশন সায়েকেহ-এর আওতায় অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে।
ইরানি সেনাবাহিনী কেশম দ্বীপে বেসামরিক বাড়িতে মার্কিন হামলার নিন্দা জানিয়ে একে ‘মানবিক নীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ এবং ‘আরেকটি যুদ্ধাপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি, হতাহত ও আহতের তথ্য জনসমক্ষে আসা ঠেকাতে মার্কিন প্রশাসন কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে। এ তথ্য প্রেস টিভির বরাতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতির শেষে ইরান জানায়, এসব সামরিক অভিযান জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের আওতায় আত্মরক্ষার স্বীকৃত অধিকারের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং বিদেশি সামরিক আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

