মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন শুল্কহার নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাতটার কিছুক্ষণ পর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জরুরি বৈঠকটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যমুনার সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের আজাদ মজুমদার জানান, বৈঠকে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব মো. সিরাজ উদ্দিন মিয়া রয়েছেন। এছাড়া বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার হাইরিপ্রেজেনটেটিভ ড. খলিলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা অংশ নিয়েছেন।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আমরা এমন কিছু করব, যার ফলে বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে যে পরিমাণ রপ্তানি করে তার চেয়ে বাড়বে। আমি এটা বলে দিতে পারি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি কমবে না, বরং আরও বাড়বে। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারে পদক্ষেপ নিয়ে শফিকুল আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নতুন শুল্কহার নিয়ে আলোচনা করতে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এ বিষয়ে আমাদের রেসপন্স কী হবে, আমরা মার্কিন প্রশাসনকে কী লিখব, এ নিয়ে বৈঠকে আলোচনা করা হবে।
বর্তমান সরকার খুবই ব্যবসাবান্ধব জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব বলেন, তবে আমি এটুকু বলতে পারি, আজকের বৈঠকে খুব ইতিবাচক কিছু সিদ্ধান্ত আসবে। বর্তমান সরকার খুবই ব্যবসাবান্ধব, খুবই এক্সপোর্টবান্ধব।
গত বুধবার (২ এপ্রিল) ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার দিবাগত রাত ২টা) হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৩৭ শতাংশ করার ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যেখানে বাংলাদেশি পণ্যে এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। একইভাবে আরও অনেক দেশের পণ্যের ওপরও শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
আমার বার্তা/এমই