
সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ শনিবার জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আলোচনা ফ্লোরে (অধিবেশনে) হতে পারে। এখানে না (কার্য উপদেষ্টা পরিষদ)। শপথ না নিলে জামায়াতের রাজপথে নামার ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়েছে। সংসদের প্রথম অধিবেশন কত দিন চলবে, কী কী আলোচনা হবে, কী কী আইন উত্থাপন হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর কত ঘণ্টা আলোচনা হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সিদ্ধান্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ সকাল ১১টায় মুলতবি অধিবেশন হবে। তারপর ১৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি থেকে ২৯ মার্চ থেকে সংসদ আবারও বসবে। পুরো এপ্রিল জুড়েই সংসদ অধিবেশন চলবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিশেষ কমিটির উদ্দেশ্য হলো মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি গঠনের আগে ঐতিহ্য অনুযায়ী বিশেষ কমিটি গঠিত হয়। এটা কালকেই আইনমন্ত্রী উত্থাপন করবেন। অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই–বাছাই করে রিপোর্ট আকারে সংসদে উত্থাপিত হবে। এ অধিবেশনে অবশ্যই সম্ভব।’
সংবিধান সংস্কার পরিষদের আলোচনার বিষয়ে জামায়াতের আন্দোলনের ঘোষণার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বিএনপি কী ভাবছে সংসদে বলব। সংসদ সমস্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।’
বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আমরা আমাদের বক্তব্য অবশ্যই দেব। আমরা কোন কারণে ওয়াকআউট করেছিলাম, কোন কারণে মনে করেছিলাম রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দেওয়া অনুচিত, আমরা ধন্যবাদ দেব না (রাষ্ট্রপতিকে), আমাদের বক্তব্যটা বলব।’
সংবিধান সংস্কার বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে বিরোধী দলীয় নেতা সময়মতো এ আলোচনার প্রসঙ্গ তুলবেন।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণভোটের রায় যেহেতু সংস্কারের পক্ষে এসেছে। রাষ্ট্রপতির সংসদ অধিবেশনের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। সরকার দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল সংসদে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। এটা সরকার দলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন। সেটা আমরা সংসদে জানতে চাইব। সরকার দলের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা করণীয় ঠিক করব। আমরা চাইব এ সংসদ যত দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপ নেয়।’
আমার বার্তা/এমই

