
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি বলেছেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে পর্যায়ক্রমে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসা হবে। এরপর আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোকে এই পর্যায়ক্রমে আনতে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঈদুল ফিতরের সময় দুই/তিনটি দুর্ঘটনা একটু বড় ঘটেছে। একটা হচ্ছে আরিচাতে বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে, বগুড়ায় গাড়ির সিলিন্ডার বাস্ট হয়ে চারজন মারা গিয়েছিল, রেলের একটা দুর্ঘটনা ঘটেছে কুমিল্লায়। ১২ জন মারা গিয়েছিল ক্রসিংয়ের সিগন্যাল না থাকার কারণে। তবে আমরা মোটামুটিভাবে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনক, আমরা হয়ত সেফটিটা এনসির করতে পারিনি, এবার আমরা যেটা চাচ্ছি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসতে।
রবিউল আলম রবি বলেন, রাস্তার প্রশস্ত করার চাহিদা বাংলাদেশে আছে। এই দুই মাসে মেম্বার অব পার্লামেন্টের যে ডিও দিয়েছে তাতে ৩ লাখ কোটি টাকা লাগবে এই রাস্তা সম্প্রসারণ করার জন্য। বাজেটে পাবেন আপনি সর্বোচ্চ হয়ত ৪০ হাজার কোটি টাকা। এটা আমার ধারণা। বিগতদিনের কথা বলে বলছি। এই বাজেটে কি পাব জানি না। এখন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের একটা সিলেক্ট করে কাজ করতে হবে। আমরা সেই জায়গায় স্বচ্ছতার সঙ্গে, নিরপেক্ষভাবে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি।
জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনার বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করেন। সরকারের যে পরিকল্পনা বা নীতি গ্রহণ করেন বা যে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য গৃহীত হয়। সেটা মাঠ পর্যায়ে তারা কার্যকর করেন। সেক্ষেত্রে কার্যকর করতে গিয়ে তারা যে সমস্ত পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। সেগুলো তারা শেয়ার করেছেন। কিছু প্রশ্ন, প্রত্যাশা ও দাবি তাদের আছে। সেটা আমরা শুনেছি এবং সেগুলো কীভাবে সমাধান হবে বা কতগুলো ইতোমধ্যে হয়েছে। সেগুলো তাদের জ্ঞাত করা হয়েছে। আবার আমরাও কোনো প্রকল্প অথবা সরকারের যে উন্নয়ন প্রকল্প যেগুলো আছে, বিশেষ করে আমার অধীনে যে তিনটি মন্ত্রণালয় আছে, সেই জায়গায় কাজ করতে গিয়ে তাদের যে সহযোগিতা দরকার এফিশিয়েন্সি দরকার। সেটা আমরা তাদের কাছে চেয়েছি এবং তারাও করছে এবং আরো গতি দিয়ে আগামীতে করবে বা করার করতে পারবে সক্ষম হবে। সেগুলো বিষয়ে একটি সমন্বয় সভা হয়েছে।
হাইওয়েতে থ্রি-হুইলার চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা আমাদের আছে। তবে আমাদের হাইওয়েগুলো এখনো পুরোপুরি সুরক্ষিত (প্রটেক্টেড) নয়। আমরা এখনো হাইওয়েতে থ্রি-হুইলারের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ (রেস্ট্রিক্টেড) করতে পারিনি। এর প্রধান কারণ হলো, সড়কের যেকোনো জায়গা দিয়ে ছোটখাটো সংযোগ রাস্তা রয়েছে। যার ফলে এটা হয়ত নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কিন্তু আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এটা একটু নিয়ন্ত্রণ বেশি করা গিয়েছে। পর্যায়ক্রমে এটাকে কীভাবে করা যায়, সেই ব্যবস্থাগুলো নিয়ে কথা বলা হয়েছে। আশা করছি যে পর্যায়ক্রমে এটা নিয়ন্ত্রণ হবে। কারণ থ্রি হুইলার যেভাবে চলছে, সেটা চলতে পারে না।
ট্রেনের মধ্যে পাথর ছুড়ে মারা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রোড সেফটির জন্য এটা খুবই ভয়ংকর এবং এই প্রাকটিসটা আছে। এটা বন্ধ করার জন্য আমরা ডিসিদের আরও তৎপর হতে বলেছি এবং আমাদের যারা আছেন বিশেষ করে, রেলওয়েতে যারা আছেন। রেলওয়ে পুলিশ, গার্ড রেলওয়েতে যারা আছেন নিরাপত্তা বাহিনী তাদের আরও তৎপর করছি। জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার। দেখা গেল, খেলা করতে করতে বাচ্চারা গ্লাসে ডিল ছুঁয়ে মারছে। কে গ্লাসে লাগাতে পারে এই প্রচেষ্টাও আছে। ওই অঞ্চলে মানুষকে সচেতন করা, সজাগ করা সেটাও একটা অংশ সবভাবে চলছে।
চাঁদাবাজি নিয়ে সড়কমন্ত্রী বলেন, সড়কে চাঁদাবাজি নিয়ে এর আগেও অনেকবার কথা বলেছি। আমি আবারও আপনাদের বলতে চাই চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। চাঁদাবাজি একটি অপরাধ, যারা চাঁদাবাজি করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোপূর্বে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। আরও পর্যায়ক্রমে, যে বিচ্ছিন্ন যেগুলো আছে, সেগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনার একটি চেষ্টা আছে।
আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে মহাসড়কগুলোর যানজটের বিষয়ে তিনি বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে যানজট কীভাবে এড়ানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
সড়কমন্ত্রী বলেন, গত ঈদে চন্দ্রাতে একটা চাপ ছিল। ঢাকা-সিলেট সড়ক নির্মাণাধীন সড়ক ব্যাপক হারে কাজ চলছে। তার মধ্য দিয়ে ঢাকা সিলেট সড়ক আমরা মনে হয় ভালো ম্যানেজমেন্ট করতে সক্ষম হয়েছে। খুব বেশি যানজট হয়নি। ঢাকা-সিলেট সড়কে, ঢাকা-চিটাগাং ভালো ছিল। ঢাকা-খুলনা ভালো ছিল। ঢাকা-আরিজা ভালো ছিল। ঢাকা-রংপুরে ভালো ছিলো। চন্দ্রাতে যমুনা সেতুটা আপনি জানেন যে একটু ন্যারো। যে গাড়ির চাপ প্রতিদিন প্রায় ৫১ হাজার গাড়ি পার করতে হয়েছে যমুনা সেতুতে। তখন একটু চাপ হয়ে যায়। তো ওখানে আমরা বেশ কিছুটা চাপ অনুভব করেছে। একেবারে স্থবির হয়নি। থেমে থেমে গিয়েছে এবার সেখানের জন্য আমরা চন্দ্রার ওই জায়গাটাতে বেশ কিছু দখল আছে, আরেকটু প্রশস্ত করা, আরেকটু শৃঙ্খলার সাথে যত ডাইভার্ট করা আর গতবার আরেকটা প্রবলেম আমার কাছে মনে হয়েছে যে বেশি ট্রাক, লরি, কাভার ভ্যান এগুলো নিষেধ ছিল প্রথম চারদিন, কিন্তু তা সেটা মাঠ পর্যায়ে ওই অঞ্চলে কার্যকর করা যায়নি।
তিনি বলেন, এবার আরও একটু চ্যালেঞ্জ হবে, কারণ গরুর বহনকারী প্রচুর ট্রাক আসবে। গতবার দেড় কোটি ছিল। ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে যাওয়ার যাত্রী আর এবার আড়াই কোটি হয়ে যাবে প্রায়। এক কোটি গরু মুভ করবে অর্থাৎ চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি। যানভনের চাপ আরও বেশি হবে। সেজন্য আমরা কাজ করছি আশা করছি। সব প্রতিবন্ধকতা আছে, চ্যালেঞ্জ আছে, এটা আপনারাও জানেন, সমাধান একেবারে এখনই সেরকমও না। সামর্থ্যের মধ্যে শতভাগ কীভাবে সফল হওয়া যায় এই চেষ্টাতে আমাদের কোনো ঘাটতি নেই বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
আমার বার্তা/এমই

