
ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এতে আনুষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত হলো।
প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে তার পদত্যাগের ফলে সরকারের মন্ত্রিসভায় সদস্য সংখ্যা দাঁড়াল ৫০ জনে। মন্ত্রিসভায় বর্তমানে প্রতিমন্ত্রী ২৩ জন এবং প্রধানমন্ত্রীসহ পূর্ণ মন্ত্রী ২৭ জন।
গতকাল সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন আহমেদ আযম খান।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যার দিকে ইশরাক লিখিত পদত্যাগপত্র দেওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী তার পদত্যাগপত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপতি তা গ্রহণ করার পর আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে 'মাদকবিরোধী অভিযান' চালিয়ে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্য।
অভিযানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
ঘটনার জের ধরে গত রোববার বিকেলে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকে পদত্যাগের কথা জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, আত্মরক্ষার স্বার্থেই তিনি সাময়িকভাবে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন এবং কোনো আইন লঙ্ঘন করেননি। তবে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখতেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদে না থাকলেও সাধারণ দলীয় কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে নিজের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।

