
ইসলামের দৃষ্টিতে মা-বাবার আদেশ মান্য করা জরুরি। ইসলামে বাবার তুলনায় মাকে বেশি সম্মান দেওয়া হয়েছে। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, একবার এক লোক এসে রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলো, ‘আমার থেকে সদাচরণ পাওয়ার সর্বাধিক অধিকার কার?’ তিনি বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সে আবারও একই প্রশ্ন করলো। তিনি দ্বিতীয়বারও উত্তরে বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সে আবারও একই প্রশ্ন করলে তিনি তৃতীয়বারের উত্তরেও বললেন, ‘তোমার মায়ের।’ সে আবারও একই প্রশ্ন করলে রাসুল (সা.) চতুর্থবার বললেন, ‘তোমার পিতার।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৬২৬)
আরেক হাদিসে এসেছে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম আমল কোনটি? তিনি বললেন; সময়মত সালাত আদায় করা। বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, পিতামাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ। (বুখারি, হাদিস : ৫৯৭০)
এই হাদিসে মায়ের মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে, বাবাকেও সর্বোচ্চ সম্মানের কথা বলা হয়েছে। তবে মা-বাবার আদেশ মানার ক্ষেত্রে আল্লাহর অবাধ্যতার বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। মা-বাবা কখনো আল্লাহর অবাধ্যতার প্রতি আহ্বান করলে তা মানতে নিষেধ করা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, আর আমি মানুষকে নির্দেশ দিয়েছি তার পিতা-মাতার সাথে সদাচরণ করতে। তবে যদি তারা তোমার উপর প্রচেষ্টা চালায় আমার সাথে এমন কিছুকে শরীক করতে যার সম্পর্কে তোমার কোন জ্ঞান নেই, তাহলে তুমি তাদের আনুগত্য করবে না। আমার দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমরা যা করতে আমি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দেব। (সুরা আল-আনকাবূত, আয়াত : ০৮)
অর্থাৎ, মাতা-পিতা যদি শিরক করতে এবং কোনো অন্যায় কাজ ও পাপ করতে আদেশ করে এবং এর জন্য তারা যদি চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের আনুগত্য করা চলবে না।
সাহাবি সাদ (রা.)-এর মাতৃভক্তি ও কোরআনের নির্দেশনা
সুরা আনকাবূতের ৮ নম্বর আয়াতটি নাজিল হয়েছে সাহাবি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)-এর সম্পর্কে। তিনি ইসলামের বিখ্যাত সাহাবিদের একজন। তিনি আশারায়ে মুবাশশারা বা দশ জন জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত সাহাবিদের অন্যতম ছিলেন। তিনি মায়ের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) যখন ইসলাম গ্রহণ করেন তখন তার মা হামনা বিনতে সুফিয়ান ছেলের ইসলাম গ্রহণের কথা জানতে পেরে খুবই মর্মাহত হন। তিনি ছেলেকে শাসিয়ে শপথ করেন, তুমি ইসলাম ছেড়ে পৈতৃক ধর্মে না ফিরলে আমি খাবার-দাবার কিছুই খাবো না। তার মা আরও বললেন, আমি এভাবেই ক্ষুধা ও পিপাসায় মারা যাবো। আর এ কারণে তুমি মানুষের কাছে মায়ের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হেয় প্রতিপন্ন হবে।
এভাবে তিন দিন তিন রাত না খেয়ে থাকলেন সাহাবি সাদ (রা.)-এর মা। তিন দিন পর মায়ের কাছে উপস্থিত হয়ে সাদ (রা.) বললেন, আম্মাজান, যদি আপনার দেহে একশ’ আত্মা থাকত, এবং একটি একটি করে বের হতে থাকত, তা দেখেও আমি আমার দ্বীন ত্যাগ করতাম না। এখন আপনি ইচ্ছা করলে পানাহার করুন অথবা মৃত্যুবরণ করুন। আমি আমার দ্বীন ত্যাগ করতে পারি না। এ কথায় নিরাশ হয়ে তার মাতা অনশন ভঙ্গ করলেন। (বাগভী)

