
পুরো নাম আবুল কালাম ওরফে কালা লিয়াকত । প্রায় দেড় যুগ ধরে একক ভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার সাবরেজিস্টার অফিসটি। তার কথার বাইরে কোন দলিল সম্পাদন হয়না এই অফিসে। দলিল প্রতি নির্দিষ্ট কমিশন দিতে হয় তাকে। এদিকে আবার এই কালা লিয়াকতের মাধ্যমেই প্রতিদিন নিয়মিত মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচেছ খোদ সাবরেজিস্টার স্বয়ং। এই অফিসে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করে ইতিমধ্যে কালা লিয়াকত মালিক বনে গেছে শত কোটি টাকার।
স্থানীয় রাজনীতিতে নিষিদ্ব সংগঠন আওয়ামিলীগের সক্রিয় নেতা হিসাবে ব্যাপক পরিচিতি এই কালা লিয়াকতের৷ তৎকালীন স্থানীয় আওয়ামিলীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় সাবরেজিস্টার অফিসে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল। পাশাপাশি ছিলেন দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদকও। তবে ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর পর গ্রেফতার আতংকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় এই আওয়ামিল নেতা। সর্বশেষ গজারিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রস্তাবিত কমিটিতে সদস্য হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল । বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গনহত্যার একাধিক মামলার আসামি এই লিয়াকত । ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে গ্রেফতার হয়ে মোট আট মামলায় জেল হাজতে ছিলেন প্রায় আট মাস। চলতি বছরের শুরুতে জামিনে বের হয়ে স্থানীয় কতিপয় বিএনপি নেতাদের ম্যানেজ করে ফের দখলে নিয়েছে সাবরেজিস্টার অফিসটি ৷ এদিকে ৫ মার্চ নতুন কমিটিতেও তাকে গজারিয়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির ফের সাধারণ নির্বাচিত করা হয়েছে । তবে এলাকায় চাউর আছে তাকে এই পদে আসতে খরচ করতে হয়েছে নুন্যতম বিশ লাখ টাকার উপরে ।নতুন কমিটিতে আসার পরপরই তার অতীত রাজনৈতিক জীবন নিয়ে শোশাল মিডিয়া সরব হয়ে উঠেছিল।এমনকি স্থানীয় বিএনপির অধিকাংশ নেতৃবৃন্দও এর জোড়ালো প্রতিবাদ করেছিল ৷ কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি, লিয়াকতের টাকার কাছে সব কিছুই থেমে গেছে । পর্ব -১
( পরবর্তী পর্বে থাকছে লিয়াকতের নেতৃত্বে দুর্নীতির স্বর্গ রাজ্য গজারিয়ার সাবরেজিস্টার অফিস)

