
বিপিএলে অবিশ্বাস্য এক জয়! আজ এলিমেনেটরে চরম নাটকীয়তা ছড়ানো লড়াইয়ে শেষ হাসি সিলেটের। শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতালেন ক্রিস ওকস। এই হারে বিপিএল থেকে বিদায় নিল রংপুর রাইডার্স।
মিরপুরের শেরেবাংলায় আজ ৩ উইকেটের জয়ে ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল সিলেট টাইটানস। ইতিহাস জানাচ্ছে শেষ বলে ৬ রানের সমীকরণে ছক্কা মেরে দলকে জেতানোর ঘটনা বিপিএলের ইতিহাসে এটিই প্রথম। বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচেই ওকস দেখালেন এমন কীর্তি।
নাটকীয় এই জয়ের নায়ক সিলেটের ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। বল হাতে ৪ ওভারে ১৫ রানে তিনি নেন ২ উইকেট। তারপর ব্যাট হাতে শেষে দেখালেন ম্যাজিক। ৪ বলে অপরাজিত ১০ রান। এরমধ্যে শেষ বলে যখন জিততে দলের চাই ঠিক ৬ রান, তখনই বিস্ময়করভাবে ফাহিম আশরাফের বলে মারলেন ছক্কা। তার পথ ধরেই সিলেটকে কোয়ালিফায়ারে তুললেন ওকস।
শেষ বলে প্রয়োজন ৬ রান। বল হাতে ফাহিম আশরাফ যখন দৌঁড়ে আসছিলেন, রংপুর রাইডার্স হয়তো ততক্ষণে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ছিল। তবে এরপর সব আলো কেড়ে নিলেন ইংলিশ অলরাউন্ডার ক্রিস ওকস। ফাহিমের করা বল কভারের ওপর দিয়ে সীমানা ছাড়া করে সিলেটকে এনে দিলেন শ্বাসরুদ্ধকর এক জয়।
বিপিএলে আজ এলিমিনেটর ম্যাচে টসে জিতে রংপুরকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সিলেট। সিলেট অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করলেন বোলাররা। নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ১১১ রানেই থেমে গেল রংপুরের পথচলা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করতে হয়েছে সিলেটকে। শেষ বলের নাটকীয়তায় ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
১১২ রানের ছোট লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আসা যাওয়ার মিছিলে ছিল সিলেটের ব্যাটাররা। স্যাম বিলিংসের ২৯, মিরাজ ও পারভেজ হোসেন ইমনের ১৮ রান ছাড়া আর কেউই তেমন সফল হতে পারেননি। ছোট পুঁজি নিয়েও মুস্তাফিজুর রহমান ও আলিস আল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচ টিকিয়ে রেখেছিল রংপুর।
শেষ ওভারে সিলেটের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। প্রথম পাঁচ বলে ফাহিম আশরাফ রান দিয়েছিলেন মাত্র ৩। ইনিংসের পঞ্চম বলে দুই রান নেওয়ার সুযোগ থাকলে খালেদ আহমেদকে ফিরিয়ে দিয়ে নিজে স্ট্রাইকপ্রান্তে থাকার সিদ্ধান্ত নেন ওকস। এরপর যা ঘটলো তার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না কেউ৷ শেষ বলে ছক্কা হাঁপিয়ে ওকস সিলেটকে নিয়ে গেলেন দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে।
এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে সিলেটের বোলারদের দাপটে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে রংপুর৷ দলীয় ৭ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা তাওহীদ হৃদয়। তার পরের ওভারেই ডেভিড মালানকে ফেরান তারই স্বদেশী ক্রিস ওকস। অধিনায়ক লিটন কুমার দাসও এদিন ব্যর্থ হয়েছেন ব্যাট হাতে। করেছেন মাত্র এক রান৷ কাইল মায়ার্সও ফিরে যান ৮ রান করে।
২৯ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা রংপুরকে টেনে তোলার চেষ্টা করেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ৷ খুশদিল ১৯ বলে ৩০ ও মাহমুদউল্লাহ ২৬ বলে ৩৩ রান করে ফিরে গেলে ম্যাচে ফেরার শেষ আশাটুকুও নষ্ট হয় রংপুরের। এরপর নূরুল হাসান সোহানের ১৮ রানে ভর করে ১১১ তেই থামে রংপুরে পথচলা।
রংপুরের এমন ব্যাটিং ধসে পেছনে যিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন তিনি খালেদ আহমেদ। ৪ ওভার বল করে ৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট। এছাড়া নাসুম আহমেদ ও ক্রিস ওকস নিয়েছেন দুটো করে উইকেট। এদের সবারই ইকোনমি রেট ছিল ৪ এর নিচে।
২০১৭-১৮ মৌসুমে বিপিএলের ৫ম আসরে সর্বশেষ শিরোপা জিতেছিল রংপুর। এরপর ব্যাপক জনপ্রিয়তা কুড়ালেও শিরোপা ঘরে তোলা হয়নি দলটির। এবারের আসরেও ফিরতে হলো খালি হাতেই। সিলেট টাইটানসের বিপক্ষে হেরে এলিমিনেটর থেকেই বিদায় নিতে হলো লিটনের দলের।
পয়েন্ট টেবিলে চার নম্বরে থেকে প্লে অফে জায়গা করে নিয়েছিল সিলেট। রংপুর ছিল তিন নম্বরে। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে সিলেট খেলবে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুখোমুখি হওয়া পরাজিত দলের বিপক্ষে। নিজেদের প্রতিপক্ষ কারা হবে সেটা জানতে সিলেটকে চোখ রাখতে হবে আজ সন্ধ্যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যকার প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচের দিকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর-
রংপুর: ২০ ওভারে ১১১/৯ (মাহমুদউল্লাহ ৩৩, খুশদিল ৩০; খালেদ ৪/১৪, ওকস ২/১৫, নাসুম ২/১২)
সিলেট: ২০ ওভারে ১১২/৭ (বিলিংস ২৯, ওকস ১০*; আলিস ১৮/২, মুস্তাফিজ ২/২০)
ফল: সিলেট ৩ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা: খালেদ আহমেদ
আমার বার্তা/এমই

