
পিটার বাটলার অবাক করা সিদ্ধান্ত নেন প্রায় হরহামেশাই। তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সাহসী প্রমাণিত হয়। বাংলাদেশ এশিয়ান কাপে যত বড় দলের বিপক্ষেই খেলুক না নিজের দর্শন থেকে সরে আসবেন না — এমনটা আগেই বলেছিলেন তিনি।
আজ যখন ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশ, ঠিক তখনই হাজির হলেন চমক নিয়ে। জাতীয় দলের খেলা মানেই গোলবারের নিচে রুপনা চাকমার থাকা ছিল অবধারিত। সেই চিরচেনা ধারাটা ভাঙলেন বাংলাদেশ কোচ। তাও নারী এশিয়ান কাপের সর্বোচ্চ শিরোপাধারী দল চীনের বিপক্ষে।
অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার আগে রুপনার পারফরম্যান্স যে খারাপ ছিল তা কিন্তু নয়। লিগে এক ম্যাচেও তিনি গোল হজম করেননি। সবগুলোতেই রেখেছেন ক্লিন শিট। তবু চীনের বিপক্ষে প্রথম পছন্দের গোলরক্ষক ছিলেন না তিনি। উল্টো তাঁর পরিবর্তে খেলালেন মিলি আক্তার। যে মিলি আজ চীনের সামনেই দৃঢ়তা দেখালেন চীনের বিখ্যাত প্রাচীরের মতো।
হেরেও চ্যাম্পিয়ন চীনের কুর্নিশ পেল বাংলাদেশহেরেও চ্যাম্পিয়ন চীনের কুর্নিশ পেল বাংলাদেশ
এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ এখনো জানা না গেলেও তা ম্যাচ দেখেই উপলব্ধি করে ফেলার কথা। বাংলাদেশ ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার ম্যাচে ২–০ গোলে হেরেছে বটে, কিন্তু মন জয় করে নিয়েছেন মিলি আক্তার। ১১ টি অনটার্গেট শটের মধ্যে ৯ টি শটই ঠেকিয়েছেন তিনি। র্যাঙ্কিংয়ের ৯৫ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স দেখাবেন ১৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক, তাও নিজের প্রথম ম্যাচে— একেবারেই অকল্পনীয়।
ময়মনসিংহ থেকে উঠে আসা মিলির প্রশংসায় তাই ম্যাচ শেষে বাটলার বলেন, ‘বাংলাদেশের নারী ফুটবল গোলকিপিংয়ের দিক থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ভুগেছে। আমার মনে হয় মিলি আজ রাতে অসাধারণ খেলেছে। সে কিছু ভুল করেছে এবং সামনেও ভুল করবে, কিন্তু আমার মতে সে অনেক ভালো করেছে। আমার ভাবনার পেছনে কারণ এটাই ছিল যে, আমি দলে একটা নতুনত্ব আনতে চেয়েছিলাম। আর এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে আমি মোটেও ভয় পাই না।’
বাটলার ভয় পান না বলেই রুপনাকে বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে। এমন না যে, তাঁর সময়টা খারাপ যাচ্ছিল। কিন্তু সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় উচ্চতা। চীনের ফুটবলাররা এমনিতে উচ্চতায় এগিয়ে। বাংলাদেশে কাবু করতে এরিয়াল ফুটবলই বেছে নেবে তারা। তাই ৫ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার রুপনাকে ছাড়াই একাদশ সাজাতে বাধ্য হন বাটলার, ‘রুপনা সত্যিই খুব ভালো খেলে। সে অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব, কিন্তু ওর উচ্চতা কিছুটা কম। এখন আমি তো আর ওকে কোনো গ্রো ব্যাগে (দ্রুত বৃদ্ধির কৃত্রিম উপায়) ভরে রাখতে পারি না, কিংবা ওকে খাইয়িয়ে কাল সকালেই ছয় ইঞ্চি লম্বা করে দেওয়ার আশাও করতে পারি না।দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমি সব সময় স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রেখেছি। দলে খেলার কোনো জন্মগত অধিকার রুপনার নেই; এমনকি মিলি বা স্বর্ণারও নেই।’
চীনের বিপক্ষে যে খেলবেন তা দেশে থাকতেই জানতেন মিলি, ‘আসলে আমরা এই ম্যাচটার জন্য অনেক পরিশ্রম-কষ্ট করছি। আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করছি, সে জন্য আজকে পেরেছি এতগুলো সেভ দিতে। প্রথমে ধন্যবাদ দেব আমার গোলকিপার কোচ উজ্জ্বল স্যারকে। উনিও আমার পেছনে অনেক শ্রম দিয়েছেন।’
আমার বার্তা/এমই

