
২৩ বছর পর বাংলাদেশকে নিজেদের মাটিতে টেস্ট খেলার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ১৩ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া দুই টেস্টের সিরিজেও অজিরা নিজেদের পুরোনো রীতিতে হাঁটবে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভালো অবস্থান ধরে রাখার লক্ষ্যে যথারীতি শক্তিশালী স্কোয়াড গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে একজন বাদে সবারই বয়স ত্রিশোর্ধ্ব।
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এজ’-এর প্রধান ক্রিকেট লেখক ড্যানিয়েল ব্রেটিগ নির্বাচক প্যানেলের স্কোয়াড গঠন প্রক্রিয়াকে ‘রিস্কি গেম’ বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে– ২০২২ সালে নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান জর্জ বেইলি, প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড এবং নির্বাচক টনি ডোডেমেইড একসঙ্গে বসে বয়স্ক ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে টেস্ট ফরম্যাট পরিচালনার পথে হাঁটতে শুরু করেন।
প্রতি দুই বছর পরপর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার লক্ষ্য–ও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে ইংল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে বড় সিরিজের মাঝখানে অপেক্ষাকৃত কম আলোচিত সিরিজগুলোরও আলাদা গুরুত্ব তৈরি হয়। একইসঙ্গে খেলোয়াড়দের কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করে কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত করারও চেষ্টা করা হয়।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন ও ম্যাকাইয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্টিভ স্মিথ, জশ হ্যাজলউড, মিচেল স্টার্ক, স্কট বোল্যান্ড ও নাথান লায়নের মতো ৩৫ বছরের বেশি বয়সী ক্রিকেটারদের একসঙ্গে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত কিছুটা অস্বাভাবিক বলেই মনে হচ্ছে এই অজি ক্রীড়া লেখকের কাছে। অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা ১২ মাসের কঠিন সূচির আগে মূল টেস্ট দলকে আবার একত্রিত করার পক্ষে যথেষ্ট যুক্তিও রয়েছে।
তবে সম্প্রতি জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে একটি টেস্ট হারা বাংলাদেশের বিপক্ষেও অস্ট্রেলিয়া যদি এমন একাদশ নামায়, যেখানে ৩০ বছরের নিচে মাত্র একজন খেলোয়াড় থাকবে, তাহলে সেটি কিছুটা অস্বস্তিকর বলেই মনে হয়। গত চার বছরে অস্ট্রেলিয়ার এই নীতির আরেকটি দিক হলো, তরুণদের সুযোগ এসেছে মূলত তখনই, যখন দলে চোট বা স্পষ্ট কোনো শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে।
ফলে স্যাম কনস্টাস, নাথান ম্যাকসুইনি ও টড মারফির মতো ক্রিকেটারদের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেই টেস্ট অভিষেক বা সুযোগ পেতে হয়েছে। কখনও জাসপ্রিত বুমরাহর দুর্দান্ত বোলিংয়ের বিপক্ষে, কখনও ইংল্যান্ডের অ্যাশেজ সিরিজের তীব্র চাপের মধ্যে, আবার কখনও ওয়েস্ট ইন্ডিজের অসমান উইকেটে শামার জোসেফের মুখোমুখি হয়ে। এসব অভিজ্ঞতা তাদের জন্য ছিল কঠিন। আর সুযোগ পাওয়ার পরপরই দল থেকে বাদ পড়ায় সেই ধাক্কা আরও বড় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে তরুণ ক্রিকেটারদের অন্তত একজনকে সুযোগ দিলে সেটি কার্যকর হতে পারত। কারণ ট্রাভিস হেড যদি আরেকটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, তাহলে নির্বাচকদের নতুন করে কিছু জানার থাকবে না। একইভাবে স্টিভ স্মিথ যদি আরও দুটি সেঞ্চুরি করেন, সেটিও মূলত তার বর্ণাঢ্য টেস্ট পরিসংখ্যানকেই আরও সমৃদ্ধ করবে।
বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিজ্ঞ দল খেলানোর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য যুক্তি হতে পারে এটিকে এক ধরনের ফিটনেস পরীক্ষা হিসেবে ব্যবহার করা। বিশেষ করে হ্যাজলউড, কামিন্স ও লায়নের জন্য এই সিরিজে নিজেদের পুরোপুরি ফিট হিসেবে প্রমাণ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের আগে টপ এন্ডের এই দুই টেস্ট সে সুযোগ এনে দেবে।
বাংলাদেশ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াড ও তাদের বয়স
নাথান লায়ন (৩৮), স্টিভ স্মিথ (৩৭), স্কট বোল্যান্ড (৩৭), মিচেল স্টার্ক (৩৬), জশ হ্যাজলউড (৩৫), অ্যালেক্স ক্যারি (৩৪), প্যাট কামিন্স (৩৩), ট্রাভিস হেড (৩২), ব্যু ওয়েবস্টার (৩২), মার্নাস লাবুশেন (৩২), জ্যাক ওয়েদারাল্ড (৩১), জশ ইংলিস (৩১) এবং ক্যামেরন গ্রিন (২৭)।
আমার বার্তা/এমই

