বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিনিধিরা যোগাযোগ করে আলোচনায় না বসলে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। আজ রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের নিচতলায় সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এ হুঁশিয়ারি দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আয়তন বাড়ানো, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা—এই তিন দফা দাবিতে ৩৪ দিন ধরে মানববন্ধন, গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তবুও ইউজিসির কোনো প্রতিনিধি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের রাকিব আহমেদ ও আইন বিভাগের শওকত ওসমান বক্তব্য দেন। আমিনুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে, তা ৯ মাসের পরিবর্তে তিন মাসে শেষ করে দ্রুত একনেকে উপস্থাপন ও অনুমোদন করতে হবে। তাঁদের তিন দফা দাবির ব্যাপারে ইউজিসিকে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিতে হবে। এ জন্য তাঁরা ২৪ ঘণ্টা সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছেন। অন্যথা দাবি আদায়ে দক্ষিণবঙ্গ অচলের কর্মসূচি দেওয়া ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ক্যাম্পাসের আশপাশ ক্রমেই বসতবাড়িতে পরিণত হচ্ছে। এখনই ১৫০ একর জমি অধিগ্রহণের যৌক্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও প্রজ্ঞাপন জারি করা জরুরি। অন্যথা ভবিষ্যতে জমি অধিগ্রহণ আরও জটিল হয়ে পড়বে। পরিবহন সমস্যার সমাধানে তাঁরা বলেন, যত দিন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন কেনা না হবে, তত দিন বিআরটিসির বাস দিয়ে শতভাগ পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থী শওকত ওসমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠা করা হলেও এখনো পরিপূর্ণ রূপ পায়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন–সংকট প্রকট। ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র চারটি আবাসিক হল। সেখানে থাকতে পারেন মাত্র দেড় হাজার শিক্ষার্থী। অন্য শিক্ষার্থীদের বাইরে থাকতে হচ্ছে। শ্রেণিকক্ষ–সংকটও তীব্র। সাতটি অনুষদে ২৫টি বিভাগের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য অন্তত ৭৫টি শ্রেণিকক্ষ প্রয়োজন। অথচ রয়েছে মাত্র ৩৬টি। শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক নির্ধারিত ক্লাস বাতিল করতে হচ্ছে। এ ছাড়া শিক্ষক, আবাসন, পরিবহন ও গ্রন্থাগারের সংকটও প্রকট। এতে সেশনজট বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ আগস্ট বিকেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ছয়টি অনুষদের ডিন, ২৫টি বিভাগের বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব সমস্যা সমাধানে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে আশ্বস্ত করেন উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম।
ওই সভায় উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি পুরোপুরি যৌক্তিক। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের কাজটি যাতে দ্রুত হয়, সে ব্যাপারে তাঁরা ইউজিসির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবেন। জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের এখতিয়ার। এ জন্য তাঁরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে কাজটি যাতে দ্রুততার সঙ্গে হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেবেন। আর পরিবহন–সংকট নিরসনে আরও কয়েকটি বিআরটিসি বাস ভাড়া করা হবে।
আমার বার্তা/এল/এমই