ব্রাজিলের ফুটবলার ডেভিড লুইজের বিরুদ্ধে এক নারীকে গুমের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে অভিযোগ করার পর আদালত অভিযোগকারী নারীর জন্য সুরক্ষা আদেশ দিয়েছেন, যাতে লুইজ তাঁর আশপাশে না যেতে পারেন।
৩৮ বছর বয়সী লুইজ চলতি মাসের শুরুতে সাইপ্রাসের ক্লাব পাফোস এফসিতে নাম লিখিয়েছেন। এর আগে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ফোর্তালেজায় ছিলেন তিনি। ওই নারীর অভিযোগ, ফোর্তালেজায় থাকতে লুইজের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তাঁর। ওই সময়ই ইনস্টাগ্রামে হুমকি দেন লুইজ।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম জিওয়ান জানিয়েছে, ফুটবলার লুইজের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা নারীর নাম ফ্রান্সিসকা ক্যারোলাইন বারবারোসা। তিনি একজন সমাজকর্মী, থাকেন সেয়ারা প্রদেশের সেনাদর পম্পেউ শহরে। তাঁর একটি ছেলে আছে।
বারবারোসা ২৫ আগস্ট পুলিশের কাছে অভিযোগে জানান, ফোর্তালেজায় খেলার সময় লুইজের সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এ সময় তিনি খেলোয়াড়টির কাছ থেকে হুমকি পেয়েছেন। পুলিশের অভিযোগের পরদিন আদালতে নিজের সুরক্ষা চেয়ে আবেদন করেন বারবারোসা। বুধবার সিয়ারার কোর্ট অব জাস্টিস রিস্ট্রেইনিং আদেশ দেন, যাতে লুইসের কাছ থেকে বারবারোসার সুরক্ষা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে।
শুক্রবার জিওয়ানের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী নারীর আইনজীবী ফ্যাবিয়ানো টাভোরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। টাভোরা জানান, বারবারেরাসা ফুটবলার লুইজের খরচে ফোর্তালেজায় এসেছিলেন। তাঁরা ইনস্টাগ্রামে কথাবার্তা বলতেন, হুমকিও সেখানেই দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলের আরেক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ব্রাজিল জানায়, তারা লুইজের হুমকি–বার্তার ছবি পেয়েছে।
একটি বার্তায় ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার লিখেছেন, ‘তুমি জানো আমার কাছে টাকা আর ক্ষমতা আছে। তাই চালাকি করার চেষ্টা কোরো না। এটা দুঃখজনক হবে যদি তোমার ছেলেকে তোমার কাজের পরিণতি ভোগ করতে হয়।’ আরেকটি বার্তায় লুইজ হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘আমি চাইলে তোমাকে সহজেই গায়েব করতে পারি। আমার লোক আছে, যে জানে এই মুহূর্তে তুমি কোথায় আছ। আর আমার কিছুই হবে না। তাই এগুলো মুছে দাও।’
আইনজীবী টাভোরা জানান, বারবারোসা লুইসের বার্তাগুলোর পর তার মনে হয়েছিল তাঁর সঙ্গে এলিজা সামুদিওর মতো ঘটনা ঘটতে পারে। ২০১০ সালে গোলরক্ষক ব্রুনো ফার্নান্দেস ডি সুজার হাতে অপহরণের পর খুন হয়েছিলেন সামুদিও। আইনজীবী বলেন, ‘বিষয়টির গুরুত্বের কারণে সুরক্ষা আদেশ খুব দ্রুত জারি করা হয়েছে। তিনি (লুইস) যেভাবে লিখেছিলেন, তাতে হুমকির সুর খুব স্পষ্ট ছিল।’
এ বিষয়ে সাবেক চেলসি ডিফেন্ডারের জনসংযোগ দপ্তর থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যেহেতু এটি একটি বিচারিক গোপনীয়তার অধীনে থাকা মামলা, তাই খেলোয়াড় জনপরিসরে কোনো মন্তব্য করবেন না। লুইজ সত্যের প্রতি তাঁর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিশ্বাস করেন যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ দ্বারা ঘটনাগুলো তদন্ত এবং স্পষ্ট করা হবে।’
আমার বার্তা/এল/এমই