
বঙ্গভবনের প্রধান নিরাপত্তা বেষ্টনীতে আজ সকালে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী। আটক ব্যক্তির নাম মোরসালিন শেখ (৩৫)।
তিনি যশোর জেলার অভয়নগর থানার নাওলি গ্রামের মিটার রিডার মশাররফ হোসেন শেখের পুত্র এবং মাতা পারভীন বেগম। স্থায়ী ঠিকানা গ্রাম নাওলি, পোস্ট সিদ্ধিপাশা, উপজেলা অভয়নগর, জেলা যশোর। পরিবারের বাইরে তার বর্তমান অবস্থান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, অদ্য সকাল ০৮৫০ ঘটিকায় মোরসালিন শেখ পায়ে হেঁটে বঙ্গভবনের প্রধান বেরিকেটের সামনে এসে উপস্থিত হন। এসময় তিনি নিজেকে ‘রাষ্ট্রপতি’ পরিচয় দিয়ে বঙ্গভবনে প্রবেশের দাবি করেন। দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা সদস্যরা তার আচরণ সন্দেহজনক ও অসংলগ্ন মনে করলে তাকে আটকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিরাপত্তা সদস্যদের জানান, তিনি গতকাল রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যশোর থেকে ঢাকা এসেছেন এবং তার মোটরসাইকেল বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় রাখা আছে। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা থাকায় নিরাপত্তা সদস্যরা ধারণা করছেন তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন।
নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, বঙ্গভবনের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন আচরণ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তার পরিচয়, উদ্দেশ্য ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হবে। ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে মতিঝিল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ও সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করায় কোনো অঘটন ঘটেনি। ঘটনাটি নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও তদন্ত করছে বলে জানানো হয়েছে।
বঙ্গভবনের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে কেন্দ্র করে মাঝে মধ্যেই বিভিন্ন কারণে সন্দেহজনক ব্যক্তি বা পরিস্থিতি চিহ্নিত হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর এ ধরনের সতর্কতা স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। আটক মোরসালিন শেখের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থা সম্পর্কে মূল্যায়নের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

