
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে ভোটের মাঠে এরইমধ্যে শুরু হয়েছে প্রচার প্রচারণা। কে কার থেকে বেশি প্রচার চালাতে পারে সেটি নিয়েও চলছে প্রতিযোগিতা। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়ে ব্যস্ত সময় পা করছেন প্রার্থীরা। পাড়া মহল্লায় ছেয়ে গেছে ব্যানার ও ফেস্টুন। তবে প্রচারে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা।
ভোটার পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের প্রচারণা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিটি আসনেই বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে। নারী ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলে এ দুই শ্রেণির ভোটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রচার কার্যক্রমেও বিএনপি ও জামায়াত তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে। ফলে স্থানীয়রা মনে করছেন এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে।
রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী)
এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৩৬২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৭৭ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩৪ হাজার ৭৯ জন এবং তরুণ ভোটার ২৮ হাজার ১৪৪ জন।
এই আসনে বিএনপির মো. শরিফ উদ্দিন, জামায়াতের মো. মুজিবুর রহমান, এবি পার্টির মো. আব্দুর রহমান ও গণঅধিকার পরিষদের মির মো. শাহজাহান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এলাকায় নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক বাড়ায় মূল লড়াই এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বিএনপির মো. শরিফ উদ্দিনের সঙ্গে জামায়াত প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমানের।
রাজশাহী-২ (সদর)
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৬৪ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৯১ হাজার ৩০৫ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৫১ জন এবং তরুণ ভোটার ১৬ হাজার ৭৮১ জন। এখানে বিএনপির মো. মিজানুর রহমান মিনু, জামায়াতের ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরসহ ছয়জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। নগর এলাকায় নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ বেশি হওয়ায় দুই দলের প্রার্থীরাই নারী ভোটারদের কাছে টানতে বিশেষ প্রচার চালাচ্ছেন। এতে করে এই আসনেও বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই মূল লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর)
এখানে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ১৯৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৩০৭ জন, পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১০ হাজার ৮৮৬ জন এবং তরুণ ভোটার ২২ হাজার ৫৬৩ জন। এই আসনে বিএনপির অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, জামায়াতের মো. আবুল কালাম আজাদসহ পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সরাসরি মতবিনিময় সভায় বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীরা বেশি সক্রিয় থাকায় মূল প্রতিযোগিতা তাদের মধ্যেই গড়ে উঠছে।
রাজশাহীর ৬ আসনে লড়াই জমেছে বিএনপি-জামায়াতে
রাজশাহী-৪ (বাগমারা)
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮৬ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৩৫ জন এবং তরুণ ভোটার ৪ হাজার ৪০২ জন। এখানে বিএনপির ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়া ও জামায়াতের ডা. আব্দুল বারী সরদারের পাশাপাশি আরও দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। এলাকায় নারী ভোটারদের উপস্থিতি প্রায় পুরুষের সমান হওয়ায় এই ভোটাররাই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর)
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৩ হাজার ১৭৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭৮ জন এবং তরুণ ভোটার ১৫ হাজার ৯৭৫ জন। এই আসনে বিএনপির অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডল ও জামায়াতের মনজুর রহমানসহ ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এলাকায় তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই সভা-সমাবেশ ও মাইকিং জোরদার করেছে, ফলে এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট)
এই আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৫৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯৩৩ জন, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ১৮ জন এবং তরুণ ভোটার ১৬ হাজার ৪২৬ জন। এখানে বিএনপির আবু সাঈদ চাঁদ ও জামায়াতের মো. নাজমুল হকের পাশাপাশি আরও দুইজন প্রার্থী রয়েছেন। নারী ও তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে দুই দলের প্রার্থীরাই জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন, যা এই আসনেও বিএনপি জামায়াতের দ্বিমুখী লড়াইকে আরও স্পষ্ট করছে।
আমার বার্তা/জেইচ

