
মাদারীপুরের রাজৈরে পৃথক স্থান থেকে দুটি ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে উপজেলার খালিয়া গ্রামে বাড়ির উঠানের গাছের মগডাল থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া ঝুলন্ত অবস্থায় মাইক্রোচালক আরিফ শেখের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক কলহের জেরেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি পরিবার ও এলাকাবাসীর।
এ ছাড়া, ইশিবপুর ইউনিয়নের গাংকান্দি শাখারপাড় গ্রামে নিজ ঘর থেকে রুমি বেগম নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে আত্মহত্যা করেছেন রুমি।
নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন রাজৈর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবউদ্দিন আহমেদ।
নিহত আরিফ শেখ খালিয়া গ্রামের মৃত সাহেব আলী শেখের ছেলে এবং নিহত রুমি বেগম গাংকান্দি শাখারপাড় গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী শিপন মোল্লার স্ত্রী ও গোবিন্দপুর গ্রামের সোনামিয়া মাতুব্বরের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন যাবত দুই স্ত্রী নিয়ে সংসার করছিলেন আরিফ। এ নিয়ে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে গত রাতে সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ৪০ ফুট গাছের উপরে উঠে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে উঠানের একটি গাছের মগডালে তাকে দেখতে পায় পরিবারের লোকজন। পরে স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় গাছের মগডাল থেকে মরদেহ নামানো হয়।
আরিফের ছেলে আরাফাত শেখের অভিযোগ, প্রথমে তার মা লাকি বেগমকে বিয়ে করেন এবং পরে তার বাবা আরেকটি বিয়ে করে কনা বেগম নামে একজনকে। এতে তার মা সংসার ছেড়ে চলে যান। এ নিয়ে তার বর্তমান মা কনা বেগমকে নিয়ে বাবা ও মায়ের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকতো। এরই জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে শিশুটি।
অপরদিকে, পারিবারিকভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ১৪ বছর ধরে সংসার করছেন ইশিবপুর ইউনিয়নের গাংকান্দি শাখারপাড় গ্রামের রাঙ্গু মোলার ছেলে মালয়েশিয়া প্রবাসী শিপন মোল্লা ও গোবিন্দপুর গ্রামের সোনামিয়া মাতুব্বরের মেয়ে রুমি বেগম দম্পতি। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ শুরু হয় তাদের। একপর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের প্রচারণায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন রুমি, এমন দাবি তার পরিবারের। সকালে তার বাবার বাড়িতে মৃত্যুর সংবাদ দেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। খবর পেয়ে ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অভিযোগ উঠেছে রুমির দেবর রিপন মোল্লা, তার স্ত্রী সাথী বেগম, ননদ লাখি বেগম বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে আসছিল। তারাই হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। মেয়ে মরণব্যাধি ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত।
রাজৈর থানা-পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) কুতুবউদ্দিন আহমেদ বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।
আমার বার্তা/এমই

