ই-পেপার বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩৩

রাজধানীতে শীতের সকালে নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন

আমার বার্তা অনলাইন:
০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:৪১

শীতের পোশাক পরা এক নারী খুঁটির সঙ্গে বাঁধা। তাঁর গায়ে ছোট বালতি ও মগ দিয়ে পানি ঢালছেন দুজন। নারীর অভিব্যক্তি দেখে বোঝা যাচ্ছে, ঠান্ডা পানির ঝটকা তিনি সামলাতে পারছেন না। তাঁর কষ্ট হচ্ছে। যাঁরা পানি ঢালছেন, তাঁদের মুখে হাসি। কয়েকজন জটলা করে দেখছেন। একজন মুঠোফোনে ভিডিও করছেন। গতকাল শনিবার ফেসবুকে এক নারীর প্রতি এমন সহিংসতার এক ভিডিও ভাইরাল হয়।

ওই ভিডিও সূত্র ধরে আজ রোববার ঘটনাটির খোঁজ করতে গিয়ে প্রথম আলো জেনেছে, ঘটনাটি গুলশানের নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজারের। ২ জানুয়ারি শুক্রবার চুরির অভিযোগ তুলে ওই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়।

গতকাল রাতে নির্যাতনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গুলশান থানার পুলিশ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে। তবে ওই নারীকে পুলিশ খুঁজে পায়নি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) গুলশানায় থানায় গিয়ে কথা হয় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানসহ গতকাল অভিযানে যাওয়া পুলিশদের সঙ্গে। তাঁরা জানান, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি গতকাল পুলিশের নজরে আসে। স্থানটি গুলশান থানাধীন নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজার বলে শনাক্ত করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁরা ঘটনাস্থল মারকাযুত তা'লীম আল- ইসলামী মাদ্রাসায় পৌঁছান।

পুলিশের কাছে মাদ্রাসার লোকজনের ভাষ্য ছিল, সেদিন সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে মাদ্রাসার দুই শিশুশিক্ষার্থী দেখতে পায়, ওই নারী মাদ্রাসার লোকমান নামের একজন শিক্ষকের কক্ষে তাঁর হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিচ্ছেন। শিশুশিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে পাশের কক্ষ থেকে একরাম নামের আরেক শিক্ষক বেরিয়ে আসেন এবং ওই নারীকে আটক করেন। ওই নারীকে তাঁরা পুলিশে সোপর্দ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এত সকালে ‘পুলিশ কোথায় পাবেন’—সেই চিন্তা করে নারীকে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন ওই নারীকে উত্তরাগামী একটি বাসে তুলে দেন।

দল বেঁধে ওই নারীর ‘শাস্তি’ দেখতে থাকা কেউ একজন ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করেছে। তবে ওই নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। ওই নারী ওই এলাকার নন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই নারীকে শনাক্ত করতে পারেনি।

মাদ্রাসা ভবনের যে কক্ষ থেকে ওই নারীকে আটক করা হয়েছিল, তা চতুর্থ তলায়। ওই নারী কীভাবে সেখানে ঢুকতে পারলেন, সেই প্রশ্নেরও উত্তর মিলছে না।

এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসার সাইনবোর্ডে থাকা মুঠোফোন নম্বরে কল করে ও খুদে বার্তা পাঠিয়ে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ওসি মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভিডিও দেখেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। রাতেই পাঁচজনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা হয়নি। পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগী নারীর খোঁজ করছে।

ওই নারীকে খুঁজে না পেলে আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে কী করা হবে—জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা আজ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব।’ মামলা কী করা হবে? মামলা হলে কোন ধারায় হবে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটাও আমরা আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।’

থানা থেকে জানা গেছে, যাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে, তাঁরা হলেন মাদ্রাসার দুই হুজুর লোকমান ও একরাম এবং তিন শিক্ষার্থী।

এদিকে ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান অনেকে। তাঁরা ভিডিওটি শেয়ার করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছেন। তাঁদের একজন অধিকারকর্মী ফেরদৌস আরা রুমী ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায়? অবিলম্বে এই...খুঁজে বের করুন। আল্লাহর দোহাই লাগে।’

ওই পোস্টের নিচে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি করে মন্তব্য করেন কয়েকজন। এম এ মামুন নামের একজন বলেন, ‘এটা কি আইনের কাজ? নিজেরা আইন হাতে তুলে নিলে বিচার বিভাগের কী দরকার? কী কারণে নিজেরা এমন শাস্তি দিচ্ছে? দেশে যে আইন নাই, এটা বোঝা যায়।’

আমার বার্তা/এমই

শহীদ মিনারে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হত্যা: নেপথ্যে নারী ও মাদক দ্বন্দ্ব

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রাকিব হাসান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে নারী ও মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের তথ্য

মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে রাজধানীতে ডিবির ব্লক রেইডে গ্রেপ্তার ১২৬

রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে মার্চ মাসের প্রথম দুই সপ্তাহে ধারাবাহিক ব্লক

গাইবান্ধায় তদন্ত কেন্দ্রে জুয়া-অনৈতিক কর্মকাণ্ড, দুই পুলিশ সদস্য ক্লোজড

গাইবান্ধায় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের কক্ষে জুয়া খেলা, নারী নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক কারবারিদের কাছ

চরমপন্থিরা পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে : র‍্যাব

অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

বাজেটের দুই অধ্যাদেশ আইনে রূপ দেওয়ার অনুমোদন মন্ত্রিসভায়

বাগেরহাটে সিসিটিভি ফাঁকি দিয়ে পুলিশের আইজিপির বাড়িতে চুরি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চার শত খাল খনন করা হবে সাকি

ভারতের উগ্রপন্থি আরএসএস ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল পরাজয় স্বীকারের আগে আলোচনা নয়: মোজতবা

এক দশকে বাংলাদেশের অর্ধেক তরুণ চাকরি পাননি: বিশ্বব্যাংক

তারেক রহমানকে সমবেদনা জানিয়ে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের চিঠি

ঐকমত্য কমিশনে বিএনপি গণভোটের রায় মানার কথা বলেছিল: বদিউল আলম

ধর্ষণ রোধে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত অ্যাকশনে যাওয়ার নির্দেশ

ঢাবি-জগন্নাথসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি

পয়লা বৈশাখে টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় দেখা হবে না: ইশরাক

আমাদের ঘাড়ের ওপর কারও আধিপত্য মেনে নেব না: জামায়াত আমির

ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা লারিজানিকে হত্যার দাবি ইসরায়েলের

ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের বাসিজ ফোর্স প্রধান নিহত, দাবি ইসরায়েলের

কৃষকের মুখে হাসি না ফুটলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পাবলিক পরিবহনে পর্যাপ্ত তেল দেওয়া হচ্ছে: সড়কমন্ত্রী

নতুন সরকারের এক মাস: চমক ও আগামীর চ্যালেঞ্জ

ঈদযাত্রায় কোনো অন্যায়ের সঙ্গে ‘কম্প্রোমাইজ নাই’: আইজিপি