
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে দেশের জ্বালানি খাতে অস্থিরতা কমছেই না। পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে চালকদের।
চলমান এই পরিস্থিতিতে আগামী রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে বাজারে অকটেন সরবরাহ বাড়ানোর চিন্তা করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। সংস্থাটি বলছে, সরবরাহ ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হতে পারে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বাজারে ২৫ শতাংশ অকটেন বাড়ানোর চিন্তা করছি। যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আমরা চিন্তা করছি।’
দেশে জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহের দায়িত্বে থাকা একমাত্র সরকারি সংস্থা বিপিসি। তাদের অধীনস্থ তিন বিপণন কোম্পানি- পদ্মা, মেঘনা ও যমুনার ডিলারদের মাধ্যমে সংস্থাটি তেল বিক্রি করে। এখন বাজারে সরবরাহ বাড়ানো হলে ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের সারি কমতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে অকটেনের কোনো ঘাটতি নেই। বাজারে সরবরাহ বাড়ানো না হলে তা রাখার জায়গা পাওয়া যাবে না। দেশে সব মিলিয়ে অকটেন মজুত করার সক্ষমতা আছে ৪৫ হাজার ৮১৯ টন। ১৫ এপ্রিল বিক্রির পর মজুত আছে ৩০ হাজার ৬৬৭ টন, যা বর্তমান সরবরাহ বিবেচনায় ২৬ দিনের মজুত। শুক্রবার ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় উৎস থেকেও প্রতিদিন গড়ে ৭০০ টন যুক্ত হচ্ছে।
বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মার্চে প্রতিদিন গড়ে অকটেন সরবরাহ করা হয়েছে এক হাজার ১৯৩ টন। এ বছর যুদ্ধের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় মার্চে দিনে সরবরাহ ২৬ টন বেড়ে হয় এক হাজার ২১৯ টন। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এপ্রিলে সরবরাহ প্রতিদিন কমেছে ৪৯ টন। আর গত মাসের তুলনায় এ মাসে সরবরাহ কমেছে ১০৪ টন। ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন ডিপো থেকে গড়ে সরবরাহ হয়েছে এক হাজার ১১৫ টন।
আমার বার্তা/জেএইচ

