
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় প্রতি টন গম আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের তুলনায় ২৪ ডলার বেশি দামে আমদানি করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর শর্ত পূরণ করে শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গতকাল সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি) জি-টু-জি ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে মোট ২ লাখ ৭০ হাজার টন গম আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক অ্যাগ্রোকর্প ইন্টারন্যাশনাল পিটিই লিমিটেড পুরো চালান সরবরাহ করবে। এর মধ্যে জি-টু-জি ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টন গম আমদানি করা হবে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৭০ কোটি টাকা। প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২২ ডলার।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার টন গম আমদানির প্রস্তাবও অনুমোদন পেয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৮২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং প্রতি টনের দাম পড়বে ২৯৭ দশমিক ৯২ ডলার, যা জি-টু-জি চুক্তির দামের তুলনায় প্রায় ২৪ ডলার কম।
এই আমদানি কার্যক্রমের ভিত্তি ২০২৫ সালের ২০ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের (ইউএসডব্লিউএ) সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)। ওই চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ পাঁচ বছর ধরে প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৭ লাখ টন মার্কিন গম আমদানি করতে পারবে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার আওতায় প্রথম চালানটি ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর দেশে পৌঁছায়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ৬ লাখ ৬০ হাজার টন গম কিনেছে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, আমদানি করা গমের মান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। চুক্তিতে ন্যূনতম ১১ দশমিক ৫ শতাংশ প্রোটিন থাকার কথা থাকলেও সরবরাহকৃত গমে প্রোটিনের পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ। পাশাপাশি আর্দ্রতা ও শস্যদানার ওজনও অত্যন্ত সন্তোষজনক ছিল।
বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে বছরে প্রায় ৭ লাখ টন আমদানির মাধ্যমে পাঁচ বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গমের শীর্ষ ১০ বাজারের একটি হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ।
স্পট মার্কেট থেকে দুটি এলএনজি কার্গো আমদানির অনুমোদন
সিসিজিপি আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে দুটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কার্গো কেনার প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে। সরকারি ক্রয় বিধিমালা-২০২৫ অনুযায়ী এ জন্য মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড প্রতি এমএমবিটিইউ (মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) ১৬ দশমিক ৯৮ ডলার দরে একটি কার্গো সরবরাহ করবে। অন্যটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটালএনার্জিস গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেড সরবরাহ করবে, যার দাম প্রতি এমএমবিটিইউ ১৬ দশমিক ৯৭ ডলার।
রাশিয়া ও কানাডা থেকে ৭৫ হাজার টন পটাশ সার আমদানি
কৃষি উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে ৭৫ হাজার টন মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার আমদানির দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের চুক্তির আওতায় রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এতে ব্যয় হবে ১৬৪ কোটি টাকা এবং প্রতি টনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮০ ডলার।
অন্যদিকে, কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তির আওতায় কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন এমওপি সার কেনা হবে। এ জন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮৭ কোটি টাকা। এখানেও প্রতি টনের দাম ৩৮০ ডলার।
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সড়ক উন্নয়নে বড় দুই প্রকল্প
লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের অধীনে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) সঙ্গে লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ফেনী জেলার সংযোগ সড়ক উন্নয়নের দুটি বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সিসিজিপি।
এর মধ্যে একটি প্রকল্পের কাজ পেয়েছে ঢাকাভিত্তিক এমএএইচ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, যার চুক্তিমূল্য ১৩৫ কোটি টাকা। অন্য প্রকল্পটি যৌথভাবে বাস্তবায়ন করবে আসিফ ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড ও রিমি নির্মাণ লিমিটেড, যার চুক্তিমূল্য ১৪৬ কোটি টাকা।
আমার বার্তা /জেএইচ

