
চলচ্চিত্রটির গল্পে দেখা যায়, সাতক্ষীরার দরিদ্র পরিবারের তরুণ রাশেদ উন্নত জীবনের আশায় বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখে। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করার প্রত্যাশায় তিনি দালালের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে ইউরোপ যাত্রা করেন। কিন্তু বিদেশে পৌঁছানোর স্বপ্ন একসময় রূপ নেয় দুঃস্বপ্নে। সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার সময় ট্রলারডুবির ঘটনায় তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর তার পরিবারকে অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা ও বেদনার মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়।
নির্মাতার ভাষ্য, চলচ্চিত্রটি শুধু একটি কাল্পনিক গল্প নয়; বরং বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া অসংখ্য অভিবাসন-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে মানবপাচারকারী ও দালালচক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন, তাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেই নির্মিত হয়েছে এই চলচ্চিত্র।
দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘মাইগ্রেশন ফিল্ম ফেস্ট’ অভিবাসন বিষয়ক বাস্তব গল্প ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার একটি উদ্যোগ। উৎসবটির লক্ষ্য নিরাপদ অভিবাসন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানবপাচার ও অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নির্মিত হয়েছে ‘নীল সমুদ্রের ওপারে’।
চলচ্চিত্রটির কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ, পরিচালনা, প্রযোজনা, গীত রচনা ও সম্পাদনা করেছেন মোঃ আবু সাঈদ। চলচ্চিত্র নির্মাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
নির্মাতা মোঃ আবু সাঈদ বলেন, “প্রতিবছর উন্নত জীবনের আশায় অসংখ্য মানুষ অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাদের অনেকেই প্রতারণার শিকার হন, কেউ নিখোঁজ হন, আবার কেউ জীবন হারান। সেই বাস্তবতা তুলে ধরে মানুষকে সচেতন করাই এই চলচ্চিত্র নির্মাণের মূল উদ্দেশ্য।”
চলচ্চিত্রটি সকল প্রবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়েছে সেইসব স্বপ্নবাজ মানুষদের, যারা সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় ঘর ছেড়েছিলেন, কিন্তু আর কখনও ফিরে আসতে পারেননি।
চলচ্চিত্রের বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে-
“অবৈধ অভিবাসনের পথ অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। মানবপাচার ও দালালের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকুন। নিরাপদ ও বৈধ উপায়ে বিদেশগমন করুন।”

