যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বেশ কয়েকটি দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সব দেশের সব পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শুল্কের প্রভাব ‘বিশাল’ হবে। তিনি বলেছেন, ১৯৩০ সালে অভ্যন্তরীণ ব্যবসা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র আমদানিকৃত পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। যা রক্ষণাবাদ হিসেবে পরিচিত। এরপর প্রায় ১০০ বছরেও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এত উচ্চ দেখা যায়নি। এমনকি রাতারাতি এশিয়ার পুঁজিবাজারের দরপতনের সময়ও এমনটি হয়নি।
ট্রাম্প যা করেছেন সেটি বৈশ্বিক বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বিশ্বের সব দেশের সব পণ্যের ওপর যে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন সেটি শুক্রবার থেকে কার্যকর হবে। এর উপরে ‘বাণিজ্য উদ্বৃত্ত’ থাকায় কয়েক ডজন দেশের ওপর পারস্পরিক শুল্কও আরোপ করা হবে।
বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক জানিয়েছেন, এশিয়ার দেশগুলোর (বাংলাদেশসহ) ওপর ট্রাম্পের অত্যাধিক শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত এসব দেশের কয়েক হাজার কোম্পানি, ফ্যাক্টরি এমনকি পুরো দেশের ব্যবসার মডেল পরিবর্তন করে করে দিতে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানিগুলোর ‘সাপ্লাই চেইন’ তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে যেতে পারে। আর অত্যাসন্ন এ প্রভাব এই দেশগুলোকে চীনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ট্রাম্প এসব করছেন যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি-রপ্তানির মধ্যে থাকা ব্যবধান শূন্যের কোটায় নিয়ে আসার জন্য। যা বৈশ্বিক অর্থনীতির আগের সবকিছু পরিবর্তন করে দেবে।
নতুন শুল্ক আরোপের প্রভাব যেসব ফ্যাক্টরির ওপর পড়বে সেগুলো অন্যত্র সরিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লাগবে। তবে পূর্ব এশিয়ার যেসব দেশে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে সেসব দেশের উৎপাদিত কাপড়, খেলনা এবং বৈদ্যুতিক জিনিসপত্রের দাম খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে জানান ফয়সাল আহমেদ।
এই দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের কারণে ইউরোপের কিছু ভোক্তা লাভবান হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোথাও নিজেদের ব্যবসাকে একীভূত করতে পারে তারা। এমনকি ভোক্তারাও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ‘প্রতিশোধ’ নিতে পারেন। ইউরোপের দেশগুলো সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা আর যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত পণ্য কিনবে না।— যোগ করেন ফয়সাল।
শুল্ক আরোপের প্রভাবে সামাজিক মাধ্যম সেবায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া বিধানেও ব্যাপক পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিবিসির এ সাংবাদিক। শুল্ক আরোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে যে মূল্যস্ফীতি দেখা দেবে সেটির কারণে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সুদের হার বাড়াতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। শেষে ফয়সাল আহমেদ বলেছেন, সবকিছু বিবেচনায় মনে হচ্ছে বিশ্বে একটি অপ্রীতিকর বাণিজ্য যুদ্ধ অত্যাসন্ন।
সূত্র: বিবিসি