ই-পেপার শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১

স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ চীন মেলবন্ধন

সাদিয়া সুলতানা রিমি:
০৩ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩১

বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বহু বছর ধরে চলমান। ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতেও চমৎকার উদ্ভাবন ও মেলবন্ধন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বাংলাদেশে উন্নত চিকিৎসা সেবা ও প্রযুক্তির অভাব দূরীকরণের লক্ষ্যে চীন থেকে উন্নত চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ ও সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের নাগরিকরা বিশেষ করে জটিল ও ব্যয়বহুল চিকিৎসার জন্য চীনের উন্নত হাসপাতাল ও চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে।

বাংলাদেশের প্রশাসনিক পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবায় ভারতের সাথে কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ আজ চীনের কাছ থেকে উন্নত ও সুলভ চিকিৎসা সেবা গ্রহণে আগ্রহী। এই নিবন্ধে আমরা বিশদভাবে আলোচনা করব—বাংলাদেশ ও চীনের স্বাস্থ্যসেবা মেলবন্ধনের প্রেক্ষাপট, বর্তমান উদ্যোগ, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, এবং এই সহযোগিতার সম্ভাব্য প্রভাব ও চ্যালেঞ্জসমূহ।

বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ যেখানে চিকিৎসা সেবার মান ও সুযোগের ঘাটতি রয়েছে। দেশের অনেক অঞ্চলে উন্নত হাসপাতাল, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এবং আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। বিশেষ করে জটিল এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাব থাকায় অনেকেই বিদেশে চিকিৎসার আশায় রওনা হন। ঐতিহাসিকভাবে, ভারত ছিল বাংলাদেশের চিকিৎসা পর্যটনের প্রধান গন্তব্য, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া ও অন্যান্য নীতিগত সমস্যার কারণে এই প্রবণতায় পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে।

চীন বিশ্বব্যাপী উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, আধুনিক হাসপাতাল অবকাঠামো ও উচ্চমানের চিকিৎসা পরিষেবার জন্য প্রসিদ্ধ। কুনমিং, ইয়ুনান ও অন্যান্য প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোতে উন্নত চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও আধুনিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বাংলাদেশের প্রশাসনিক পর্যায় থেকে চীনের উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে, চিকিৎসা পর্যটনের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আধুনিকীকরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশের নাগরিকদের উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে, চীনের ইয়ুনান প্রদেশের কুনমিংয়ের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোকে বাংলাদেশী রোগীদের জন্য নিবেদিত করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইয়ুনান ফুয়াই কার্ডিওভাস্কুলার হাসপাতাল, কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্রথম উপাধ্যক্ষ হাসপাতাল এবং অন্যান্য প্রধান হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশী রোগীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই হাসপাতালগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, এবং সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা প্রোটোকল অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।

চীন ও বাংলাদেশ মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সহযোগিতা বৃদ্ধি করার অন্যতম মূল কারণ হলো ভিসা প্রক্রিয়ার সহজ ও দ্রুত করণ। চীনা দূতাবাস বাংলাদেশী নাগরিকদের চিকিৎসা ভিসা প্রদান প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যাতে রোগীরা সময়মতো চিকিৎসার সুযোগ পেতে পারেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্মারক বোঝাপড়ার স্বাক্ষর করা হয়েছে, যার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দুর্যোগ মোকাবেলার মতো বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চীন সফরের সময় স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত বিভিন্ন MoU স্বাক্ষরিত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই স্মারক বোঝাপড়াগুলি শুধু বিনিয়োগ বাড়াতে সাহায্য করবে না, বরং দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত সহায়তাও প্রদান করবে।

স্বাস্থ্যসেবার খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মেলবন্ধন কেবলমাত্র বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ বৃদ্ধি করে না, বরং চিকিৎসা পর্যটনের মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ক্ষেত্রেও সহায়তা প্রদান করে। চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, যেমন এআই-ভিত্তিক রোগ নির্ণয়, রোবোটিক সার্জারি, টেলিমেডিসিন ও আধুনিক গবেষণা পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশী ডাক্তাররা তাদের দক্ষতা বাড়াতে পারবেন। এতে করে ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা সেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নীত হবে।

স্বাস্থ্যসেবার খাতে সহযোগিতা বাংলাদেশের ও চীনের সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করে। এই সহযোগিতা শুধু চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অর্থনীতি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও সাংস্কৃতিক বিনিময়েও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। ৫০ বছরের ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক উদযাপনের সাথে সাথে নতুন নতুন উদ্যোগের সূচনা করা হয়েছে, যা দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস, সহযোগিতা ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও পরিকাঠামোর সাহায্যে বাংলাদেশী রোগীরা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও সুলভ চিকিৎসা পেতে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে হৃদরোগ, ক্যান্সার, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা এবং জটিল সার্জারি ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির ব্যবহারে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

যখন বাংলাদেশী নাগরিকরা উন্নত চিকিৎসার আশায় বিদেশে যাবার পরিবর্তে চীনের উন্নত চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে শুরু করবেন, তখন চিকিৎসা পর্যটনের খাতও বিস্তৃত হবে। এতে করে বাংলাদেশ ও চীন উভয়ের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিদেশে চিকিৎসার খরচ ও সময়ের তুলনায়, চীনে চিকিৎসা গ্রহণ করা আরও সুলভ ও সুবিধাজনক হবে।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ও গবেষণা প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশী চিকিৎসকরা তাদের দক্ষতা ও জ্ঞান বাড়াতে পারবেন। এই প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে, যা ভবিষ্যতে দেশের চিকিৎসা খাতকে আত্মনির্ভরশীল করতে সহায়ক হবে।

স্বাস্থ্যসেবার খাতে এই সহযোগিতা শুধু চিকিৎসা সুবিধার প্রসার ঘটায় না, বরং অর্থনৈতিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করে। চীন থেকে সরাসরি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সেচ্ছাসেবী প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বৃহত্তর বাজেটের প্রয়োগ সম্ভব হবে। এছাড়াও, চিকিৎসা পর্যটন খাতে বৃদ্ধি পেলে, পর্যটন, হোটেল ও পরিবহন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।চীন থেকে উন্নত চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও চীন পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়, তথ্য প্রযুক্তি ও মানুষের মেলবন্ধনের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়বে। চিকিৎসা সহযোগিতা মানবিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে, যা দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাস ও সহমর্মিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

সম্প্রতি, চীনের কুনমিং ও ইয়ুনান প্রদেশের শীর্ষস্থানীয় হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশী রোগীদের জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ইয়ুনান ফুয়াই কার্ডিওভাস্কুলার হাসপাতাল ও কুনমিং মেডিকেল ইউনিভার্সিটির হাসপাতালগুলোতে বাংলাদেশী রোগীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ ভাড়া ও সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এই হাসপাতালগুলোতে উন্নত প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও আধুনিক সার্জিক্যাল যন্ত্রপাতির মাধ্যমে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। চীন সরকার বাংলাদেশী নাগরিকদের চিকিৎসা ভিসা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার জন্য নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দূতাবাস ও কনস্যুলেটে এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে বাংলাদেশী রোগীরা প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চীন যেতে সক্ষম হচ্ছেন।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার খাতে স্মারক বোঝাপড়ার স্বাক্ষর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চীন সফরের সময় স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়ক বিভিন্ন MoU স্বাক্ষরিত হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এসব স্মারক বোঝাপড়া দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত করতে সহায়ক হবে।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও আধুনিক গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশী চিকিৎসকরা সংক্ষিপ্ত ও দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারবেন। এতে করে রোগ নির্ণয়, সার্জারি ও রোগ প্রতিরোধে উন্নত পদ্ধতি অবলম্বন করা সম্ভব হবে। এছাড়া, চিকিৎসা পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশীরা বিদেশে চিকিৎসার পরিবর্তে ঘরে থেকেই উন্নত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন, যা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

স্বাস্থ্যসেবার খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত হাসপাতাল নির্মাণ, আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা এবং নতুন চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চীন থেকে সরাসরি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, রাজধানী ঢাকায় বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নগরায়নে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনাও সামনে এসেছে, যা দেশের চিকিৎসা সেবাকে আরও ব্যাপক ও সহজলভ্য করবে।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির সাহায্যে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া দ্রুত ও কার্যকরী হবে। বিশেষ করে, হৃদরোগ, ক্যান্সার, নিউরোলজিক্যাল সমস্যা এবং অন্যান্য জটিল রোগ নির্ণয়ে এই প্রযুক্তির ভূমিকা অনস্বীকার্য। উন্নত চিকিৎসা যন্ত্রপাতি, সঠিক চিকিৎসা প্রোটোকল ও প্রশিক্ষিত ডাক্তারদের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসার ফলাফল ব্যাপকভাবে উন্নত হবে, যার ফলে মৃত্যুহার কমবে ও রোগীদের পুনরুদ্ধার দ্রুত হবে।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার তুলনায়, চীনের কাছে সুলভ ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করলে চিকিৎসা ব্যয় কমবে। এছাড়া, চিকিৎসা পর্যটন খাতের প্রসার দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। রোগীরা বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণের পরিবর্তে চীনে বা দেশেই চিকিৎসা গ্রহণ করলে বিদেশে ব্যয় করা টাকা দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে বিনিয়োগ হিসেবে ফিরে আসবে।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হলে বাংলাদেশী চিকিৎসকরা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন। প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ, ও অংশীদারিত্বমূলক গবেষণার মাধ্যমে দেশের চিকিৎসা খাতকে আরও আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল করে তোলা সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্যসেবার খাতে সহযোগিতা শুধু চিকিৎসা সেবা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়, তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও সেতুবন্ধন ঘটবে। চিকিৎসা পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশী নাগরিকরা চীনের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা সম্পর্কে জানতে পারবেন, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

স্বাস্থ্যসেবার খাতে মেলবন্ধন বাংলাদেশের ও চীনের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা বাড়াতে সহায়ক হবে। বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে, ৫০ বছরের ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক উদযাপনের সাথেই এই সহযোগিতা নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

চীনের হাসপাতালগুলোর অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত যোগাযোগ ইংরেজি বা চীনা ভাষায় হয়ে থাকে। বাংলাদেশী রোগীদের জন্য এই ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে, দ্বিপাক্ষিক পর্যায়ে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে দ্বিভাষিক ও অনুবাদক সেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।

ভিসা প্রক্রিয়া, চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তর সংক্রান্ত প্রশাসনিক জটিলতা ও নীতিগত বাধাও কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। দুই দেশের মধ্যে সুসমন্বয় ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।

চিকিৎসা পর্যটনের খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সাথে সাথে আর্থিক ও অবকাঠামোগত বিনিয়োগের সঠিক ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন ও দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি ও রেগুলেটরি কাঠামো তৈরি করা জরুরি। চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সঠিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা অপরিহার্য। বাংলাদেশের জন্য এই প্রযুক্তি স্থানান্তর সঠিকভাবে কার্যকর করতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও স্থানীয় ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে হবে।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে রোগ নির্ণয়, সার্জারি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে। এ থেকে রোগীদের দ্রুত ও কার্যকর চিকিৎসা পেতে সহায়তা মিলবে। চীন থেকে সরাসরি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও চিকিৎসা পর্যটনের খাতে বিনিয়োগের সুযোগ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে। চিকিৎসা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেলে দেশের চিকিৎসা অবকাঠামো, পর্যটন ও সংশ্লিষ্ট খাতগুলোতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চীনের সাথে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশী চিকিৎসক, নার্স, ও প্রযুক্তিবিদরা আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও গবেষণায় দক্ষতা অর্জন করবেন। প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে দেশে উচ্চমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান সম্ভব হবে।

চিকিৎসা সহযোগিতা শুধুমাত্র চিকিৎসার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না থেকে সাংস্কৃতিক বিনিময়, তথ্যপ্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়ক হবে। এভাবে দুই দেশের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক আরও দৃঢ় ও সুদৃঢ় হবে।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার খাত দীর্ঘমেয়াদে আধুনিকীকরণ করা সম্ভব হবে। এটি দেশের স্বাস্থ্যনীতি, প্রশাসনিক কাঠামো ও বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে।

বাংলাদেশ ও চীনের স্বাস্থ্যসেবার মেলবন্ধন আগামী দিনে আরও বিস্তৃত ও গভীর হতে যাচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চীন সফর ও বিভিন্ন MoU স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে, নিম্নলিখিত উদ্যোগগুলো দেখা যেতে পারে:

ঢাকায় উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র নির্মাণ: চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে ঢাকায় বা অন্যান্য প্রধান নগরীতে আধুনিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, যা দেশীয় চিকিৎসা সেবাকে আরও উন্নত করবে।

চিকিৎসা পর্যটনের প্রসার: চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি গ্রহণের ফলে বাংলাদেশী নাগরিকরা বিদেশে না গিয়ে দেশ বা চীনে সুলভ ও উন্নত চিকিৎসা সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা চিকিৎসা পর্যটনের খাতকে নতুন মাত্রা দেবে।

প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা: বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও প্রশিক্ষণের উদ্যোগ আরও বাড়ানো যেতে পারে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশী ডাক্তার ও গবেষকরা আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করবেন।

দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও আর্থিক সহযোগিতা: চীনের বিনিয়োগকারীদের সাথে সমন্বয় বাড়িয়ে, স্বাস্থ্যসেবার খাতে বিনিয়োগ ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের দিক এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

দুই দেশের মধ্যে চিকিৎসা সহযোগিতাকে আরও কার্যকর করার জন্য দ্বিভাষিক ও সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ, অনুবাদক সেবা ও মানবসম্পদ বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনা করা জরুরি।

চীন ও বাংলাদেশের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে নিয়মিত বৈঠক ও সমন্বয় সভার মাধ্যমে ভিসা, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও অন্যান্য নীতিগত বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

স্বাস্থ্যসেবার খাতে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য, সঠিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা, আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তি স্থানান্তর কার্যক্রম সুসংগঠিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন।

চীনের উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে, দেশের চিকিৎসা খাতকে আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে।

দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসা সহযোগিতা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা যেতে পারে, যা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতা বাড়াবে।

বাংলাদেশ ও চীনের স্বাস্থ্যসেবায় মেলবন্ধন শুধু চিকিৎসা সেবার মান উন্নত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, সহজ ভিসা প্রক্রিয়া, স্মারক বোঝাপড়া ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার খাতকে আধুনিকীকরণ করা সম্ভব হচ্ছে। পাশাপাশি, চিকিৎসা পর্যটন, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশী চিকিৎসকদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে দেশের অভ্যন্তরীণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিকোণ থেকে, এই সহযোগিতা শুধুমাত্র চিকিৎসা খাতে সীমাবদ্ধ না থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রতিটি দিক—অর্থনীতি, প্রযুক্তি, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে—নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম হবে। ৫০ বছরের ডিপ্লোম্যাটিক সম্পর্ক উদযাপনের প্রেক্ষাপটে এই মেলবন্ধন দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সুলভ, উন্নত ও সুরক্ষিত করার পাশাপাশি, দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

লেখক : শিক্ষার্থী, গণিত বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার বার্তা/সাদিয়া সুলতানা রিমি/এমই

একজন নোবেল বিজয়ীর পররাষ্ট্রনীতি ও বাংলাদেশ

এ কথা স্বীকার করতে হবে, অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতা যাই থাকুক, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয়

আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী সমাজ আজ কোথায়

জুলাই বিপ্লব ২০২৪ নিয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো.

চোখের বালি : অন্তর্জগতের জটিল রহস্য

চোখের বালি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা একটি সামাজিক উপন্যাস। ১৯০১-০২ সালে নবপর্যায় বঙ্গদর্শন পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে

ঈদের পরে যে বিষয় গুলোতে সচেতন থাকতে হবে

”ঈদ আমাদের অন্যতম প্রধান উৎসব। ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে একত্রিত হই আমরা। অনেকেই শহর
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পার্বত্য চট্টগ্রামের সকল সহিংসতার মূল কারণই চাঁদাবাজি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

কুমিল্লা জেলা বারের আইনজীবীর উপর হামলা

তরুণদের চাকরিপ্রার্থী না হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পরামর্শ ড. ইউনূসের

ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ওলট-পালট বিশ্ব বাণিজ্য, যা যা ঘটতে পারে

বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা আমাদের : ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বিচার বানচালে মোটা অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগের প্রমাণ মিলেছে

এসএসসি পরীক্ষা পেছানোর কোনো সুযোগ নেই : শিক্ষাবোর্ড

শ্রীপুরে ট্রেনের পাওয়ার কারে আগুন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে চলাচল বন্ধ

স্বাস্থ্যসেবায় বাংলাদেশ চীন মেলবন্ধন

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের প্রতিক্রিয়ায় যা বলছেন বিশ্ব নেতারা

পক্ষে ২৮৮, বিপক্ষে ২৩২ ভোট : ভারতে লোকসভায় পাস ওয়াকফ বিল

শ্রীপুরে ট্রেনে আগুন, ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

বিশ্বের ধনীদের তালিকার শীর্ষে ইলন মাস্ক, দ্বিতীয় জাকারবার্গ

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি পণ্যের শুল্ক পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ

১৬ মাস পর গ্রিলিশের গোল, ম্যান সিটির স্বস্তির জয়

১০ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ, শুক্রবার ৪ বিভাগে বৃষ্টি হতে পারে

গভীর রাতে ঘর থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ গৃহবধূ

শার্শায় প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেল সংঘর্ষ, চাচা-ভাতিজা নিহত

হঠাৎ অতিথির আগমন, আপ্যায়নে রাখুন চিকেন পাস্তা

২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন: শফিকুল আলম