
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরও চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে তিনজনের বয়স ২১ থেকে ২২ বছরের মধ্যে বলে শনাক্ত করা গেছে। তবে চতুর্থ সেনার পরিচয় এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ও অনুমতি না পাওয়ায় ওই সেনার নাম এখনো গোপন রাখা হয়েছে। এই প্রাণহানির ঘটনাটি চলমান সীমান্ত যুদ্ধে ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২ মার্চ থেকে লেবাননের লিটানি নদীর দক্ষিণ অংশে ইসরায়েল তাদের সামরিক উপস্থিতি ও আগ্রাসন কয়েক গুণ বৃদ্ধি করেছে। এই সময়ের মধ্যে ওই অঞ্চলে হিজবুল্লাহর চোরাগোপ্তা হামলা ও সরাসরি সংঘাতে অন্তত ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার বৃহত্তর যুদ্ধের প্রভাব লেবানন সীমান্তেও ছড়িয়ে পড়ায় সেখানে নিয়মিতভাবে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননে একটি বাফার জোন তৈরির চেষ্টা করলেও হিজবুল্লাহর তীব্র প্রতিরোধের মুখে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল ইরান বা লেবাননের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি একটি বহুপাক্ষিক যুদ্ধের রূপ নিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখেই এই যুদ্ধের একটি দ্রুত সমাপ্তি চাচ্ছেন। তবে যুদ্ধের ময়দানে ইসরায়েলি সেনাদের এই ধারাবাহিক মৃত্যু তেল আবিবকে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া এই সংঘাতে ইতিমধ্যে আটজন ভারতীয় নাগরিকের নিহত হওয়ার খবরও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়েছে।
সার্বিকভাবে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এখন চরম অস্থিতিশীল এবং সেখানে নিয়মিত বিরতিতে রকেট ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী তাদের নিহত সদস্যদের মরদেহ উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা দখলদার বাহিনীকে লেবাননের মাটি থেকে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত তাদের অভিযান চালিয়ে যাবে। আপাতত সীমান্তে দুই পক্ষের এই রক্তক্ষয়ী লড়াই থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। - সূত্র: আল জাজিরা
আমার বার্তা/এমই

