ই-পেপার মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩

ফিলিস্তিনিদের নিশানা করে মৃত্যুদণ্ডের বিল পাস করল ইসরায়েলি পার্লামেন্ট

আমার বার্তা অনলাইন
৩১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৫

প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুযোগ রেখে গতকাল সোমবার একটি বিল অনুমোদন করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট। বৈষম্যমূলক বলে এ পদক্ষেপের সমালোচনা হচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

অন্যদিকে আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের পার্লামেন্ট একটি বিতর্কিত একপক্ষীয় বিল পাস করেছে। এই বিল অনুযায়ী, ইসরায়েলিদের হত্যা করে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেবেন ইসরায়েলের সামরিক আদালত। কিন্তু ফিলিস্তিনিদের হত্যা করে দোষী সাব্যস্ত ইহুদি ইসরায়েলিদের ক্ষেত্রে একই শাস্তি প্রযোজ্য হবে না।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ ৬২ জন আইনপ্রণেতা বিলটির পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ৪৮ জন আইনপ্রণেতা। বিলটি উত্থাপন করেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির।

একজন আইনপ্রণেতা ভোটদানে বিরত থাকেন। আর বাকি আইনপ্রণেতারা ভোটাভুটির সময় পার্লামেন্টে অনুপস্থিত ছিলেন।

ভোটাভুটির আগে বেন গভির ফাঁসির দড়ির আকৃতির একটি ল্যাপেল পিন পরেছিলেন, যা এই আইনের প্রতি তাঁর সমর্থনের প্রতীক।

ভোটের পর বেন গভির এক্সে লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি! আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি।’

এই বিল অনুযায়ী, ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের কোনো ফিলিস্তিনি ইচ্ছাকৃত প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত বলে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর স্বাভাবিক শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।

বিলে বলা হয়েছে, ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ এই শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইসরায়েলি সামরিক আদালতে বিচার করা হয়।

কাউন্সিল অব ইউরোপ বলেছে, ইসরায়েলি পার্লামেন্টে এই বিল গ্রহণ করাটা বিষয়টি ‘গুরুতর পশ্চাদগতিকে’ নির্দেশ করে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র গতকাল বলেছে, সন্ত্রাসবাদের দায়ে দোষী ব্যক্তিদের জন্য নিজস্ব আইন ও শাস্তি নির্ধারণে ইসরায়েলের ‘সার্বভৌম অধিকারকে’ তারা সম্মান করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এ ধরনের যেকোনো ব্যবস্থা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। এবং প্রযোজ্য সব ন্যায্যবিচারের নিশ্চয়তা ও সুরক্ষা বজায় রেখেই তা কার্যকর করা হবে।’

বিল অনুযায়ী, ইসরায়েলের ফৌজদারি আদালতে যে কেউ ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্ব বিলোপের উদ্দেশ্যে ইসরায়েলি নাগরিক বা বাসিন্দাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কারও মৃত্যু ঘটানোর’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের ফৌজদারি আদালত ইসরায়েলি নাগরিকদের বিচার করে। এর মধ্যে ফিলিস্তিনি নাগরিক ও পূর্ব জেরুজালেমের বাসিন্দারাও অন্তর্ভুক্ত।

বিলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি হিসেবে ফাঁসির কথা বলা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রায় ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। তবে সর্বোচ্চ ১৮০ দিন পর্যন্ত তা পিছিয়ে দেওয়া যেতে পারে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, এই বিলকে ইসরায়েলের মৌলিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে। বিলটি পাস হওয়ার পরপরই একটি শীর্ষ মানবাধিকার সংস্থা ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।

ইসরায়েলের অ্যাসোসিয়েশন ফর সিভিল রাইটস এক বিবৃতিতে বলেছে, বিল দুটি সমান্তরাল ব্যবস্থা তৈরি করেছে। আর উভয় ব্যবস্থাই ফিলিস্তিনিদের ওপর প্রয়োগের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

ইসরায়েলভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আদালাহর আন্তর্জাতিক অ্যাডভোকেসি সমন্বয়ক মিরিয়াম আজেম বলেন, গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন–নিপীড়ন বেড়েছে। এই আইন তা আরও বাড়াবে।

এই বিল পাসের নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তারা বলেছে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরায়েলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই।

গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস বলেছে, ‘হত্যা ও সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে’ ইসরায়েলের যে দৃষ্টিভঙ্গি, তার প্রতিফলন এই আইন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি বিলটি নিয়ে গত রোববারই ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করে। তারা বলে, এটি ‘গণতান্ত্রিক নীতির প্রতি ইসরায়েলের অঙ্গীকারকে ক্ষুণ্ন করার ঝুঁকি তৈরি করছে’।

আমার বার্তা/জেএইচ

ইরানের স্কুল লক্ষ্য করে ফের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২১

ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এক ভয়াবহ ও নেপথ্য দিক উন্মোচিত হয়েছে। দক্ষিণ ইরানে একটি স্পোর্টস হল এবং

‘যুদ্ধের এক মাসে তেল-গ্যাসে ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে’

ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরুর প্রথম এক মাসেই তেল ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে ভোক্তা

মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত

ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার শিকার হয়েছে একটি বেসামরিক বিমান। দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যমে যুদ্ধ

হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে ইসরায়েলের ৪ সেনা নিহত: আইডিএফ

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘাতের সময় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর আরও চারজন সদস্য নিহত হয়েছেন।
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ইরানের স্কুল লক্ষ্য করে ফের মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২১

টিকাবঞ্চিত শিশুদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি, সতর্ক করলো ইউনিসেফ

স্কুল পর্যায়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার কথা চলছে: শিক্ষামন্ত্রী

‘যুদ্ধের এক মাসে তেল-গ্যাসে ১০ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে’

ফিলিস্তিনিদের নিশানা করে মৃত্যুদণ্ডের বিল পাস করল ইসরায়েলি পার্লামেন্ট

জর্ডান গমনেচ্ছুদের আর্থিক লেনদেন থেকে বিরত থাকতে বলেছে দূতাবাস

পদত্যাগ করেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান

‘ক্লাবগুলো যদি খেলে ভালো, না খেললে তো আমাদেরই ক্ষতি’

মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত

মারিয়ম নওয়াজকে কটাক্ষ করায় নাসিম শাহর অর্থ দণ্ড

ইনস্টাগ্রামে আসছে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন

হিজবুল্লাহর সঙ্গে লড়াইয়ে ইসরায়েলের ৪ সেনা নিহত: আইডিএফ

ছয় মাসে সরকারের ব্যাংকঋণ অর্ধলক্ষ কোটি টাকা ছাড়াল

সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি ২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা 

হজ-ওমরাহ সেবায় গতি আনতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে সম্মত সৌদি-বাংলাদেশ

ইরানের ইসফাহানে ব্যাপক বিস্ফোরণ, ভিডিও শেয়ার করলেন ট্রাম্প

মার্কিন বাহিনীকে সরানোর এটাই সময়, সৌদি আরবকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মৌলভীবাজারে মাইক্রোবাস-অটোরিকশা সংঘর্ষে নিহত ৩ জন

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় পরিকল্পনায় ইরানের অনুমোদন

উপবন এক্সপ্রেসে আগুন, সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ