
এই সিরীয় ব্যক্তি ১৪ বছর ধরে নিজের বাড়ির ভেতরে তৈরি করা একটি কবরের মতো জায়গায় লুকিয়ে জীবিত ছিলেন। বাশার আল-আসাদের শাসনামলে তিনি সবচেয়ে বেশি খোঁজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তাকে খুঁজছিল। গ্রেপ্তারের ভয়ে তিনি নিজের বাড়ির এক কোণে কবরের মতো একটি জায়গা তৈরি করেন। সেখানে বসে থাকার ব্যবস্থা করে সামনে একটি দেয়াল তুলে দেন। এরপর ১৪ বছর ধরে ওই সংকীর্ণ জায়গায় লুকিয়ে জীবন কাটান।
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছানোর জন্য দেয়ালের নিচে দুই-তিনটি ব্লকের সমান জায়গা খালি রাখা হয়েছিল। পরে স্ত্রী সেই ফাঁকটিও আড়াল করার জন্য তার ওপর একটি পর্দা ঝুলিয়ে দেন।
তার স্ত্রী ছাড়া আর কেউ জানত না যে তিনি জীবিত আছেন। এমনকি তিনি নিজের সন্তানদেরও বলে রেখেছিলেন যে তাদের বাবা মারা গেছেন। সন্তানরা ঘুমিয়ে পড়লে তিনি নীরবে দেয়ালের আড়ালে লুকিয়ে থাকা স্বামীর জন্য খাবার ও পানি পৌঁছে দিতেন, তার কাপড় ধুয়ে দিতেন এবং তার জীবিত থাকার গোপন বিষয়টি নিজের বুকে লুকিয়ে রাখতেন।
অন্যদিকে সন্তানদের লালন-পালন এবং সংসারের খরচও তারই দায়িত্ব ছিল। তিনি বাড়িতে বসে কাজ করতেন, সন্তানদের জন্য খাবার-রুজির ব্যবস্থা করতেন এবং একই সঙ্গে একটি পরিবার, একটি গোপন রহস্য ও একটি ভয় সবকিছু সামলে চলেছিলেন।
ভাবুন তো ১৪ দিন বা ১৪ মাস নয়, ১৪ বছর!
১৪ বছর একজন মানুষের কবরের মতো সংকীর্ণ একটি জায়গায় লুকিয়ে জীবন কাটানো, আর একজন নারীর প্রতিদিন এই ভয় নিয়ে বেঁচে থাকা যে, যদি গোপন বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যায়, তাহলে তার স্বামী গ্রেপ্তার হয়ে যাবেন। সত্যি কথা বলতে কী, আমাদের পক্ষে তো ১৪ ঘণ্টাও এভাবে কাটানো সম্ভব নয়।
এটি যেমন একজন স্বামীর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির এক বেদনাদায়ক কাহিনি, তেমনি এটি একজন মহান নারীর ধৈর্য, বিশ্বস্ততা ও আত্মত্যাগেরও কাহিনি। যিনি নিজের স্বামীকে জীবিত রাখার জন্য ১৪ বছর ধরে এমনকি নিজের সন্তানদের কাছেও এই গোপন বিষয়টি প্রকাশ হতে দেননি।

