ই-পেপার বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ: উন্নত রাষ্ট্র গঠনের প্রথম শর্ত

মোহাম্মদ ইয়ামিন:
১৬ জুলাই ২০২৬, ১৪:৪১

বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দুই দশকে এক বিস্ময়কর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে গেছে। একসময় যে দেশকে উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে কল্পনা করাও কঠিন ছিল, আজ সেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে, তৈরি পোশাক শিল্পে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানিকারক, অবকাঠামো উন্নয়নে দ্রুত অগ্রসর এবং ডিজিটাল সেবায় দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অগ্রণী রাষ্ট্র। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, দারিদ্র্যের হার কমেছে, নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হয়ে উঠছে—এই উন্নয়নের প্রকৃত সুফল কি প্রত্যাশিতভাবে জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে যে বিষয়টি বারবার সামনে আসে, তা হলো দুর্নীতি। অর্থনীতিবিদ, গবেষক, উন্নয়ন সহযোগী, ব্যবসায়ী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন—বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট সম্পদের অভাব নয়, সুশাসনের ঘাটতি। রাষ্ট্রের সীমিত সম্পদ যখন অপচয়, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং অর্থপাচারের মাধ্যমে ক্ষয় হয়, তখন উন্নয়নের গতিও বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কেবল নৈতিকতার প্রশ্ন নয়; এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার প্রশ্ন।

দুর্নীতি সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণা অনেক সময় সীমাবদ্ধ থাকে ঘুষ গ্রহণ বা সরকারি অর্থ আত্মসাতের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে দুর্নীতি একটি বহুমাত্রিক প্রাতিষ্ঠানিক সমস্যা। ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারি নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কারসাজি, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, কর ফাঁকি, অর্থপাচার, বিচার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার কিংবা সরকারি সেবার বিনিময়ে অবৈধ সুবিধা গ্রহণ—সবই একই সমস্যার ভিন্ন ভিন্ন রূপ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যখন দুর্নীতি বিচ্ছিন্ন ঘটনা না থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়, তখন রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষয় হতে শুরু করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা একটি বিষয় বারবার উল্লেখ করেন—কোনো রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয়, যখন তার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী হয়। ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠানই রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি। কিন্তু যদি প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক প্রভাব, আর্থিক স্বার্থ কিংবা ব্যক্তিগত আনুগত্যের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে আইনের শাসনও দুর্বল হয়ে যায়। বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ, সরকারি ক্রয়, নিয়োগ, লাইসেন্স প্রদান কিংবা আর্থিক খাত—সব ক্ষেত্রেই শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা আজ আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। বৈশ্বিক বাজারে টিকে থাকতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশও নিশ্চিত করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা প্রথমেই যে বিষয়গুলো বিবেচনা করেন, তার মধ্যে রয়েছে আইনের শাসন, নীতির স্থিতিশীলতা, দুর্নীতির মাত্রা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা। যেখানে একটি ব্যবসা শুরু করতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় বা অপ্রয়োজনীয় জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়, সেখানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আগ্রহ কমে যায়। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ব্যাহত হয় এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাও সীমিত হয়ে পড়ে।

উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। একটি প্রকল্পের ব্যয় যদি অযৌক্তিকভাবে বেড়ে যায়, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হয় কিংবা নিম্নমানের নির্মাণের কারণে কয়েক বছরের মধ্যেই পুনরায় সংস্কারের প্রয়োজন হয়, তাহলে সেই ব্যয়ের ভার শেষ পর্যন্ত জনগণকেই বহন করতে হয়। করদাতার অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়; এটি একটি সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্বও।

দুর্নীতির আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর। যখন একজন যোগ্য প্রার্থী চাকরি পান না কিন্তু প্রভাবশালী বা অর্থশালী ব্যক্তি সুযোগ পেয়ে যান, তখন মেধার মূল্যায়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যখন একজন সাধারণ নাগরিক সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা, ভূমি অফিসে সেবা কিংবা থানায় ন্যায্য সহায়তা পেতে ঘুষ দিতে বাধ্য হন, তখন রাষ্ট্রের প্রতি তাঁর আস্থা কমে যায়। এই আস্থার সংকটই দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্র ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো অর্থপাচার। দেশীয় অর্থ অবৈধভাবে বিদেশে চলে যাওয়া মানে কেবল বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষতি নয়; এটি দেশীয় বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। যে অর্থ নতুন কারখানা, প্রযুক্তি, কৃষি বা অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ হতে পারত, সেটিই যদি বিদেশে পাচার হয়ে যায়, তাহলে উন্নয়নের গতি স্বাভাবিকভাবেই কমে যাবে। তাই অর্থপাচার রোধকে কেবল আর্থিক অপরাধ হিসেবে নয়, জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা জরুরি।

এক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাপি ঋণ, ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ বিতরণ, প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আর্থিক সুবিধা এবং দুর্বল তদারকি—এসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর স্বাধীনতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দিতে হবে। একই সঙ্গে আর্থিক অপরাধ তদন্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে, যাতে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ শনাক্ত ও ফেরত আনা সম্ভব হয়।

দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের কেন্দ্রে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধু আইন করে স্বাধীন ঘোষণা করলেই যথেষ্ট নয়; বাস্তবে সেই স্বাধীনতা কার্যকর হওয়া জরুরি। কমিশনের তদন্ত, মামলা পরিচালনা এবং সম্পদ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক চাপ থাকে, তাহলে জনগণের আস্থা তৈরি হবে না। তাই দুদককে জনবল, প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি বাস্তব স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নিজের কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে।

স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তি একটি কার্যকর হাতিয়ার হতে পারে। সরকারি ক্রয়, টেন্ডার, নিয়োগ, কর পরিশোধ, ভূমি নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রদান এবং উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য যদি সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত হয়, তাহলে ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও অনিয়মের সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। বিশ্বের অনেক দেশ ইতোমধ্যে ই-গভর্নেন্সের মাধ্যমে দুর্নীতি কমাতে সফল হয়েছে। বাংলাদেশও সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

তবে প্রযুক্তি কখনোই রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিকল্প হতে পারে না। একটি রাষ্ট্র তখনই দুর্নীতির বিরুদ্ধে সফল হয়, যখন ক্ষমতাসীন ও বিরোধী—উভয় পক্ষই আইনের শাসনের প্রতি সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে ব্যক্তি বা দলের পরিচয় বিবেচনা করা হলে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতি বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারলে দুর্নীতিবিরোধী যেকোনো উদ্যোগই আংশিক সফল হবে।

গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বহু দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ করেছে, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করেছে। একইভাবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ এবং নাগরিক সংগঠনগুলো নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তবে তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সমালোচনাকে রাষ্ট্রবিরোধিতা হিসেবে নয়, বরং গণতান্ত্রিক জবাবদিহির অংশ হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন জরুরি। দুর্নীতিবিরোধী লড়াই কেবল আদালত বা তদন্ত সংস্থার কাজ নয়; এটি সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়। পরিবার, বিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে সততা, নাগরিক দায়িত্ব, জনসম্পদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নৈতিক নেতৃত্বের শিক্ষা আরও গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। একটি সমাজ তখনই দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে, যখন দুর্নীতিকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য আচরণ হিসেবে নয়, বরং লজ্জাজনক অপরাধ হিসেবে দেখা হয়।

ব্যবসায়ী সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। ঘুষ দিয়ে সুবিধা নেওয়া যেমন অপরাধ, তেমনি ঘুষ গ্রহণও অপরাধ। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্পোরেট সুশাসন, স্বচ্ছ হিসাবরক্ষণ এবং নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রকল্পগুলোতেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের পর নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। আন্তর্জাতিক সহায়তার ধরন বদলাচ্ছে, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে। এই বাস্তবতায় শুধু অবকাঠামো নির্মাণ বা প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য, নাগরিকদের কাছে জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুশাসনের উদাহরণ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

বিশ্বের যেসব দেশ দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করলে কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়—স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, শক্তিশালী দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, কার্যকর গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্রশাসন এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা। বাংলাদেশের জন্যও এর বাইরে কোনো শর্টকাট নেই। উন্নয়নের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগে কোনো বৈষম্য রাখা যাবে না।

সবশেষে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে বলা প্রয়োজন—দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক সরকারের, কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একার দায়িত্ব নয়। এটি পুরো জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব। সরকারকে আইন ও প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করতে হবে, বিচারব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে, প্রশাসনকে জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে, গণমাধ্যমকে সাহসী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নাগরিকদেরও দুর্নীতির সঙ্গে আপস না করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনার দ্বার আজও উন্মুক্ত। জনমিতিক সুবিধা, ভৌগোলিক অবস্থান, উদ্যোক্তা সমাজের বিকাশ এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর শক্তি—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দশকে দেশ আরও এগিয়ে যেতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে উন্নয়নের সঙ্গে সুশাসনের সমন্বয় ঘটাতে হবে। কারণ দুর্নীতি উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শত্রু, আর সুশাসন উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

অতএব, উন্নত বাংলাদেশ গড়ার নতুন সামাজিক চুক্তি হওয়া উচিত—দুর্নীতির প্রতি শূন্য সহনশীলতা, স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ, অর্থপাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা, ডিজিটাল স্বচ্ছতা এবং নৈতিক নেতৃত্বের বিকাশ। এই পথ সহজ নয়, কিন্তু এটাই বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ। উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন তখনই বাস্তবে রূপ নেবে, যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সততা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কেবল একটি আকাঙ্ক্ষা নয়; এটি আগামী প্রজন্মের প্রতি আমাদের জাতীয় অঙ্গীকার।

লেখক : অনলাইন ইনচার্জ, আমার বার্তা।

আমার বার্তা/মোহাম্মদ ইয়ামিন/সিআর/এমই

ভারতের লুক ইস্ট পলিসি-মিয়ানমার ও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে ব্যাপক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯১ সালে ভারত

বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে অবকাঠামোগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা আবারও ছড়িয়ে পড়েছে বাংলাদেশজুড়ে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও

আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে?

ফুটবলের চেয়ে জনপ্রিয় আর কি কিছু আছে? চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় নেচে ওঠে

ক্রিকেটের বাইরে ফুটবল, শুটিং ও অন্যান্য খেলায় বাণিজ্যিকীকরণ

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের কথা উঠলেই প্রথমেই আসে ক্রিকেটের নাম। এটি স্বাভাবিকও। গত দুই দশকে ক্রিকেট শুধু
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই ভাইয়ের, লক্ষ্মীপুরে শোকের মাতম

ফিফা নির্বাচনে ইনফান্তিনোর ওপর থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করলো জার্মানি

আবু সাঈদরা প্রতিদিন জন্ম নেন না, যুগে একজনই আসেন: প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকারী মোজাফফর আটক

হাসিনাকে আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে আনতে চায় সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা জোগায়: চসিক মেয়র

আল্লাহর কসম জীবন দিব কিন্তু চব্বিশ হারিয়ে যেতে দিব না: জামায়াত আমির

রায়পুরায় একসঙ্গে নদীতে গোসল করতে নেমে ৪ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ: উন্নত রাষ্ট্র গঠনের প্রথম শর্ত

বঙ্গোপসাগরের মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবি: ৫৩০ রোহিঙ্গা নিহত

বাংলাদেশকে হারিয়েও সন্তুষ্ট নয় জিম্বাবুয়ে

আন্দোলনের আড়ালে কিছু মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়

পাকিস্তানজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিল ইমরান খানের দল পিটিআই

শহীদ আবু সাঈদ জুলাই আন্দোলনের 'শহীদদের ইমাম': নাহিদ ইসলাম

জুলাই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাবে বিএনপি সরকার

পরিবেশ সুরক্ষায় ১১ লাখ গাছ রোপণ করবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

জুলাই আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারীরা আজীবন ইতিহাসে রয়ে যাবে: ইশরাক

শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করলেন বেরোবি উপাচার্য ও সহযোদ্ধারা

বোয়ালখালীতে লবণ কারখানায় আগুনে দগ্ধ ১০ শ্রমিক