যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বাংলাদেশি গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ আবির হোসেনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশে তার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, কাঁদতে কাঁদতে আবিরের মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
শুক্রবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশটির টেক্সাসের বিউমন্টে একটি দোকানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন। রোববার তার ভাই শেখ জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, শেখ আবির হোসেন বাড়ি সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত শেখ আজিজুল হাকিম। তার স্ত্রী সানজিদা আলম তাদের একমাত্র শিশুকন্যা আরশিয়াকে নিয়ে নিউইয়র্কে তার মা–বাবার সঙ্গে থাকতেন। আর আবির টেক্সাসের লামার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহকারী ছিলেন। পাশাপাশি একটি খাবারের দোকানে খণ্ডকালীন কাজ করতেন।
রোববার সকালে আবিরদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির পরিবেশ থমথমে। আবিরের মা আনজুয়ারা বেগম কাঁদছেন আর প্রলাপ করে বলছিলেন, আমার আবিরকে এনে দাও। আমি অন্তত তার মুখখানা দেখে মরতে চাই।
নিহতের ভাই শেখ জাকির হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ২০১৪ সালে শেখ আবির হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় হয়ে স্নাতকোত্তর পাস করেন। এরপর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেখান থেকে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ৩০ ডিসেম্বর বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান তিনি।
আবিরের স্ত্রী বরাত দিয়ে জাকির হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে লামার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সহকারী ছিলেন আবির। পাশাপাশি রাতে তিনি টেক্সাসের ক্রিস ফুড মার্ট নামের একটি দোকানে কাজ করতেন। শুক্রবার দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেয়ায় দুই দুর্বৃত্ত আবিরকে গুলি করে। তার মাথায় ও বুকে গুলি লাগে। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
আমার বার্তা/এমই