ই-পেপার শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

মহানবীর (সা.) জীবন থেকে ৭টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা

আমার বার্তা অনলাইন:
০৮ জুন ২০২৬, ১১:৫৯

মানব ইতিহাসের সবচেয়ে চমৎকার ভারসাম্যের উদাহরণ হলেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তিনি ছিলেন আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা, তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ নেতা। মানবীয় কোনো দুর্বলতা ছাড়াই তিনি ছিলেন একজন অনুকরণীয় মানুষ।

মহানবীর (সা.) সীরাত বা জীবনী পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় যে, মহানবীর জীবন-ভারসাম্য শুধু কোনো তাত্ত্বিক কথা ছিল না, বরং এটি ছিল একটি বাস্তব জীবনপদ্ধতি। পবিত্র কোরআনের সূরা আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে, তাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মাঝে রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র জীবনীতে এই ভারসাম্য ও মধ্যপন্থার অনবদ্য প্রতিফলন ঘটেছে। বিশৃঙ্খল এই পৃথিবীতে কীভাবে নিজের জীবনে স্থিতি ও ভারসাম্য বজায় রাখা যায়, তার জীবন থেকে এমন ৭টি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হলো:

১. ইবাদত ও জাগতিক দায়িত্বের সমন্বয়

মহানবী (সা.) সবসময় ইবাদতে মগ্ন থাকতেন। ইবাদতের পাশাপাশি তিনি শিখিয়েছেন ধর্ম মানুষের জন্য সহজ, কঠিন কিছু নয়। একবার তিনজন সাহাবী সারাজীবন রোজা রাখা, সারা রাত জেগে নামাজ পড়া এবং বিয়ে না করার সিদ্ধান্ত নিলে নবীজী (সা.) তাদের এই ভুল ধারণা সংশোধন করে দেন।

বুখারী শরীফের একটি হাদিসে তিনি বলেন, আমি রোজা রাখি আবার তা ভঙ্গও করি, নামাজ পড়ি এবং ঘুমাাই, আর নারীদের বিয়েও করি। সুতরাং যে আমার এই সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, সে আমার দলভুক্ত নয়।

২. মানুষের অধিকার রক্ষা

জীবনে ভারসাম্য আনার জন্য যার যা প্রাপ্য বা অধিকার, তা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। হজরত সালমান ফারসি (রা.) যখন দেখলেন যে হজরত আবু দারদা (রা.) অতিরিক্ত ইবাদত করতে গিয়ে নিজের শরীর ও পরিবারের প্রতি অবহেলা করছেন, তখন তিনি তাকে বাধা দেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সা.) সালমান (রা.)-এর এই বুদ্ধিমত্তাকে সমর্থন করে বলেন, তোমার শরীরের যেমন অধিকার আছে, তেমনি তোমার পরিবার এবং অতিথিদেরও তোমার ওপর অধিকার রয়েছে।

৩. দয়া ও কঠোরতার ক্ষেত্রে ভারসাম্য

রাসূলুল্লাহ (সা.) ছিলেন দয়ার মূর্ত প্রতীক, তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তিনি ছিলেন অবিচল। ব্যক্তিগত কোনো অপমানের জন্য তিনি কখনো প্রতিশোধ নেননি। কিন্তু যখনই কোনো দুর্বল মানুষের অধিকার খর্ব করা হতো কিংবা আল্লাহর নির্ধারিত সীমার অবমাননা হতো, তখন তিনি কঠোর অবস্থান নিতেন।

তার জীবন থেকে শেখা যায় যে, দয়া করার অর্থ সত্যের সাথে আপস করা নয়, আবার দৃঢ় থাকার অর্থ নিষ্ঠুরতা নয়।

৪. কোমলতার সাথে ভুল সংশোধন

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর শিক্ষা দেওয়ার মূল পদ্ধতিই ছিল মানুষকে তিরস্কার না করে সংশোধন করে দেওয়া। একবার এক বেদুইন মসজিদে নববীর ভেতরেই প্রস্রাব করে দিলে সাহাবীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কিন্তু নবীজী (সা.) তাদের শান্ত করেন। তিনি অপরাধীর আত্মসম্মান বজায় রেখে তাকে সঠিক নিয়মটি বুঝিয়ে দেন।

বর্তমান সময়ে সন্তান লালন-পালন বা শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও শাস্তি নয় বরং স্নেহের সাথে বোঝানোই হলো নববী আদর্শ।

৫. আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে শোক প্রকাশ

ইসলাম মানুষের স্বাভাবিক আবেগ-অনুভূতিকে দমন করতে বলে না, বরং তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়। নিজের শিশুপুত্র ইব্রাহিমের মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়েছিল।

তিনি আমাদের শিখিয়েছেন যে, প্রিয়জনের বিদায়ে চোখ অশ্রুসিক্ত হতে পারে এবং হৃদয় ব্যথিত হতে পারে, তবে তা যেন ঈমানের গণ্ডি পেরিয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের প্রতি কোনো ধরনের ক্ষোভ বা হতাশার রূপ না নেয়।

৬. পারিবারিক জীবনে ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা

পারিবারিক জীবনে মহানবী (সা.) ঘরের মানুষদের থেকে বিচ্ছিন্ন কেউ ছিলেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) সবসময় ঘরের কাজে স্ত্রীদের সাহায্য করতেন এবং সাংসারিক সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিতেন। গভীর ভালোবাসার পাশাপাশি পরিবারের সবার মাঝে শতভাগ সমতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখতেন তিনি।

৭. কৌশলগত নেতৃত্বে পরিকল্পনা ও আল্লাহর ওপর ভরসা

মহানবী (সা.) ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সাহসী মানুষ, কিন্তু তিনি কখনো হঠকারিতা দেখাননি। মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের সময় তিনি সম্ভাব্য সব ধরনের কৌশল ও পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন বিশ্বস্ত সঙ্গী বেছে নিয়েছিলেন, দক্ষ পথপ্রদর্শক ভাড়া করেছিলেন এবং শত্রুকে ফাঁকি দিতে ভিন্ন পথ ব্যবহার করেছিলেন। নিজের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিখুঁত পরিকল্পনা সম্পন্ন করার পরই তিনি গুহার ভেতর সাহাবীকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, চিন্তা করো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।

অর্থাৎ, নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা ও সঠিক পরিকল্পনার সাথে আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলের মেলবন্ধনই হলো প্রকৃত ভারসাম্য।

শেষ কথা

আজকের আধুনিক যুগে যে তরুণ প্রজন্ম নিজেদের জীবনে শান্তি ও স্থিতি খুঁজছে, তাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনই একমাত্র বাস্তবমুখী পথপ্রদর্শক।

সমাজ থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হয়েও কীভাবে একজন খাঁটি বিশ্বাসী হওয়া যায়, অহংকারী না হয়েও কীভাবে একজন শক্তিশালী নেতা হওয়া যায় এবং অন্যের দ্বারা প্রতারিত না হয়েও কীভাবে দয়ালু হওয়া যায়—তার অনন্য এক রূপরেখা পাওয়া যায় মহানবীর এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনদর্শনে।

আমার বার্তা /জেএইচ

সালাতুত তাসবিহতে তাসবিহের সংখ্যা কম-বেশি হলে করণীয়

নফল নামাজগুলোর মধ্যে সালাতুতু তাসবিহ অন্যতম। সালাতুতু তাসবিহের নামাজের ফজিলতের মধ্যে অন্যতম হলো বিগত জীবনের

জুমার দিন সুরা কাহাফ পড়লে মিলবে যে সুসংবাদ

সপ্তাহের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমাবার। ইসলামে এ দিনকে মুসলমানদের ঈদের দিন বলা হয়েছে। এই দিনে

হজের প্রাক-নিবন্ধনে হজযাত্রীদের যেসব তথ্য দিতে বলেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়

২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় হজযাত্রীদের যেসব তথ্য ও কাগজপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক,

পরকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন ৩ উপায়ে

পৃথিবীতে আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনে শুধু একটি বিষয়েরই শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে, আর তা হলো মৃত্যু। মৃত্যু
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিশ্বকাপ ফাইনালে ১১ রেকর্ডের সামনে লিওনেল মেসি

বন্যাদুর্গতদের সহায়তায় সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ অব্যাহত

বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরবে ইউএনএফপিএ

ভারতে যাত্রা শুরু প্রথম হাইড্রোজেনচালিত ট্রেনের, উদ্বোধন করলেন মোদি

হবিগঞ্জে তিন মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত ৩

নির্দিষ্ট সময়ে খাবার না খেলে শরীরে যেসব সমস্যা দেখা দেয়

ইন্টারনেটে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস, রাউটার হ্যাক হয়েছে বুঝবেন ৩ লক্ষণে

বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় পতন, দেশে ভরি কত?

তোপের মুখে আর্জেন্টাইন তারকার গোল উদযাপনের ছবি সরিয়ে নিলো চেলসি

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় আবারও ঊর্ধ্বমুখী তেলের দাম

লঘুচাপ এখন আরও শক্তিশালী, বৃষ্টি নিয়ে যা জানা গেল

ডিএমপির ২৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৪০১, মামলা ৫০

পাশার দান উল্টে দিয়ে নবম ব্যালন ডি’অর জয়ের পথে মেসি

মার্কিন চাপের মধ্যেই লেবাননে স্থায়ী সেনাপোস্ট করছে ইসরায়েল

বিশ্বকাপ ট্রফির পাশাপাশি নতুন যে পুরস্কার পাবে চ্যাম্পিয়নরা

ভিসানীতি কঠোর হচ্ছে : বিদেশি শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের

খুলনায় সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত: টিআইবি

মে মাসে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন ৪২৮৮ কোটি টাকা, খরচ বেড়েছে ১১ শতাংশ

২০২০ সালের মার্কিন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে চীন: ট্রাম্প

মঞ্চে সারজিস-পাটওয়ারী, ‘জয়বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করলেন এনসিপি নেতা