
আবিদ রহমান
ভবিষ্যৎ সমাজের কথা ভাবলে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা সবসময়ই সামনে আসে। তারুণ্য শুধু ভবিষ্যত নয়, বর্তমান সমাজেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সময়ের উদ্যম, জ্ঞান, সময় ও সৃজনশীলতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই উপকৃত হয়।
তরুণ ও বয়স্ক প্রজন্মের সম্পর্ক নিয়ে ভাবা জরুরি। কীভাবে এই দুই বয়সী গোষ্ঠী একে অন্যের পরিপূরক হতে পারে? কেন তরুণ ও বয়স্কদের মধ্যে সামাজিক সংহতি গড়ে তোলার কথা ভাবতে হবে? সমাজের উন্নতির জন্য তারা কীভাবে সামাজিক উদ্যোগে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে? এগুলো ভাবার মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ তারুণ্য শুধু ভবিষ্যতের বিষয় নয়, বর্তমানেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ।
সামাজিক সংহতি গড়ে তোলা : মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, যে আমাদের ছোটদের প্রতি দয়া করে না এবং বড়দের সম্মান করে না, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।(তিরমিজি)
সংক্ষিপ্ত অথচ তাৎপর্যপূর্ণ এই হাদিসে মহানবী (সা.) তরুণ ও বয়স্ক—এই দুই প্রজন্মের মধ্যে একটি আদর্শ সম্পর্কের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। মহানবী (সা.) বুঝিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ মুমিনের মধ্যে এই দুটি গুণ থাকা উচিত। এগুলো না থাকলেও ব্যক্তি মুমিন থাকেন, তবে আল্লাহর কাছে তার মর্যাদা কমে যায়।
মুমিন ছোটদের প্রতি দয়া দেখায়। তাদের ভালোবাসা, মনোযোগ, আস্থা ও ক্ষমা দিয়ে পাশে থাকে। অন্যভাবে বললে, এগুলো এমন কিছু গুণ, যা পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তরুণদের ক্ষমতায়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ভালোবাসা ও যত্নই এমন সম্পর্ক তৈরি করে, যা পরামর্শদানের উদ্দেশ্যকে কার্যকরভাবে এগিয়ে নেয়।
সক্ষম তরুণদের ওপর আস্থা রাখা তাদের ক্ষমতায়নের অন্যতম কার্যকর উপায়। মহানবী (সা.) তরুণ সাহাবিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়ে তাদের ওপর আস্থা রাখতেন। এর একটি দৃষ্টান্ত মুসআব ইবনে উমাইর (রা.)।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে মহানবী (সা.) তাকে ইয়াসরিবের ছোট মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি তাদের ইসলামের শিক্ষা দেন ও পথ দেখান। তার সফল দাওয়াত ও দিকনির্দেশনার ফলে অনেক মানুষ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়। একপর্যায়ে এর পথ ধরেই ইয়াসরিব পরবর্তী সময়ে মদিনা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।
তরুণদের ক্ষমতায়নের প্রক্রিয়ায় ভুল-ত্রুটি হতেই পারে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু এটুকু বলা যে, ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই—এমন ক্ষমাশীল আচরণ তরুণদের মধ্যে আশা ও এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে পারে। তরুণদের প্রতি এ ধরনের দয়াশীল আচরণ তাদের মধ্যে বড়দের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার সংস্কৃতিও গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
এটি তরুণ ও বয়স্ক দুই প্রজন্মের পারস্পরিক দায়িত্ব। ওপরের হাদিসের আলোকে তরুণদেরও নিজেদের মধ্যে বয়স্কদের প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তুলতে হবে। এতে তারা বিনয় ও মর্যাদার সঙ্গে বয়সের পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে।

