
পুরান ঢাকার ওয়ারীর জুরিয়াটুলি লেন এলাকায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লিজ নেওয়া সরকারি জমি নিয়ে ওঠা ‘হাতবদল’ ও অনিয়মের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত অভিযোগভিত্তিক প্রতিবেদনের পর স্থানীয় বাসিন্দা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, নিজে ব্যবহার করার শর্তে সরকারি জমির লিজ গ্রহণ করলেও পরবর্তীতে ওই জমি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ৪০ লাখ টাকার একটি চুক্তির মাধ্যমে জমির নিয়ন্ত্রণ অন্য ব্যক্তির কাছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমির একটি অংশ খাবারের হোটেল হিসেবে ভাড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে এবং সরেজমিনে ও তা দেখা যায়।
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর একাধিক ব্যক্তি জানান, সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিজের শর্ত কঠোরভাবে অনুসরণ করার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তার ব্যত্যয় ঘটছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত অবস্থা প্রকাশের দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি জমি ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে ব্যবহার বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলে তা শুধু লিজ চুক্তির লঙ্ঘনই নয়, রাষ্ট্রের সম্পদের অপব্যবহার হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জনাব মোঃ আব্দুর রাফিউল আলম এর নিকট বিষয় গুলো নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন "লিজ কৃত জমি অর্থের বিনিময়ে হস্তান্তরের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ এমনটা করে থাকে এবং সেটি প্রমানিত হয় তাহলে সেই লিজটি বাতিল করা হবে এবং অনৈতিক ভাবে অর্থ লেনদেনের সাথে সংশ্লিষ্ট কাউকেই লিজ দেওয়া হবে না।"
ঢাকা জেলার সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (এল.এ শাখা-১) জনাব উম্মে হাবিবা ফারজানা এবং সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (অর্পিত সম্পত্তি শাখা) জনাব মোঃ শরীফুল্লাহ উনাদের নিকট জানতে চাইলে তারা বলেন এই বিষয়টি পুনরায় তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জমি নিয়ে যেকোনো অনিয়মের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।
(চলমান অনুসন্ধান। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পরবর্তী পর্ব প্রকাশ করা হবে।)
আমার বার্তা/এমই

